ঈশ্বরদীতে মাদ্রাসার শিশুকে শিকলে বেঁধে নির্যাতন, আটক ৩

26

সোনারদেশ২৪: ডেস্কঃ

পাবনার ঈশ্বরদীর একটি মাদ্রাসায় ৩ দিন ধরে শিকল দিয়ে বেঁধে রেখে মোবারক নামে এক শিশু শিক্ষার্থীকে নির্যাতন করা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। উপজেলার সাহাপুর ইউনিয়নের কদিমপাড়া বুড়ো দেওয়ান নূরানী হাফেজিয়া মাদ্রাসায় এ ঘটনা ঘটে।

শুক্রবার জুম্মার নামাজের সময় ওই শিক্ষার্থী পালিয়ে যাওয়ার পর ঘটনা ফাঁস হয়। এ নিয়ে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। নির্যাতনের শিকার শিক্ষার্থী মোবারক আটঘোরিয়া উপজেলার চাঁদভা ইউনিয়নের বাঁচামরা গ্রামের নজরুল ইসলামের ছেলে।

এদিকে খবর পেয়ে মাদ্রাসার অধ্যক্ষ হাফেজ আব্দুল মমিন, শিক্ষক পিয়ারুল ইসলাম ও সিনিয়র শিক্ষার্থী সাব্বির আহম্মেদকে শুক্রবার রাতেই থানা হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ।

নির্যাতিত শিক্ষার্থী মোবারকের বাবা নজরুল ইসলাম ও মা মুর্শিদা খাতুন জানান, মোবারক মাদ্রাসা হতে পালিয়ে দাশুড়িয়ায় খালার বাড়িতে যায়। সেখান হতে বুঝিয়ে তাকে গত বুধবার মাদ্রাসায় ফেরত পাঠানো হয়। মাদ্রাসায় যাওয়ার পর মোবারককে লোহার শিকল দিয়ে বেঁধে রেখে নির্মমভাবে পেটানো হয়।

শিশু মোবারক সাংবাদিক ও পুলিশের উপস্থিতিতে জানায়, তিন দিন শিকল দিয়ে বেঁধে মারধর করা হয়েছে। এছাড়াও ৭ বার মাটিতে থুতু ফেলে সেটা তাকে দিয়ে চাটানো হয়েছে। পালিয়ে যাওয়ার কারণ সম্পর্কে মোবারক জানায়, মাদ্রাসায় প্রতিদিনই তাকে মারধর করা হতো। এইজন্য সে পালিয়ে গিয়েছিল।

ঈশ্বরদী কিন্ডারগার্টেন অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি লুৎফর রহমান জানান, শুক্রবার জুম্মার নামাজ আদায়ের সময় মোবারক পালিয়ে যায়। শিকল বাঁধা অবস্থায় তাকে এলাকার লোকজন উদ্ধার করে তাদের খবর দেয়।

পুলিশ জানায়, মোবারকের পেছন দিকে কোমরের নিচে পা পর্যন্ত আঘাতের চিহ্ন দেখা গেছে।

মাদ্রাসার অধ্যক্ষ আব্দুল করিম জানান, তিনি ছিলেন না, ছুটিতে গিয়েছিলেন। তার ছুটি মাদ্রাসা কমিটির সভাপতির অনুমোদন ছিলো কিনা প্রশ্ন করলে তিনি অসংলগ্ন কথাবার্তা বলেন। এ সময় তিনি শিক্ষার্থীদের দেখভালের দায়িত্ব শিক্ষক পিয়ারুল ইসলামের ওপর বলে জানান।

মাদ্রাসার শিক্ষক পিয়ারুল ইসলাম জানান, আমি শিকল দিয়ে তাকে বাঁধিনি। সিনিয়র ছাত্র সাব্বির তাকে বেঁধে রেখেছিল। তবে বেদম মারপিটের বিষয়ে তিনি কোন কথা বলেননি, নিশ্চুপ ছিলেন।

সাব্বির আহমেদ জানান, শিশু মোবারক পালিয়ে যাওয়ার কারণে তার দাদি বেঁধে রাখার কথা বলেছিল। তাই তাকে বেঁধে রাখা হয়। তবে শিক্ষক পিয়ারুল ইসলামই শিশুটিকে বেদম মারধর করেছেন বলে সাব্বির জানান।

ঈশ্বরদী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফিরোজ কবির ও ঈশ্বরদী থানার ওসি সেখ নাসীর উদ্দীন জানান, খবর পেয়ে মাদ্রাসার অধ্যক্ষ ও ২ শিক্ষককে থানা হেফাজতে আনা হয়েছে। অভিযোগ পেলে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

You might also like