ভবন থেকে পড়ে ব্যারিস্টারের মৃত্যু : চারজনকে আত্মসমর্পণের নির্দেশ

31

সোনারদেশ২৪: ডেস্কঃ

রাজধানীর কাঁঠালবাগানের এক ভবনের নয়তলার বারান্দা থেকে পড়ে সুপ্রিম ব্যারিস্টার আসিফ ইমতিয়াজ খান জিসাদের মৃত্যুর পর দায়ের করা হত্যা মামলায় আসামি সাবরিনা শহীদ নিশিতাসহ চারজনকে বিচারিক আদালতে আত্মসমর্পণ করতে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।

আগামী ১৫ নভেম্বরের মধ্যে ঢাকা মেট্রো দায়রা আদালতে আত্মসমর্পণ করতে হবে আসামীদের। তবে হাইকোর্টের এ আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করার সিদ্ধান্ত জানিয়েছেন মামলার বাদী সাবেক সাংসদ অ্যাডভোকেট শহিদুল ইসলাম খান।

এ মামলার অন্যান্য আসামিরা হলেন-আসিফ ইমতিয়াজের শ্শুর এ এস এম শহিদুল্লাহ মজুমদার, শাশুড়ি রাশেদা শহীদ ও শ্যালক সায়মান শহীদ নিশাত।

আসামীদের আত্মসমর্পণের পর দায়রা আদালত তাদের জামিনের বিষয় মামলার গুরুত্ব বিবেচনা করে আজ ২১ অক্টোবর, বুধবার জামিন আবেদন নিষ্পত্তি করারও নির্দেশ দিয়েছেন বিচারপতি মো. হাবিবুল গনি ও বিচারপতি মো. রিয়াজ উদ্দিন খানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ।

আদালতে আজ রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি একেএম আমিন উদ্দিন ( মানিক) ও ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বি এম আবদুর রাফেল। আসিফের পিতা আইনজীবী শহীদুল ইসলাম খানও শুনানি করেন। অন্যদিকে, আসামি পক্ষে শুনানি করেন মো. অজি উল্লাহ।

এর আগে গত ১৭ সেপ্টেম্বর আসিফের পিতা শহীদুল ইসলাম খান বাদী হয়ে ঢাকার চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্টেট আদালতে এই মামলাটি দায়ের করেন। পরে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সাদবীর ইয়াছিন আহসান চৌধুরী কলাবাগান থানাকে অভিযোগটি নিয়মিত মামলা হিসেবে গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন।

ঢাকা আইনজীবী সমিতির সভাপতি ইকবাল হোসেন জানান, আসিফ ইমতিয়াজের শ্বশুর বাড়ির লোকজনের কথায় তিনি একটি অপমৃত্যুর মামলা করেছিলেন।

কিন্তু পরবর্তীতে পারিপার্শ্বিক ঘটনা, সুরতহাল রিপোর্ট ও আসামিদের আচরণে বাদী বুঝতে পেরেছেন আসিফ লাফিয়ে পড়ে আত্মহত্যা করেননি বরং তাকে হত্যা করে ওপর থেকে ফেলে দেওয়া হয়েছে। তাই দণ্ডবিধির ৩০২/৩৪ ধারায় নিহত আসিফের বাবা বাদী হয়ে এই মামলাটি দায়ের করেন।

আদালত কলাবাগান থানাকে এই মামলার অভিযোগটিকে এজাহার হিসেবে গ্রহণ করে তা নিয়মিত মামলা হিসেবে গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছিলেন।

গত ১১ সেপ্টেম্বর শুক্রবার ভোর সাড়ে ৪টার দিকে কলাবাগান থানাধীন কাঁঠালবাগান ফ্রি স্কুল স্ট্রিটের ১৬৩ নম্বর বাসা থেকে লাফিয়ে পড়েন সাবেক সংসদ সদস্য (এমপি) শহিদুল ইসলামের ছেলে ব্যারিস্টার আসিফ ইমতিয়াজ খান জিসাদ। তার বয়স আনুমানিক ৩৩ বছর। এ মৃত্যু নিয়ে রহস্যের সৃষ্টি হয়। এটি আত্মহত্যা না হত্যাকাণ্ড এ নিয়ে ধুম্রজাল সৃষ্টি হয়।

জানা যায়, সাবরিনা শহীদ নিশিতার সাথে প্রেম করে বিয়ে করেন আসিফ। এই বিয়ে মেনে নেয়নি আসিফের পরিবার। এ কারণে বাবাসহ পরিবার মিরপুরে থাকলেও স্ত্রীকে নিয়ে কাঁঠালবাগান শ্বশুরবাড়িতেই থাকতেন আসিফ। তাদের কোনো সন্তান নেই।

ঘটনার দিন আসিফের শ্যালক সায়মান নিশাদ সাংবাদিকদের জানান, আসিফ ও সাবরিনার সঙ্গে মাঝেমধ্যে পারিবারিক বিষয়াদি নিয়ে ঝগড়া হতো। আসিফ মাদকাসক্ত ছিলেন। চার মাস উত্তরায় একটি রিহ্যাবেও ছিলেন তিনি। ঘটনার দিন রাতেও স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়া বাঁধে। একপর্যায়ে আসিফ নয়তলার বারান্দা থেকে রেলিংয়ের ওপর দিয়ে লাফিয়ে নিচে পড়েন। সংকটাপন্ন অবস্থায় আসিফকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

অপরদিকে আসিফের বাবা শহিদুল ইসলাম গণমাধ্যমকে বলেন, আসিফ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী। মতিঝিলে দেশ ট্রেডিং কর্পোরেশনের লিগ্যাল অ্যাডভাইজার ছিলেন। তার শ্বশুরবাড়ির লোকজনই ভোরে খবর দেয় আসিফের অবস্থা ভালো না, তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। পরে এখানে এসে আসিফকে মৃত দেখতে পাই।

ব্যারিস্টার আসিফ ইমতিয়াজ খান জিসাদ সিরাজগঞ্জ কামারখন্দ বাগবাড়ী এলাকার অ্যাডভোকেট শহিদুল ইসলাম খানের ছেলে। শহিদুল ইসলাম ১৯৮৬-৯০ মেয়াদে সিরাজগঞ্জ-৫ (বেলকুচি কামারখন্দ) আসনের এমপি ছিলেন।

You might also like