মার্কিন নির্বাচনের শেষ বেলায় ‘মেল ইন’ ভোটের গুরুত্ব বৃদ্ধি

26

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ সোনারদেশ২৪:

বৈশ্বিক মহামারি করোনার আক্রমণে নাকাল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের শেষ বেলায়  ‘মেল ইন’ ভোটের গুরুত্ব বৃদ্ধি পেয়েছে। মার্কিন দেশে ‘মেল ইন’ ভোট হলো ডাকযোগে ভোট দেওয়ার বিধান।

নর্থ ক্যারোলিনার প্রায় ১৫ লাখ ভোটার এবার ডাকযোগে ভোট দেওয়ার আবেদন করেছেন। ২০১৬ সালের তুলনায় এই সংখ্যা প্রায় ছয়গুণ বেশি।

আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যমগুলোর তথ্যানুযায়ী, করোনা সংকটের প্রেক্ষাপটে চলতি ২০২০ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে সংখ্যাগুরু ভোটারই ডাকযোগে ভোট দেবেন বলে মনে করা হচ্ছে। সে কারণে একাধিক রাজ্য ভোটারের কাছে ‘মেল ইন’ ভোটের ব্যালট পেপার পাঠিয়েছে।

কিছু কিছু অঙ্গরাজ্যে নির্বাচনের দুই সপ্তাহ আগে ভোট গণনা করা হয়। বাকি রাজ্যে নির্বাচনের পর সেই কাজ করা হয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, রেকর্ড সংখ্যক ডাকযোগে ভোটের কারণে নির্বাচনের রাতে সার্বিক চিত্র উঠে আসবে না। কারণ অনেক রাজ্যে নির্বাচনের দিন পেরুনোর পরেও ভোট গণনা চলে।

মার্কিন নির্বাচনী পদ্ধতিতে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ভোটের দিন ৩ নভেম্বর। তবে কোনো কোনো রাজ্যে পরের দিন (৪ সেপ্টেম্বর) থেকেই ডাকযোগে ভোটগ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু হচ্ছে। এমন একটি রাজ্য নর্থ ক্যারোলিনা। এ রাজ্যের মানুষকে ‘মেল ইন’ ভোটের কাগজপত্র সবে পাঠানো হচ্ছে।

‘মেল ইন’ ভোট নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে বিতর্ক আছে। আছে পক্ষ ও বিপক্ষও। দলগতভাবে রিপাবলিকানদের পছন্দ নয় এই ‘মেল ইন’ ব্যবস্থা। দলের প্রার্থী ও বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ‘মেল ইন’ ভোটের চরম বিরোধী।

রিপাবলিকানদের অভিযোগ, ‘মেল ইন’ প্রক্রিয়ায় নির্বাচনী দুর্নীতি ও ভোট কারচুপির আশঙ্কা সমধিক। তারা চান, ভোটের রাতেই গণনা শেষ করতে হবে। কিন্তু সেটা হচ্ছে না। বিদ্যমান নিয়মে এবং বিশেষত করোনা মহামারির বিষয় বিবেচনা করে দুটি অঙ্গরাজ্যে ডাক ভোট গণনার মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে।

খোদ মার্কিন উচ্চ আদালতের ঘোষণায় বলা হয়েছে, নর্থ ক্যারোলিনার জন্য অতিরিক্ত সময় অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। রায়টি আসে বিচারপতিদের ৫-৩ ভোটে। নর্থ ক্যারোলিনার বোর্ড অব ইলেকশন ডাক যোগে ভোটগ্রহণের সময় অনুমোন করলে তার বিরুদ্ধে নিম্ন আদালতে যায় রিপাবলিকান শিবির। নিম্ন আদালতের সিদ্ধান্ত বহাল রাখে উচ্চ আদালত, যা রিপাবলিকানদের জন্য বড় ধরনের আইনগত পরাজয়।

মার্কিন ফেডারেল ব্যবস্থায় অঙ্গরাজ্যের আইনে জরুরি পরিস্থিতি বিবেচনায় নির্বাচন সংক্রান্ত নিয়মকানুন সাময়িকভাবে বদলানোর ক্ষমতা নির্বাচনী কর্তৃপক্ষের রয়েছে। গত তিন বছরে নর্থ ক্যারোলিনা উপকূলে হারিকেনের আঘাতের পর দুইবার ডাকযোগে ভোট পাঠানোর নিয়ম বদলানোর উদাহরণ রয়েছে। আদালত সে ঐতিহ্যই বহাল রেখেছে আর রিপাবলিকানরা এর বিরুদ্ধে আইনি লড়াই করে হেরেছে। এতে ডেমোক্র্যাট শিবিরে উল্লাসের আমেজও লক্ষ করা গেছে।

যে নর্থ ক্যারোলিনা রাজ্যের ভোট ব্যবস্থার বিরুদ্ধে লড়ে গিয়ে হেরেছে রিপাবলিকানরা, চার বছর আগের বিগত নির্বাচনে এ অঙ্গরাজ্যতেই রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক লাখ ৭৩ হাজার ৩১৫ ভোটে জয়লাভ করেছিলেন। কিন্তু এবার ট্রাম্প ও বাইডেনের মধ্যে কঠোর প্রতিদ্বন্দ্বিতার আভাষ পাওয়া যাচ্ছে। জনমত জরিপেও এগিয়ে আছেন বাইডেন। মনে করা হচ্ছে, যে রেকর্ড সংখ্যক ভোটার ‘মেল ইন’ পদ্ধতিতে ভোট দিচ্ছেন, তারা পদ্ধতিটির বিরোধিতা করায় রিপাবলিকানদের প্রতি নাখোশ এবং ডেমক্রেটদের প্রতি স্বভাবতই সহানুভূতিশীল হবেন।

You might also like