আজ রোহিঙ্গাদের ছাড়াই মিয়ানমারে নির্বাচন

29

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ সোনারদেশ২৪:

জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা অগ্রাহ্য করে রোহিঙ্গাদের ছাড়াই আজ রবিবার মিয়ানমারে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। নির্বাচনে অং সান সু চির নেতৃত্বাধীন ন্যাশনাল লীগ ফর ডেমোক্রেসি (এনএলডি) আবারও জয়ী হবে বলে বিশ্লেষকরা ধারণা করছেন। এটাও ধারণা করা হচ্ছে যে দেশটিতে সামরিক বাহিনীর প্রভাব আগের মতোই থাকবে।

নির্বাচনে সু চির দল এনএলডির প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ইউনিয়ন সলিডারিটি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টি। দলটি ওই দেশের সেনাবাহিনীর সমর্থনপুষ্ট বলে মনে করা হয়। সম্প্রতি ইউএসডিপির নেতা উ থান থে গণমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন যে রোহিঙ্গাদের নিয়ে মিয়ানমারের দুঃখিত হওয়ার কিছু নেই।

রোহিঙ্গাদের ওপর ‘জেনোসাইড’ চালানোর অভিযোগে নেদারল্যান্ডসের দ্য হেগের আন্তর্জাতিক ন্যায়বিচার আদালতে (আইসিজে) মিয়ানমারের বিরুদ্ধে মামলা চলছে। গত জানুয়ারি মাসে আইসিজে তার অন্তর্বর্তী আদেশে মিয়ানমারকে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে ‘জেনোসাইড’ থেকে সুরক্ষার উদ্যোগ নিতে নির্দেশনা দিয়েছিল। মিয়ানমারে ভোটাধিকার, নাগরিকত্বসহ সব অধিকার কেড়ে নেওয়ার পর ‘নির্মূল অভিযানের’ নামে ১০ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গাকে হত্যাযজ্ঞ, ধর্ষণ, নির্যাতন-নিপীড়নের মাধ্যমে তাদের নিজ দেশ ছাড়তে বাধ্য করাকে পরিকল্পিত ‘জেনোসাইড’ হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে আইসিজের মামলায়। রোহিঙ্গাদের পরিস্থিতির কোনো উন্নতি না হওয়ার বিষয়টি আইসিজের অন্তর্বর্তী আদেশের লঙ্ঘন বলে বিবেচিত হতে পারে। বিশেষ করে, আইসিজের আদেশ ও বিশ্বসম্প্রদায়ের নজরদারির মধ্যেও সংখ্যালঘু রোহিঙ্গাদের নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ না দেওয়ার বিষয়টি তাদের আরো একঘরে করার উদ্যোগ বলে এরই মধ্যে অভিযোগ উঠেছে।

বাংলাদেশসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় মিয়ানমারের নির্বাচনের দিকে নিবিড় দৃষ্টি রাখছে। কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানায়, রোহিঙ্গা ইস্যুতে মিয়ানমারের নতুন সরকারের মনোভাব কেমন হয় সেটি খুব গুরুত্বপূর্ণ। রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন নিয়ে বৈঠক আয়োজনের উদ্যোগ নিতে চীন প্রস্তুত আছে। প্রতিবেশী ভারতেরও অবস্থান রোহিঙ্গাদের টেকসই প্রত্যাবাসনের পক্ষে।

আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের বড় একটি অংশ রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে মিয়ানমারের ওপর চাপ বাড়ানোর পক্ষে অবস্থান নিচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র মিয়ানমারকে রোহিঙ্গা ইস্যুতে চাপে রেখেছে। নির্বাচনের পর মিয়ানমারের নতুন সরকারের ওপর এ চাপ আরো বাড়বে বলে কূটনৈতিক সূত্রগুলো ধারণা করছে।

মিয়ানমারে আজকের নির্বাচন কতটা অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক হবে, তা নিয়ে এরই মধ্যে সংশয় সৃষ্টি হয়েছে। সংঘাতের আশঙ্কায় সংখ্যালঘু অধ্যুষিত অনেক এলাকায় নির্বাচন বাতিল করা হয়েছে। ২০১৫ সালে মিয়ানমারের নির্বাচনে নানা ত্রুটি থাকলেও সামরিক শাসন-পরবর্তী প্রথম নির্বাচন হিসেবে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে গ্রহণযোগ্য বিবেচিত হয়েছিল। এবারের নির্বাচন ২০১৫ সালের চেয়েও ত্রুটিপূর্ণ হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

নির্বাচনের আগে রোহিঙ্গাসহ সংখ্যালঘুদের ভোট প্রক্রিয়া থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ মিয়ানমারের সমাজে, সরকার গঠন প্রক্রিয়ায় তাদের কোনো অংশগ্রহণ থাকছে না। নির্বাচনী প্রচারেও সংখ্যালঘুবিরোধী উসকানি ছিল। সরকার বা কর্তৃপক্ষের সমালোচনা করলেই রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের আটক করা হয়েছে।

‘বার্মা ক্যাম্পেইন ইউকে’ নামের একটি সংগঠন গতকাল শনিবার অভিযোগ করেছে, অং সান সু চির সরকার নির্বাচনের প্রাক্কালে ২২৯ জন রাজনীতিককে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠিয়েছে। ৫৮৪ জন রাজবন্দি বর্তমানে মিয়ানমারের কারাগারে বিচারের অপেক্ষায় আছেন। এর বাইরে এক লাখেরও বেশি রোহিঙ্গাকে মিয়ানমারে বন্দিশিবিরে আটকে রাখা হয়েছে। আজকের নির্বাচনে তাদের কেউই ভোট দিতে পারবে না। সংগঠনটির অভিযোগ, সু চির সরকার ক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও নির্বাচনের আগে রাজনীতিবিদদের মুক্তি দেয়নি।

সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের ওপর সবচেয়ে বড় ধরনের দমন-পীড়ন চলেছে সু চির সরকারের আমলে। রোহিঙ্গাদের জেনোসাইড থেকে সুরক্ষায় স্টেট কাউন্সেলর হিসেবে সু চি তাঁর প্রভাব কাজে লাগাননি। পরে আইসিজেতে মামলায় তিনি জেনোসাইডের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

You might also like