মিয়ানমারে ক্ষুধা মেটাতে ইঁদুর-সাপ খাচ্ছেন মানুষ

10

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ সোনারদেশ২৪:

করোনা (কোভিড-১৯) মহামারী সারাবিশ্বকে অনেকটাই ওলটপালট করে দিয়েছে। এতে করে অনেক দেশের অর্থনীতির চাকা থেমে যায়, বিশেষ করে তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলো। এর মধ্যে মিয়ানমারের অবস্থা এমন জায়গায় পৌঁছেছে যে, অভাবের কারণে দেশটির অনেক নাগরিক এখন ইঁদুর ও সাপ খাচ্ছেন।

মিয়ানমারে গত মার্চে করোনা মহামারী প্রথম দফায় আঘাত হানে। এরপর সেপ্টেম্বরে দ্বিতীয় দফায় সংক্রমণ বৃদ্ধি পায়। আর এতে করেই এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে মিয়ানমারে। এমন প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

এ বিষয়ে দেশটির নাগরিক মা সু (৩৬) জানান, করোনার প্রথম আঘাতের সময় খাবারের দোকান বন্ধ করে দেন তিনি। এতে করে তার আয় বন্ধ হয়ে গেলে পরিবারের সদস্যদের খাবারের ব্যবস্থা করতে হিমশিম খান তিনি। তাই বাধ্য হয়ে নিজের সোনার গয়না বিক্রি করে ও বন্ধক রেখে খাবার নেন।

তিনি আরো জানান, দ্বিতীয় দফায় সংক্রমণ বৃদ্ধি পেলে দেশটির বাণিজ্যিক শহর ইয়াঙ্গুনে ‘স্টে হোম’ নির্দেশনা জারি করে দেশটির সরকার। আবারো দোকান বন্ধ করেন মা সু। এবার নিজের পোশাক, প্লেট এবং অন্যান্য আসবাবপাত্র বিক্রি করেন তিনি। অবশেষে বিক্রির কিছু না থাকায় তার নির্মাণশ্রমিক স্বামী শহরের বস্তির পাশের উন্মুক্ত ড্রেনে খাবারের সন্ধান করেন।

মা সু আরো বলেন, মিয়ানমারের লোকজন এখন ইঁদুর এবং সাপ খাচ্ছেন। আয়-রোজগার না থাকায় সন্তানদের এ ধরনের খাবার খাওয়াতে হচ্ছে।

ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, ইয়াঙ্গুনের দারিদ্র এলাকা হ্লেইং থার ইয়ারের বসতিতে পরিবার নিয়ে বসবাস করেন মা সু। সেখানকার বাসিন্দারা রাতের বেলা নিজেদের গৃহে আলোকসজ্জা করে প্রাণীর সন্ধান করেন। মূলত ক্ষুধা নিবারণের জন্য তারা ওই প্রাণীগুলোর সন্ধান করে।

যদিও দেশটির গ্রামগুলোতে লোকজন প্রায়ই ইঁদুর, সরীসৃপ এবং পোকামাকড় ধরে খেয়ে থাকেন। এখন শহরাঞ্চলের মানুষও তাদের পুষ্টির চাহিদা পূরণ করতে একই ধরনের শিকার করছেন।

প্রসঙ্গত, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে ভয়াবহ করোনা মহামারীর সম্মুখিন হয়েছে মিয়ানমার। দেশটিতে এ পর্যন্ত ৪০ হাজারের বেশি মানুষ করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। এর মধ্যে এক হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে।

You might also like