পলাতক খুনিদের ফেরাতে কূটনৈতিক তৎপরতা অব্যাহত: কাদের

11

সোনারদেশ২৪: ডেস্কঃ

বিভিন্ন দেশে পালিয়ে থাকা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের খুনিদের ফিরিয়ে আনতে জোরদার কূটনৈতিক তৎপরতা অব‌্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) দুপুরে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউতে এক আলোচনা সভায় ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে যুক্ত হয়ে বক্তব্য রাখতে গিয়ে এ কথা বলেন তিনি। বাংলাদেশ মহিলা আওয়ামী লীগ আয়োজিত এ সভায় ওবায়দুল কাদের তার সংসদ ভবনের বাসা থেকে যুক্ত হন।

তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা আছেন বলেই ১৫ আগস্ট হত্যাকাণ্ডের বিচার হয়েছে, জাতির কলঙ্ক মোচন হয়েছে। সেই আত্মস্বীকৃত খুনিরা শত আশ্রয়-প্রশ্রয়েও প্রটেকশন পায়নি জনতার কাছে। আদালতের রায়ে ফাঁসিতে ঝুলেছে খুনিরা। জনগণের ধিক্কার আর ঘৃণাই আজ খুনিদের প্রাপ্য।’

‘যারা লুকিয়ে আছেন তাদেরও ফিরিয়ে এনে ফাঁসির রায় কার্যকর করা হবে, ইনশাল্লাহ। ইতোমধ্যে জোরদার করা হয়েছে কূটনৈতিক তৎপরতা।’

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘একটি স্বাধীন দেশে সপরিবারে জাতির পিতার হত্যাকাণ্ডকে মধ্যযুগীয় কায়দায় ‘ডকট্রিন অভ নেসেসিটি’র কথা বলে যারা রাষ্ট্রীয়ভাবে বৈধতা দিয়েছিল, তারা আজ অপপ্রচার চালায় দেশে ন্যায় বিচার নেই বলে। ন্যায় বিচার তো দূরের কথা, ২১ বছরতো আমরা বিচারই চাইতে পারিনি। সে অধিকার পর্যন্ত কেড়ে নেওয়া হয়েছিল। তারা আজ মানবাধিকারের বুলি আওড়ায়।’

‘কারা একুশে আগস্ট গ্রেনেড হামলা চালিয়েছিল বঙ্গবন্ধু এভিনিউর সন্ত্রাস বিরোধী সমাবেশে? সেদিন প্রাইম টর্গেট ছিল বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা। ১৯৭৫ এর বুলেট ২০০৪ সালে ফিরে এসেছে গ্রেনেড হয়ে। যখন জজ মিয়া নাটক সাজিয়েছিলেন, আলামত নষ্ট করেছিলেন তখন আপনাদের ন্যায় বিচার কোথায় ছিলো?।

খুনিরা তাদের ষড়যন্ত্রের জাল এখনও ছড়িয়ে রেখেছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘দেশে বিদেশে এখনও ষড়যন্ত্র চলছে। তলে তলে প্রস্তুতি নিচ্ছে উগ্র সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠী। এদেশের রাজনীতিতে হত্যা, সন্ত্রাস, ষড়যন্ত্র আর সাম্প্রদায়িকতার বিস্তার তাদের হাত ধরেই। এখনও তারা সে অপচর্চা অব্যাহত রেখেছে। তাই বলবো, ১৫ আগস্টের নির্মম হত্যাকাণ্ড ও একুশে আগস্টের গ্রেনেড হামলা একই ষড়যন্ত্রের ধারাবাহিকতা।’

বিএনপির সমালোচনা করে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘বিএনপি দুর্নীতির কথা বলে। আপনাদের সময় পরপর ৫বার দুর্নীতিতে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ান হয়ে দেশের মানুষকে লজ্জা আর হতাশার সাগরে ডুবিয়েছিলেন। দুর্নীতির বরপুত্র হাওয়া ভবনের নামে প্রতিষ্ঠা করেছিল এক খাওয়া ভবন। কী খাননি আপনারা? খাম্বা থেকে শুরু করে এতিমের টাকা পর্যন্ত খেয়েছেন। আর আজ দুর্নীতির কথা বলেন!’

তিনি বলেন, ‘এদেশের রাজনীতিতে বঙ্গবন্ধু পরিবার সততার উদাহরণ। শেখ হাসিনা যেমনি অনিয়ম আর দুর্নীতির বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থান নিয়েছেন তেমনি যে কোনো হত্যাকাণ্ডের বিচারেও তিনি অপরাধীর দলীয় পরিচয় খোঁজেননি। অপরাধীকে অপরাধী হিসেবেই দেখেছেন।’

‘শেখ হাসিনার সরকার নারীবান্ধব’ উল্লেখ করে বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা জানান মন্ত্রী।

মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সাফিয়া খাতুনের সভাপতিত্বে আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দীন নাসিম, দপ্তর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া, মহিলা বিষয়ক সম্পাদক মেহের আফরোজ চুমকি, মহিলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মাহমুদা বেগম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

You might also like