শারীরিক দুর্বলতা জেঁকে ধরেছে? শুনুন ডাক্তারের পরামর্শ

50

লাইফস্টাইল ডেস্কঃ সোনারদেশ২৪:

প্রায় প্রতিমুহূর্তে শারীরিক দুর্বলতা অনুভব করা একটা সাধারণ অভিযোগ সবার। কখনও অযথাই শরীরে ভর করে রাজ্যের ক্লান্তি, চোখ মেলে থাকা যায় না, শরীর নাড়াতেও কষ্ট, মাথা খাটাতে গেলে আসে ঘুম। জেনে নিন কী করে এই দুর্বলতা ও ক্লান্তির রাজ্য থেকে পালানো যায়।

প্রথমেই যাওয়া যাক দুর্বলতার কারণ অনুসন্ধানে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের রেসিডেন্ট চিকিৎসক আবীর হাসান বলেন, ‘সবসময় যদি শরীর দুর্বল লাগে তবে এটার অন্যতম কারণ হতে পারে রক্তস্বল্পতা। রক্তে হিমোগ্লোবিন কমে গেলে রক্তস্বল্পতা বলে। এজন্য রক্ত পরীক্ষা করিয়ে নিশ্চিত হয়ে তারপর চিকিৎসা নিতে হবে। আবার রক্তে সুগারের মাত্রা বেড়ে যাওয়ার অন্যতম লক্ষণ দুর্বলতা। কারণ এতে দেহের স্বাভাবিক কর্মকাণ্ডে বাধা আসে ও রোগী অল্পতেই হাঁপিয়ে ওঠে।’

ডা. আবীর আরও জানালেন, ‘পানিশূন্যতাও শরীরে রক্তের পরিমাণ কমিয়ে দেয়। এতেও শরীরে ঘন ঘন অবসাদ ভর করে। এর জন্য প্রতিদিন কমপক্ষে ৮ গ্লাস পানি পান করা উচিত।’

কথা হয় স্যার সলিমুল্লাহ মেডিক্যাল কলেজের চিকিৎসক ডা. লুবাবা চৌধুরীর সঙ্গেও। শারীরিক দুর্বলতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘খাবারের তালিকায় দেহের জন্য প্রয়োজনীয় সুষম খাদ্যগুলো না থাকলে শরীর এমনিতেই দুর্বল হয়ে পড়ে। আর এই কর্মব্যস্ত যুগে সুষম খাবার নিয়ে আমরা খুব কমই ভাবি। তাই শরীর ফুরফুরে রাখতে চাইলে সুষম খাবার সম্পর্কে জানতে হবে, খেতেও হবে। অন্তত ৩-৪ ঘণ্টা পরপর কিছু না কিছু খাওয়া চাই। বিষন্ন থাকলে আমরা অনেক বেশি চিন্তা করতে থাকি যা মস্তিষ্কের ওপর চাপ ফেলে। এই মানসিক চাপের ফলেও মস্তিষ্ক অবসাদগ্রস্ত হয়, দেহ দুর্বল হয়ে পড়ে।’

অন্যদিকে অধিক কাজের চাপে যেমন দুর্বলতা আসে তেমনি বেশি অলসতাও শারীরিক দুর্বলতার কারণ। পর্যাপ্ত কায়িক শ্রম দেহের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাকেও চাঙ্গা রাখে।’

দুর্বলতা কাটাতে কী করবেন?

ডা. আবীর হাসান বলেন, পানিশূন্যতা যেহেতু দুর্বলতার প্রধান কারণ, তাই সবার আগে পানি ঠিকমতো পান করা হচ্ছে কিনা সেটা দেখতে হবে। চা বা কফির ক্যাফেইন সাময়িকভাবে শরীরে চাঙাভাব আনলেও এটি দেহকে পানিশূন্য করে দেয়। ফলে দেহে পানির চাহিদা বাড়ে ও আমরা দুর্বল বোধ করি। তাই চা-কফির পরিমাণ কমানো উচিত।

সকাল ৮-৯ টার সূর্যের আলোতে যাওয়ার চেষ্টা করুন। এই আলো দেহে ভিটামিন ডি পৌঁছায় যা হাড়ের গঠন সুগঠিত করার পাশাপাশি শারীরিক দুর্বলতা কাটাতেও সহায়তা করে। কাজের ফাঁকে ‘পাওয়ার ন্যাপ’ তথা ১০ মিনিটের ঘুম আমাদের দেহের কোষগুলোকে তরতাজা করে তোলে। এতেও হারানো শক্তি ফিরে আসে দুর্বলতা কেটে যায়।

ঘুমের মাধ্যমে দেহ ও মস্তিষ্কের কোষ নতুন করে শক্তি অর্জন করে। ঘুম কম হলেই দিনভর ক্লান্তি ও দুর্বলতা অনুভব করবেন। তাই দিনে অন্তত ৭-৮ ঘণ্টা ঘুম নিশ্চিত করুন।
বাদাম, কমলা বা এ জাতীয় মিষ্টি ফল তাৎক্ষণিক দুর্বলতা কাটিয়ে উঠতে সাহায্য করে। প্রতিদিন এসব টুকটাক খাবার খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলুন।

You might also like