‘করোনা টিকা আগামী বছরের মাঝামাঝির আগে সহজলভ্য হবে না’

28

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ সোনারদেশ২৪:

নভেল করোনাভাইরাসের দাপটে নাজেহাল বিশ্ব অপেক্ষায় রয়েছে কবে আসবে টিকা। কিন্তু বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) বলছে, আগামী বছরের মাঝামাঝির আগে করোনাভাইরাসের টিকা পর্যাপ্ত পরিমাণে মিলবে কিনা, তা এখনো অনিশ্চিত।

ডব্লিউএইচওর মুখপাত্র মার্গারেট গতকাল শুক্রবার বলেন, ‘যেসব সম্ভাব্য টিকার এখন পর্যন্ত ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল হয়েছে, সেগুলো কোভিড-১৯ মোকাবিলায় কতটা দক্ষ, সে বিষয়ে কোনো সংস্থাই ‘স্পষ্ট ইঙ্গিত’ দেয়নি।’ তাই চূড়ান্তভাবে বাজারে আসার আগে সেসব ভ্যাকসিন বা টিকার কার্যকারিতা এবং সেগুলো কতটা নিরাপদ, তা আরও ভালোভাবে খতিয়ে দেখা প্রয়োজন বলে মনে করেন মার্গারেট।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার এ বক্তব্যে নতুন করে উদ্বেগে ভুগছে সাধারণ মানুষ। বিশ্বজুড়ে বেশ কয়েকটি করোনা টিকা আশা দেখালেও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মাপকাঠিতে এখনো সেগুলো নিখুঁত নয়।

ডব্লিউএইচওর মুখপাত্র মার্গারেট হ্যারিস এদিন বলেন, যে টিকাগুলো তৈরির চেষ্টা চলছে, তার কোনোটিই অন্তত ৫০ শতাংশ ক্ষেত্রে কার্যকর বলে প্রমাণিত হয়নি। ফলে আগামী বছরের মাঝামাঝির আগে ব্যাপক হারে টিকা সরবরাহ করা সম্ভব হবে না।

গত আগস্টে মানুষের শরীরে দুই মাসের কম সময় পরীক্ষার পর রাশিয়া একটি করোনা টিকা এনেছে, যার নাম ‘স্পুটনিক ভি’ বা ‘স্পুটনিক ফাইভ’। কিন্তু বেশিরভাগ দেশের বিশেষজ্ঞরাই রাশিয়ার টিকাটির কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। রাশিয়া কোভিড টিকা প্রয়োগের অনুমতি দেওয়ার পর থেকেই বিশ্বজুড়ে নানা মহলে ওই টিকা বিশ্বাসযোগ্যতা এবং নিরাপত্তার বিষয় নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।

ডব্লিউএইচওর মুখপাত্র মার্গারেট হ্যারিস গতকাল বলেন, ‘কোনো টিকার ক্ষেত্রে তৃতীয় পর্যায়ের পরীক্ষায় সময় বেশি লাগবে। আমাদের দেখতে হবে, কোনো প্রতিষ্ঠান বা সংস্থা যে টিকা তৈরি করছে, তা করোনা মোকাবিলায় কার্যকর কিনা। মানুষের শরীরে তা প্রয়োগ করা নিরাপদ কিনা।’
এদিকে গতকাল শুক্রবার মেডিকেল সাময়িকী ল্যানসেটের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, রাশিয়ার ‘স্পুটনিক ফাইভ’ টিকাটি নিয়ে ৪২ দিন করে দুটি ট্রায়াল চালানো হয়েছে। প্রতিবারই অংশ নিয়েছেন ৩৮ জন সুস্থ ও প্রাপ্তবয়স্ক স্বেচ্ছাসেবী। পরীক্ষায় তাদের মধ্যে কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা যায়নি; বরং তাদের শরীরে অ্যান্টিবডি তৈরি হওয়ার ব্যাপারে নিশ্চিত হওয়া গেছে।

You might also like