হত্যাকাণ্ডের ৩১ বছর পর অভিযোগ গঠনের শুনানি

25

সোনারদেশ২৪: ডেস্কঃ

রাজধানীর সিদ্ধেশ্বরীর সগিরা মোর্শেদ হত্যা মামলার অভিযোগ গঠনের শুনানি ৯ নভেম্বর, সোমবার (আজ) অনুষ্ঠিত হবে। এর আগে গত ৭ অক্টোবর ঢাকা মহানগর দায়রা জজ কে এম ইমরুল কায়েশের আদালত নতুন এই দিন ধার্য করেন।

হত্যাকাণ্ডের ৩১ বছর পর ঘটনার রহস্য উদঘাটন করে চারজনের বিরুদ্ধে চলতি বছরের ১৪ জানুয়ারি ঢাকার নিম্ন আদালতে অভিযোগপত্র দেয় পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। এক হাজার ৩০৯ পৃষ্ঠার অভিযোগপত্র গত ৯ মার্চ আমলে নেন আদালত।

মামলার আসামিরা হলেন সগিরা মোর্শেদের ভাশুর ডা. হাসান আলী চৌধুরী, তার স্ত্রী সায়েদাতুল মাহমুদা ওরফে শাহীন, হাসান আলীর শ্যালক আনাস মাহমুদ ওরফে রেজওয়ান এবং ভাড়াটে খুনি মারুফ রেজা।

মামলার বিবরণে জানা যায়, সগিরা মোর্শেদ ১৯৮৯ সালে ভিকারুননিসা নূন স্কুলে মেয়েকে আনতে যান। বিকেল ৫টার দিকে সিদ্ধেশ্বরী রোডে মোটরসাইকেলে করে এসে তার হাতে থাকা সোনার চুড়ি ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে দুর্বৃত্তরা। নিজেকে বাঁচাতে দৌড় দিলে তার ওপর গুলি করা হয়। পরে হাসপাতালে নেওয়ার পথেই তিনি মারা যান।

এ ঘটনায় ওই দিনই রমনা থানায় মামলা করেন তার স্বামী আবদুস সালাম চৌধুরী। পরে মিন্টু ওরফে মন্টু ওরফে মরণের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দেয় পুলিশ।

১৯৯১ সালের ১৭ জানুয়ারি আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন ঢাকার প্রথম অতিরিক্ত দায়রা জজ আদালত। এ মামলায় সাতজনের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়। সাক্ষ্য গ্রহণকালে ঘটনার সঙ্গে মারুফ রেজার সম্পৃক্ততার তথ্য উঠে আসায় অধিকতর তদন্তের আবেদন করে রাষ্ট্রপক্ষ। আদালত ওই বছরের ২৩ মে অধিকতর তদন্তের নির্দেশ দেন।

ওই আদেশের বিরুদ্ধে মারুফ রেজা হাইকোর্টে আবেদন করেন। হাইকোর্ট ১৯৯১ সালের ২ জুলাই মামলার কার্যক্রম ছয় মাসের জন্য স্থগিত করেন। একই সঙ্গে মামলা বাতিল প্রশ্নে রুল জারি করা হয়। পরে ১৯৯২ সালের ২৭ আগস্ট হাইকোর্ট আরেক আদেশে রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত মামলার কার্যক্রম স্থগিত রাখার নির্দেশ দেন।

দীর্ঘ ২৮ বছর পর ২০১৯ সালের ২৬ জুন ওই স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করে আদেশ দেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে ৬০ দিনের মধ্যে অধিকতর তদন্ত সম্পন্ন করার নির্দেশ দেন। এ অবস্থায় পিবিআই তদন্তে নামে। এতে হত্যার সঙ্গে নিহত সগিরার স্বামীর ভাই ডা. হাসান আলী চৌধুরী, ভাইয়ের স্ত্রী সায়েদাতুল মাহমুদা শাহিন ও শ্যালক আনাস মাহমুদ রেজওয়ান এবং মারুফ রেজার নাম বেরিয়ে আসে।

পুলিশ গত বছরের ১০ নভেম্বর রেজওয়ান, ১৩ নভেম্বর হাসান আলী ও তার স্ত্রী এবং মারুফ রেজাকে গ্রেফতার করে। এ চারজনই আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। এরপর পিবিআই চলতি বছরের ১৪ জানুয়ারি চার আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করে।

You might also like