তালায় ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে ছাত্রলীগ নেতার আত্মহত্যা

28

সোনারদেশ২৪: ডেস্কঃ

সাতক্ষীরার তালায় ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে শেখ রিয়াদ হোসেন বাবু (২৫) ওরফে ত্যাড়া মুন্সী বাবু নামে এক ছাত্রলীগ নেতা আত্মহত্যা করেছেন।

শুক্রবার (৬ নভেম্বর) বিকেল ৪টার দিকে বিষপান করে আত্মহত্যা করেন তিনি।

বাবু তালা উপজেলার হরিশচন্দ্রকাটি গ্রামের শেখ মঞ্জুরুল রহমানের ছেলে। তিনি তালা উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক।

যদিও তার ফেসবুকের স্ট্যাটাস বিশ্লেষণ করে আত্মহত্যার কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

বিকেল ৪টার দিকে ফেসবুকে তার দেওয়া দীর্ঘ স্ট্যাটাসে যেমন পারিবারিক জীবনের নানা হতাশার কথা উঠে এসেছে, তেমনি রাজনৈতিক জীবনের চাওয়া পাওয়া নিয়ে হতাশার কথাও উঠে এসেছে।

তার স্ট্যাটাসটি হুবহু তুলে ধরা হলো- ‘‘নিজের কাছেই অবাক লাগছে। আজ এক সপ্তাহ হলো…, বিষের বোতলটা আমার বালিশের নিচে পড়ে আছে স্পষ্ট দেখতে পারছি। সবাই নির্বাক হয়ে গেছে। ছোটো ভাইটা পাগল প্রায়। জানি ছোট বোনটা খুব কাঁদছে। অনেক বড় ভুল করে ফেলেছি হয়তো! এমনটা তো হবার কথা ছিল না। জানেন? সেদিন খুব কেঁদেছিলাম আমি। যেদিন আমার হাতটা ছেড়ে দিয়েছিলেন সোহাগ দাদা। আমার বাঁচার শেষ আশাটুকু ছিলেন উনি। অঝরে কেঁদেছি সারা রাত এ ক’দিন। প্রতি রাতে বালিশ ভিজিয়েছি চোখের জলে। একটি বারও খোঁজ নাওনি কেমন ছিলাম আমি। আর, দোস্ত তোদের অনেক ধন্যবাদ। ফেসবুকে আমাকে নিয়ে লেখালেখি করছিস। তবে কি জানিস? বাস্তবে এতটা সময় তোরা যদি দিতি…তাহলে, না থাক কিছু না, জানি তোমরা খুব কাঁদছো। জানি খুব ভালোবাসতে আমাকে। হয়তো ঘৃণাও করতে অনেকে। যদি আর একটু খোঁজ করতে, আমার সমস্যাগুলো শুনতে…যদি আমার দিকে আর একটু খেয়াল রাখতে…যদি সবকিছু নির্ভয়ে বলতে পারতাম তোমাদের…তাহলে আজ হয়তো…ছোট বোন, কাঁদিস না লক্ষ্মীটি। হয়তো সব থেকে বড় অন্যায়টা তোর সাথে হলো! মাফ করে দিস তোর এ অপরাধী ভাইটিকে। জানি এ ভুলের কোনো ক্ষমা নেই। ভালো থাকুক ভালবাসার মানুষগুলো। দূর থেকে না হয় দেখলাম সবার হাসি মাখা মুখ। ভালো থেকো সবাই, হয়তো ফেরার ইচ্ছা থাকলেও চাইলে পারবো না। ক্ষমা করে দিয়ো তোমাদের সন্তানকে। এখানে খুব কষ্ট হচ্ছে আমার। সবাইকে ছেড়ে থাকাটা অনেক অনেক বেশি কষ্টের। অনেক বেশি ভুল করে ফেলেছি। ইশশ যদি আর একটু সময় পেতাম। কিন্তু সেটা তো আর সম্ভব না। ভালো থেকো সবাই। দূর থেকে দেখব সবাইকে। ভালো থাকুক ভালোবাসার মানুষগুলো। ক্ষমা করে দেবেন এ বাজে ছেলেটাকে। আমি নাকি খারাপ, হুম মানলাম, বাট হয়তো এমন কাউকে পাবেন না যে প্রমাণ করতে পারবে আমি খারাপ। কারণ আমি আজ অবধি এমন কোনো কাজ করিনি যে প্রমাণ করতে পারবেন। ছোটোবেলা থেকে আমার রক্তে মিশে আছে রাজনীতি। আমি বঙ্গবন্ধুর রাজনীতিতে বিশ্বাসী। তার দেখানো পথেই চলে আসছি আজ অবধি। চাকরি বা বিয়ে কোনোটাই করিনি ছাত্রলীগ করবো বলে। বাট আজ দলও টাকার কাছে জিম্মি। আমার জীবনে আর কি বাকি আছে, হয়তো বেঁচে থাকতাম দু’মুঠো ভাতের জন্যে। কিন্তু যখন অসহায় মানুষগুলো কাঁদে, আমি তাদের কান্না সহ্য করতে পারি না। আমার নেতা বঙ্গবন্ধুও পারেননি। তাই তো সে নিজের জীবন দিয়েছেন, তবুও হার মানেননি, লড়াই করে গেছেন অন্যায়ের বিপক্ষে সারাজীবন। আমিও অন্যায়কে প্রশ্রয় দিতে পারিনি, তাই আমি খারাপ। আমার জীবনে আজ অবধি যতো খারাপ সময় তার সবকিছু এ রাজনীতির জন্যে। ভবিষ্যতের কথা ভাবিনি কখনো, আজ জীবনের এ শেষ সময় ক্যানো জানি মনে হচ্ছে, এ ছাত্রলীগের নেশাটাই আমাকে শেষ করে দিলো। হারিয়েছি সব, ঘর, পরিবার, ভালোবাসার মানুষ, কাছের মানুষ সব সব কিছু হারিয়েছি এ রাজনীতির জন্যে। তাই চলে গেলাম এ নিষ্ঠুর স্বার্থের পৃথিবী থেকে, ক্ষমা করে দেবেন আমাকে। ”

বাবুর চাচা শেখ মেজবর বলেন, কি কারণে সে আত্মহত্যা করেছে, তা এ মুহূর্তে বলতে পারছি না।

তালা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেহেদী রাসেল বলেন, বিকেল ৪টায় ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে নিজের ঘরেই বিষপান করেন রিয়াদ হোসেন বাবু। টের পেয়ে স্বজনরা তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। কিছুক্ষণ পর সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। খবর পেয়ে তার মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। আমরা ধারণা করছি, তিনি পারিবারিক কলহের জের ধরে আত্মহত্যা করেছেন।

You might also like