শরণখোলার মাদ্রাসাছাত্রী ধর্ষণ মামলায় সুপারের যাবজ্জীবন

27

সোনারদেশ২৪: ডেস্কঃ

বাগেরহাটের শরণখোলায় পঞ্চম শ্রেণির এক ছাত্রীকে ধর্ষণের অপরাধে উত্তর খোন্তাকাটা রাশিদিয়া স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদ্রাসার সুপার ইলিয়াছ হোসেন জমাদ্দারকে (৪৮) যাবজ্জীবন কারাদণ্ডাদেশ দিয়েছেন আদালত। একইসঙ্গে তাকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও এক বছরের সশ্রম কারা কারাদণ্ডাদেশ দিয়েছেন আদালত।

বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) দুপুরে বাগেরহাট নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-২ এর বিচারক জেলা ও দায়রা জজ মো. নূরে আলম এ আদেশ দেন।

মামলা সূত্রে জানা যায়, গত বছরের ৮ অগাস্ট মেয়েটি মাদ্রাসার সুপারের কাছে আরবিশিক্ষা নিতে আসে। সেখানে তাড়াতাড়ি তিনজনকে বাড়ি পাঠিয়ে দেন সুপার। পরে ওই মেয়েটিকে মাদ্রাসার লাইব্রেরিতে নিয়ে ধর্ষণ করেন তিনি। বিষয়টি মা-বাবাকে না জানানোর জন্য মেয়েটিকে ভয় দেখান তিনি। মেয়েটির বাড়িতে গিয়ে তার মা-বাবাকে ওই সুপার জানায় সিঁড়ি থেকে পড়ে গিয়ে সে আহত হয়েছে। মেয়েটিকে সুস্থ করতে নিজেই ঝাড়ফুঁক ও পানি পড়া দেন ওই সুপার । কিন্তু তাতেও সুস্থ না হওয়ায় সুপারের পরামর্শে মোরেলগঞ্জ উপজেলার একটি ক্লিনিকে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করেন মেয়েটির মা-বাবা। সিঁড়ি থেকে পড়ে যাওয়া আঘাতের কারণে রক্তক্ষরণ নয়, অন্য কারণ থাকতে পারে বলে চিকিৎসকরা মেয়েটির পরিবারকে পরামর্শ দেন।  ১৯ আগস্ট রাতে ওই ছাত্রীর বাবা বাদী হয়ে ইলিয়াসের নামে থানায় মামলা করেন। মামলার পর থেকেই তিনি গা ঢাকা দেন। পুলিশ আসামিকে গ্রেফতার করতে না পাড়ায় ১৪ সেপ্টেম্বর পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই), বাগেরহাট মামলা টেকওভার করে। একই সালের ১৮ অক্টোবর পিবিআই মাদ্রাসার সুপারকে গ্রেফতার করে আদালতে সোপর্দ করে। ১৩ নভেম্বর মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন। আটজন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ ও যুক্তিতর্ক শেষে ১ নভেম্বর এ মামলার রায় ঘোষণার দিন নির্ধারণ করেন আদালত। সেই অনুযায়ী বৃহস্পতিবার দুপুরে বাগেরহাট নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-২ এর বিচারক জেলা ও দায়রা জজ মো. নূরে আলম এ রায় দেন।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী বাগেরহাট নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিশেষ সহকারী কৌঁসুলি (এপিপি) রণজিৎ কুমার মণ্ডল বলেন, মেয়েটিকে ধর্ষণের অপরাধে উত্তর খোন্তাকাটা রাশিদিয়া স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদ্রাসার সুপার ইলিয়াছ হোসেন জমাদ্দারকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডাদেশ দিয়েছেন আদালত। আমরা আদালতের এ রায় পেয়ে খুশি।

You might also like