কুমিল্লায় মাদ্রাসার সভাপতিসহ ৪ শিক্ষক জেল হাজতে

45

সোনারদেশ২৪: ডেস্কঃ

কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলায় মাদ্রাসার এক শিক্ষার্থী’র চানাচুর চুরির অভিযোগে ওই মাদ্রাসারই প্রায় ৫০ জন শিক্ষার্থীকে মাথা নিচে এবং পা উপরের দিকে করে (হেড-ডাউন) আধা ঘন্টা শাস্তি দেন মাদ্রাসার সভাপতি এবং কয়েকজন শিক্ষক। এতে ২০-২৫ জন শিক্ষার্থী গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ে।

এসময় কারও বমি, কারও নাক-মুখ দিয়ে রক্ত বের হয়। এক পর্যায়ে স্থানীয় লোকজন মাদ্রাসাটি ঘেরাও করে। পরে খবর পেয়ে পুলিশ এসে শিক্ষার্থীদের উদ্ধার করে হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য প্রেরণ করে এবং অভিযুক্ত মাদ্রাসা’র সভাপতিসহ ৪ শিক্ষককে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।

অভিযুক্তরা হলেন – মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির সভাপতি মোঃ বাদশা মিয়া (৭০), শিক্ষক মো: মোতালেব (৩৫), শিক্ষক মো: মিজানুর রহমান (৩৫) ও হাফেজ মো: সফিকুল ইসলাম।

সোমবার সন্ধ্যায় কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার শংকুচাইল আশ্রাফুল উলুম হাফেজিয়া নুরানীয়া ফুরকানিয়া মাদ্রাসা ও এতিমখানায় এ ঘটনা ঘটে।

বুড়িচং থানায় এক শিক্ষার্থীর পিতার দায়ের করা মামলার বিবরণে জানা যায়, ওই মাদ্রাসা ও এতিমখানার শিক্ষার্থী ব্রাহ্মনপাড়া উপজেলার বাগড়া গ্রামের জহিরুল ইসলামের ছেলে মো: আল-আমিন (১০) কয়েকদিন ছুটি কাটিয়ে বাড়ি থেকে তার মায়ের সঙ্গে মাদ্রাসায় এসে যোগদান করে। এসময় আল-আমিনের মা তাকে একটি চানাচুরের প্যাকেট কিনে দিয়ে যান। আল-আমিন তার মাকে রাস্তায় এগিয়ে দিয়ে এসে দেখতে পায় তার মায়ের দেয়া চানাচুরের প্যাকেটটি কে যেন নিয়ে গেছে। সে তার মাকে ফোন করে জানালে তিনি মাদ্রাসার সভাপতি ও শিক্ষকদের জানান।

পরে সন্ধ্যা সাড়ে ৬ টার সময় মাদ্রাসার সভাপতি ও শিক্ষকগণ চানাচুর চুরি করার অপরাধে ৫০-৬০ জন শিক্ষার্থীদের হেড-ডাউন করে আধা ঘন্টা শাস্তি দেন।

রাতেই বুড়িচং থানার ওসি মো: মোজাম্মেল হোসেন ঘটনাস্থলে পৌঁছে অসুস্থ শিক্ষার্থীদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য পাঠান।

বুড়িচং থানার ওসি ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, সোমবার রাতে অভিযুক্ত ৪ জনকে আটক করে থানায় আনা হয়, তাদের বিরুদ্ধে থানায় মামলা দায়ের হয়। মঙ্গলবার সকালে তাদেরকে কোর্টের মাধ্যমে জেল-হাজতে প্রেরণ করা হয়।

You might also like