ছোট বোনকে ধর্ষণে বাধা দেওয়ায় বড় বোনকে কোপালো কিশোর গ্যাং

20

সোনারদেশ২৪: ডেস্কঃ

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় ছোট বোনকে ধর্ষণে বাধা দেওয়ায় গার্মেন্টকর্মী বড় বোনকে কুপিয়েছে কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা। থানায় জিডি করায় পরিবারের সকলকে কুপিয়ে হত্যার হুমকিও দিয়েছে অপরাধীরা।

রোববার (১১ অক্টোবর) রাতে ফতুল্লার শিহাচর শাহজাহান রোলিং মিল এলাকায় মনির হোসেনের ভাড়াটিয়া বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর থানায় জিডি করায় সোমবার (১২ অক্টোবর) রাতেও কয়েক দফা হামলা চালায় তারা।

ছুরিকাঘাতে আহত গার্মেন্টকর্মী লাবনীকে (২৫) ঢাকা মেডিকেলে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। একদিন চিকিৎসা শেষে বাসায় ফেরেন লাবনী। তার পেটে কয়েকটি ছুরিকাঘাত করা হয়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হারেজ মিয়া ও তার স্ত্রী সেলিনা বেগম ৩ মেয়ে ২ ছেলে নিয়ে মনির মিয়ার বাড়িতে ভাড়া থাকেন। তাদের মধ্যে বড় মেয়ে আহত লাবনী ও খলিল নামে আরেক ছেলের উপার্জনে তাদের ৭ জনের সংসার চলে। এই পরিবারের ছোট মেয়েকে দীর্ঘদিন ধরে একই এলাকার জীবন (১৬) ও লাদেন (১৭) নানাভাবে উত্যক্ত করে আসছিল। প্রায়ই তারা কুপ্রস্তাব দিত।

বিষয়টি এলাকাবাসী জানতে পারলেও কিশোর গ্যাং-এর অপরাধীদের ভয়ে কেউ কিছু বলতে পারতেন না। কারণ, তাদের প্রত্যেকের হাতে দেশি-বিদেশী অস্ত্র থাকে। সাধারণ বিষয়েও তারা অস্ত্র নিয়ে প্রকাশ্যে মহড়া দেয়।

আহত লাবনী জানান, রোববার রাত সাড়ে ৯টার দিকে জীবন ও লাদেন সহ প্রায় ১০/১৫ জন কিশোর বয়সের ছেলে আমাদের বাসায় আসে। তারা যখন আমাদের বাসায় আসে তখন আমি গার্মেন্ট থেকে বাসায় এসেছি। কিশোররা এসেই আমাদের ঘরে প্রবেশ করে প্রথমে জীবন আমার ছোট বোনকে জড়িয়ে ধরে খাটে ফেলে দেয়। তখন আমি চিৎকার করে জীবনকে ধাক্কা দিয়ে আমার বোনকে জড়িয়ে ধরে রক্ষা করার চেষ্টা করি। এ সময় তারা আমাকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেয়। এরপর আমার ছোট বোনকে টেনে হেচড়ে ঘর থেকে বের করে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। তখন আবারও আমি তাদের সামনে গিয়ে দাঁড়ালে জীবন আমার পেটে কয়েকটি ছুরিকাঘাত করে দলবল নিয়ে চলে যায়।

এ সময় আমার মা, বোন ও ছোট ভাইসহ আশপাশের লোকজন এসে আমাকে উদ্ধার করে প্রথমে শহরের ভিক্টোরিয়া হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখান থেকে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ঢাকা মেডিকেলে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেয়। এরপর ঢাকা মেডিকেলে নিয়ে যাওয়ার পর চিকিৎসক আক্রান্ত স্থানে ১৮টি সেলাই করে একদিন ভর্তি রাখেন।

তিনি আরো জানান, এ ঘটনায় কিশোরদের ভয়ে থানায় গিয়ে তথ্য গোপন করে অভিযোগ না করে একটি জিডি করেছি। জিডির বিষয়টিও জীবন ও তার লোকজন জানতে পেরে সোমবার রাতে কয়েক দফা আমাদের বাড়িতে হামলা চালিয়ে টিনের ঘর ও দরজা জানালা কুপিয়ে জিডি উঠানোর হুমকি দিয়ে চলে যায়। জিডি না উঠালে পরিবারের সকলকে কুপিয়ে হত্যা করার হুমকি দেয়।

লাবনীর মা সেলিনা বেগম বলেন, আমরা গরিব আর ওই সন্ত্রাসীরা রাজনৈতিক নেতাদের শেল্টারে চলে। আমরা তাদের সঙ্গে কিছুতেই পারব না। এলাকাবাসী শুনেও ভয়ে কোন প্রতিবাদ করেনি। যদি প্রশাসন বিচার করে তাহলে সন্ত্রাসীদের ফাঁসি চাই। সন্ত্রাসীরা কতটুকু ভয়ংকর তা আমার পরিবারের সকলে ও এলাকাবাসী জানে। আর যদি বিচার না পাই, তাহলে গ্রামের বাড়ি নেত্রকোনা জেলায় চলে যাব।

ফতুল্লা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আসলাম হোসেন জানান, অভিযোগ পেয়ে পুলিশের দুটি টিম পাঠানো হয়েছে। আশা করি অপরাধীদের দ্রুত গ্রেফতার করা হবে।

You might also like