দখলমুক্ত হলো বোয়ালমারী কুঠিবাড়ি সরকারি খালটি

32

সোনারদেশ২৪: ডেস্কঃ

ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার চতুল ইউনিয়নের কুঠিবাড়ি সরকারি খালটি দীর্ঘদিন প্রভাবশালীদের দখলে থাকা অবস্থা থেকে উন্মুক্ত করেছে প্রশাসন।

স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তির লিখিত অভিযোগপত্রের মাধ্যমে জানা যায়, উপজেলার ৬নং চতুল ইউনিয়নের ১নং খতিয়ানভুক্ত ১০১৯৮নং দাগে ১ একর ৮ শতাংশ জায়গাজুড়ে কুঠিবাড়ি খাল রয়েছে।

গত কয়েক বছর ধরে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান শরীফুজ্জামান লিটু শরীফ তার মৌখিক নির্দেশে তার পছন্দের ব্যক্তিদের ইজারা দেন। যা সরকারিবিধির পরিপন্থী। খালটি প্রভাবশালীদের হাত থেকে দখলমুক্ত করতে স্থানীয় প্রশাসনের কাছে আবেদন জানান তারা।

এ বিষয়ে ফরিদপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক ( রাজস্ব) মোহাম্মদ আসলাম মোল্লা জানান, ২০ একরের বেশি সরকারি জলাধার হলে সেটি জেলা প্রশাসন ব্যবহারের অনুমোদন দেয়, কিন্তু এর কম হলে স্থানীয় নির্বাহী অফিসার উপজেলা পরিষদের সঙ্গে সমন্বয় করে ইজারার অনুমোদন দেবে। তবে কোনো ইউপি চেয়ারম্যান কোনোভাবে অনুমোদন দিতে পারে না।

চতুল ইউনিয়নের ভূমি কর্মকর্তা মো. রাসেল খান জানান, কতিপয় ব্যক্তির অভিযোগের প্রেক্ষিতে তদন্তে দেখা যায়, কুঠিবাড়ি খালটি ১ একর ৮ শতাংশ জায়গা সরকারি। যা চতুল ও শেখর ইউনিয়নের মৌজায় পড়েছে।

কুঠিবাড়ি খালটি দখলে থাকা জাসদ ফকির জানান, ইউপি চেয়ারম্যানের নির্দেশে আমরা গত কয়েক বছর খালটি ব্যবহার করছি।

তিনি বলেন, খাল ব্যবহারের বিপরীতে বছরের যে অর্থ প্রদান করি তা স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের মাধ্যমে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে উন্নয়নে ব্যয় করা হয়।

এ বিষয়ে চতুল ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শরীফুজ্জামান লিটু শরীফ জানান, ওই খালটি আমার পূর্বের চেয়ারম্যানরা যেভাবে ব্যবহারের অনুমোদন দিতো আমি সেভাবেই দিয়েছি।

তিনি বলেন, খাল থেকে যে অর্থ আদায় হয় সেটি ওই এলাকার ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে উন্নয়নকাজে ব্যবহার হয়। আমি বা আমার পরিষদ সেখান থেকে কোনো সুবিধা নেয়নি।

বোয়ালমারীর নির্বাহী কর্মকর্তা ঝোটন চন্দ এ বিষয়ে বলেন, সরকারি খাল দখল নিয়ে জটিলতা সৃষ্টি হলে আমি উভয় পক্ষকে ডেকে নির্দেশনা দিয়েছি কেউ সেখানে যাবে না। সরকারি সম্পদ প্রশাসনই পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবে, অন্য কেউ নয়।

You might also like