পূর্বধলায় ভুল চিকিৎসায় শিশু মৃত্যুর অভিযোগ

27

সোনারদেশ২৪: ডেস্কঃ

নেত্রকোনার পূর্বধলায় ডাক্তারের ভুল চিকিৎসায় জোনাকী নামের ১০ মাসের এক শিশু মারা গেছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

বুধবার (১৮ নভেম্বর) পূর্বধলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ তাওহীদুর রহমান বিষয়টি জানিয়েছেন। এর আগে মঙ্গলবার (১৭ নভেম্বর) বিকেলে উপজেলা সদরের হাসপাতাল গেইট সংলগ্ন মা  নামে একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে এ ঘটনা ঘটে। নিহত জোনাকী উপজেলা সদর ইউনিয়নের ভিতরগাঁও গ্রামের জাহাঙ্গীরের মেয়ে।

ওসি মোহাম্মদ তাওহীদুর রহমান জানান, শিশুটির মাথায় একটি টিউমার অপারেশনের জন্য মঙ্গলবার বিকেলে তার বাবা পূর্বধলা হাসপাতাল গেইটে মা ডায়াগনস্টিক সেন্টারে ডা. গোলাম মোস্তফার চেম্বারে যায়।

সেখানে বিকেল ৫টার দিকে গোলাম মোস্তফা জোনাকীর টিউমার অপারেশনের জন্য তার মাথায় লোকাল এনেসথেসিয়া দেন। এতে সঙ্গে সঙ্গে তার খিঁচুনি শুরু হয়। তাৎক্ষণিক তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

নিহত শিশু জোনাকীর বাবা জাহাঙ্গীর জানান, গত ৫ মাস আগে তার শিশুর মাথায় একটি টিউমারের মতো কিছু একটা দেখা দিলে মঙ্গলবার বিকেলে ডা. গোলাম মোস্তফার চেম্বার নিয়ে আসেন। সেখানে ওই টিউমারটি অপারেশনের জন‌্য ডাক্তারের সঙ্গে ১হাজার ৫শ’টাকায় চুক্তি করেন। এরপর ডাক্তার ইনজেকশন দিতেই তার মেয়ের খিঁচুনি শুরু হয় ও তাৎক্ষণিক সে মারা যায়। তিরি এর বিচার চান।

পূর্বধলা হাসপাতালের ডাক্তার ওয়াহিদুর রহমান মামুন জানান, শিশুটিকে লোকাল এনেসথেসিয়া দেওয়ার পর তার খিঁচুনি শুরু হলে উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিক‌্যাল অফিসার গোলাম মোস্তফা তাকে হাসপাতালের দোতলায় নার্স রুমে নিয়ে অক্সিজেন দেন। তাৎক্ষণিক জরুরি বিভাগ থেকে দোতলায় গিয়ে শিশুটি মারা গেছে দেখতে পান।

এদিকে, হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত আবাসিক মেডিক‌্যাল অফিসার (আরএমও) ডা. মো. আজহারুল ইসলাম জানান, যেহেতু উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিক‌্যাল অফিসার গোলাম মোস্তফা শিশু বিশেষজ্ঞ,নিওরো সার্জন বা জেনারেল সার্জন এর কোনোটাই নন সেহেতু তার ভুল চিকিৎসার কারণে এমন দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।

ওসি আরও জানান, এ ঘটনায় উত্তেজিত জনতা ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও হাসপাতাল ঘেরাও করলে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

এদিকে, পূর্বধলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্মরত উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিক‌্যাল অফিসার অভিযুক্ত গোলাম মোস্তফাকে পুলিশ তাদের হেফাজতে নেয় ও শিশুর লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। এ বিষয়ে নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে, অভিযুক্ত ডা. গোলাম মোস্তফা বলেন, ‘শিশুটির মাথায় এটি টিউমার ছিল না। এটি সামান্য একটি ফোঁড়া ছিল। ওই ফোঁড়াটিতে লোকাল ইনজেকশন দেওয়ার পর এ দুর্ঘটনা ঘটে।  তবে এমন দুর্ঘটনা ঘটবে এটি আমি বুঝতে পারিনি।’

You might also like