সব জরিপেই বাইডেনের জয়ের আভাস

26

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ সোনারদেশ২৪:

মার্কিন নির্বাচনের ২ সপ্তাহ বাকি থাকতেই যুক্তরাষ্ট্রে হওয়া সব জরিপেই রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে পেছনে ফেলে এগিয়ে রয়েছেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জো বাইডেন।

আলাদাভাবে বড় বড় ইস্যুতে ট্রাম্পের চেয়ে বাইডেনের অবস্থানের পক্ষ নিচ্ছেন মার্কিন ভোটাররা। কে প্রেসিডেন্ট হচ্ছেন তা ৩ নভেম্বরের আগে নিশ্চিত করে বলা না গেলেও বিভিন্ন জরিপের ফল, আগাম ভোট ও নির্বাচনী তহবিলে বিপুল পরিমাণ অর্থ, ডেমোক্র্যাট শিবিরের কর্মকর্তাদের স্বস্তি দিচ্ছে। তবে নেট সিলভারের ফাইভথার্টিএইট ডটকম ব্লগ বাইডেনের জয়ের সম্ভাবনা দেখছে ৮৭ শতাংশ। অন্যদিকে ডিসিশন ডেস্ক এইচকিউ বলছে, এ সম্ভাবনা ৮৩.৫ শতাংশ। বিবিসি, সিএনএন ও নিউইয়র্ক টাইমস।

২০২০ সালের ডেমোক্র্যাট প্রাইমারি জো বাইডেনকে শক্ত অবস্থানে নিয়ে এসেছে। তিনি শেষ মুহূর্তে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের টিকিট পেয়েছেন তাই নয়, তিনি অর্জন করেছেন শ্বেতাঙ্গ ভোটারদের আস্থা। এর বাইরে তিনি ভোট পেয়েছেন সেসব ভোটারেরও, যারা কলেজ পাস করেননি। ২০১৬ সালের নির্বাচনে এ ধরনের ভোটাররাই ট্রাম্পকে প্রেসিডেন্ট বানিয়েছিলেন।

সিনে কলেজ পোলের জরিপে বলা হয়েছে, জো বাইডেন ৫০ শতাংশ ভোট পাবেন আর ডোনাল্ড ট্রাম্প পাবেন ৪১ শতাংশ। ৩ শতাংশ ভোট দুই প্রার্র্র্থীর মধ্যে ভাগাভাগি হয়ে যাবে। গুরুত্বপূর্ণ রাজ্যগুলোতে ট্রাম্পকে ৫৬ শতাংশ নারী ভোটার প্রত্যাখ্যান করেছেন। সাদা ভোটারদের ৫৩ শতাংশ যাদের কলেজের ডিগ্রি রয়েছে তারা বলছেন, ট্রাম্প ভালো প্রেসিডেন্ট নন।

পোলস্টারের জরিপে বলা হয়, ট্রাম্পের বিজয়ে মুখ্য ভূমিকা রেখেছিল উইসকনসিন, পেনসেলভেনিয়া ও মিশিগান। জরিপ বলছে, এ ৩ রাজ্যে এগিয়ে আছেন বাইডেন। ওহিও আর আইওয়ার মতো রিপাবলিকান রাজ্যেও তিনি বর্তমান প্রেসিডেন্টের কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে চলছেন। এ ২ রাজ্যে ২০১৬ সালে অতি সহজ জয় হয়েছিল ট্রাম্পের। কলেজে পড়া ৫৫ শতাংশের বেশি শ্বেতাঙ্গ ভোটারেরও সমর্থন আছে বাইডেনের। এর বাইরে ৫ ভাগের ৪ ভাগ আফ্রিকান-আমেরিকান তাকেই সমর্থন করেন।

ফক্সের জরিপে বলা হয়, ২০১৬ সালে ক্লিনটনের বিজয় করা ২০ রাজ্য যদি বাইডেন ধরে রাখতে সক্ষম হন ও পেনসেলভেনিয়া, উইসকনসিন ও মিশিগান পুনরুদ্ধার করেন, সান বেল্প অথবা ওহিও বা আইওয়াতে জিততে না পারলেও তিনিই হবেন পরবর্তী মার্কিন প্রেসিডেন্ট। ২০১৬ সালে ডেমোক্র্যাটদের স্তব্ধ করে মিশিগান, উইসকনসিন ও পেনসেলভেনিয়াতে বিজয় পান ট্রাম্প।

বিশেষত কলেজে না যাওয়া শ্বেতাঙ্গদের সমর্থন পুরোপুরিই পেয়েছেন তিনি। যা এ ৩ রাজ্যের মূল ভোটার গোষ্ঠী। রাস্টবেল্ট নামে পরিচিত এ ৩ রাজ্যে আবারও ডেমোক্র্যাটরা জনপ্রিয়তা ফিরে পেয়েছে বলে সব জরিপই বলছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, হিলারি ক্লিনটন নারী হওয়ায় এ রাস্টবেল্টের ভোট পাননি। এ সমস্যা বাইডেনের নেই। তাই তুলনামূলক কম শিক্ষিত ভোটারদের ভোট পেতেও সমস্যা হবে না তার। আর শিক্ষিত ভোটাররা তাকে এমনিতেই সমর্থন দিচ্ছেন।

পেনসিলভানিয়ায় বাইডেনের এগিয়ে থাকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। নির্বাচনে বিজয়ের জন্য ট্রাম্প ও বাইডেন এ রাজ্যটিকে খুবই গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন। এ রাজ্যে রয়েছে ২০টি ইলেকটোরাল কলেজ ভোট। বাইডেন এ রাজ্যে ৪৯.৬ শতাংশ সমর্থন নিয়ে এগিয়ে রয়েছেন। এখানে ট্রাম্পের সমর্থন ৪৪.৫ শতাংশ। এছাড়া মিশিগানে বাইডেন ৫০.২ শতাংশ এবং ট্রাম্প ৪৩.২ শতাংশ, উইসকনসিনে বাইডেন ৪৯.২ শতাংশ এবং ট্রাম্পের ৪২.৫ শতাংশ সমর্থন রয়েছে। তবে ওহাইতো ট্রাম্প এগিয়ে রয়েছেন ৪৭ শতাংশ সমর্থন নিয়ে। এখানে বাইডেনের সমর্থন ৪৫.৪ শতাংশ। গত নির্বাচনে ট্রাম্প এখানে বেশ বড় ব্যবধানে জয়ী হয়েছিলেন।

ডেমোক্র্যাটরা এবার নির্বাচনী প্রচারাভিযানে বিপুল পরিমাণ চাঁদা তুলেছে। আর্থিক দিক দিয়ে সুবিধাজনকে অবস্থায় থাকায় ভোটের ঠিক আগের সপ্তাহগুলোয় বাইডেন তার প্রচারণা ও বার্তা দিয়ে রেডিও-টিভি ছেয়ে ফেলতে পারবেন।

You might also like