ভ্যাকসিন পেতে প্রাণ যেতে পারে পাঁচ লাখ হাঙরের!

11

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ সোনারদেশ২৪:

বিশ্বব্যাপী করোনা সংক্রমণে দশ লাখের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। এখন পর্যন্ত আক্রান্ত হয়েছে ৩ কোটি ৪২ লাখেরও বেশি। এমন উদ্ভূত পরিস্থিতি ঠেকাতে চলছে টিকা তৈরির চেষ্টা। যাকে বলে, ‘ফাস্ট-ট্র্যাক’ গবেষণা। আর এই করোনার টিকা পেতে মরতে হতে পারে ৫ লাখ হাঙরকে! বিষয়টি নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে একটি সামুদ্রিক প্রাণী রক্ষাকারী সংগঠন।

জানা গেছে, বেশির ভাগ ভ্যাকসিন বা টিকা তৈরিতে ‘অ্যাজুভ্যান্ট’ নামে একটি উপাদান লাগে। যা ভাইরাসের বিরুদ্ধে কাজ করে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। আর এই উপাদানটি মেলে হাঙরের লিভারে। ভ্যাকসিনের দ্রুত ও কার্যকরী প্রভাব পেতে উপাদানটি জরুরি। অতএব গবেষণা এবং টিকা তৈরির জন্য হাঙর নিধন জরুরি হয়ে পড়ছে। আর তাই বলা যায় মানুষের জীবন বাঁচাবে হাঙর।

সব ভ্যাকসিনেই বিভিন্ন অ্যাজুভ্যান্ট ব্যবহার করা হয়। যেমন- ইনফ্লুয়েঞ্জা জাতীয় ভাইরাসের ভ্যাকসিন তৈরিতে লাগে ‘স্কুইলিন অয়েল’। কোভিড-১৯-এর প্রতিষেধক তৈরিতেও এটি ব্যবহার করা হচ্ছে। হাঙর ছাড়াও আরো বেশ কিছু প্রাণীর লিভারে থাকে এই তেলটি। কিন্তু বেশির ভাগ ক্ষেত্রে হাঙরের লিভার অয়েলই নেওয়া হয়।

এদিকে সামুদ্রিক প্রাণী রক্ষাকারী সংগঠনগুলো বলছে, শুধু আমেরিকার জন্য প্রয়োজনীয় ভ্যাকসিন তৈরি করতেই অন্তত ২১ হাজার হাঙরকে মারতে হবে। গাছের থেকেও ‘স্কুইলিন অয়েল’ পাওয়া যায়। সংস্থাটির দাবি, হাঙর না-মেরে যদি গাছ থেকে পাওয়া স্কুইলিন অয়েল ব্যবহার করা হয় তাহলে সামুদ্রিক প্রাণী ভারসাম্য ঠিক থাকত।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, যে গতিতে গবেষণা চলছে, দেখা যাবে আগামী বছর একাধিক প্রতিষ্ঠান টিকা আবিষ্কার করে ফেলবে। বৃহস্পতিবার একই আশার কথা শুনিয়েছে বিশ্বের সব চেয়ে বড় ভ্যাকসিন প্রস্তুতকারী সংস্থা ‘গ্ল্যাক্সোস্মিথক্লাইন’।

You might also like