ধর্ষণের প্রতিবাদে ‘নিরীহ’ কর্মসূচিতে বিএনপি

30

সোনারদেশ২৪: ডেস্কঃ

নোয়াখালীর গৃহবধূকে বিবস্ত্র করে নির্যাতনসহ দেশজুড়ে নানা ধর্ষণের ঘটনায় সারাদেশ যখন উত্তাল তখন ঘরোয়া সংবাদ সম্মেলন, মানববন্ধনের মতো ‘নিরীহ’ কর্মসূচি দিয়ে দায় সারছে অন্যতম রাজনৈতিক দল বিএনপি। গত কয়েক দিনে কোনো ‘সক্রিয়’ কর্মসূচি দিয়ে মাঠে নামার সক্ষমতা দেখাতে পারেনি দলটি। এমনকি বিএনপির কোনো অঙ্গ-সংগঠনও রাজপথে কোনো প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারেনি। অথচ অপেক্ষাকৃত ছোট সংগঠনগুলো অল্প সংখ্যকর্মী নিয়ে হলেও রাজপথে প্রতিরোধ গড়ে তুলে নারী নির্যাতন ও ধর্ষণের বিরুদ্ধে তাদের অবস্থান জানান দেওয়া চেষ্টা অব্যাহত রেখেছে। তবে বিএনপি নেতারা বলছেন, ধর্ষণসহ সব ধরনের অপরাধের বিরুদ্ধে আমাদের প্রতিবাদ অব্যাহত আছে।

বিএনপি নেতাদের দাবি, সারা দেশে নারী নির্যাতন ও ধর্ষণে প্রতিবাদে বিএনপির নিয়মতান্ত্রিকভাবে গণতান্ত্রিক আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে। তারা মাঠেও আছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও জনসচেনতায় জনমত গড়ে তুলেছে। বিএনপি গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দল হিসেবে চাইলে রাস্তা বন্ধ করে কোনো কর্মসূচিতে দিয়ে জনগণের দুর্ভোগ তৈরি করতে পারেন না। তাছাড়া ক্ষমতাসীন সরকার শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিকে তারা প্রশাসনের সহায়তার সন্ত্রাসী বাহিনী দিয়ে ভিন্ন দিকে নিয়ে যায়। ছোট সংগঠনগুলো রাস্তায় নামছে তাদের সরকার সহ্য করতে পারছে না। তাদের ওপর হামলা, নির্যাতন শুরু করেছে। এটা কোনো গণতান্ত্রিক সরকারের আচরণ হতে পারে না।

বিএনপি নেতারা বলছেন, বিচারহীনতার সংস্কৃতির কারণে আজকে বারবার নারী, শিশু এমনকি বয়স্ক মহিলারা নির্যাতন, ধর্ষণের শিকার হচ্ছে।

এ বিষয়ে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, দেশে আইন-কানুনের বালাই নেই। গুম-খুন-অপহরণ ও বিচারবহির্ভূত হত্যা বেড়েই চলছে। সরকার দলীয় সন্ত্রাসীদের দ্বারা নারী ও শিশু নির্যাতনের যেন মহোৎসবে পরিণত হয়েছে।

বর্তমান সরকারের আমলে চারদিকে শুধু নারী ও শিশু নির্যাতনের শুধুই আহাজারি। নারী ও শিশু নির্যাতনের মতো পাশবিকতায় দোষীরা যথোপযুক্ত শাস্তি পাচ্ছে না বলেই এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটাতে তারা আরও বেশি উৎসাহিত হচ্ছে। আমরা সব সময় এর প্রতিবার জানিয়ে আসছি। তিনি বলেন, নারী নির্যাতন, গুম, খুনের প্রতিবাদে বিএনপির কর্মসূচি চলমান আছে। জনগণ প্রতিবাদ করছে। সরকারকে জনগণের ভাষা বুঝতে হবে। তার আর এই সরকারকে ক্ষমতায় দেখতে চায় না।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য বেগম সেলিমা রহমান বলেছেন, সারা দেশে যেভাবে নারী ও শিশু নির্যাতন ও সহিংসতা বেড়েছে তা নজিরবিহীন। দেশের মানুষ চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। তাই সকলকে এক হয়ে নিপীড়ক-দুস্কৃতকারীদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।

দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, ধর্ষণের প্রতিবাদে বিএনপি সোচ্ছার। ইতোমধ্যে দলীয় নির্দেশনায় অঙ্গ সংগঠনগুলো কর্মসূচি পালন করছে। নারী নির্যাতনের প্রতিবাদে পাড়ায় পাড়ায় প্রতিরোধ কমিটি গড়ে তোলা হবে।

তিনি বলেন, গুম, খুন, নারী ও শিশু নির্যাতনের প্রতিবাদের আমাদের কর্মসূচি চলমান আছে। নোয়াখালীর গৃহবধূর ওপর নির্যাতনসহ ধর্ষণের ঘটনাসহ সারা দেশে নারী নির্যাতনের প্রতিবাদে আজ বুধবার বিএনপির পক্ষ থেকে মানববন্ধন করা হবে বলে জানান তিনি।

বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য এবং নারী ও শিশু অধিকার ফোরামের সদস্য সচিব নিপুণ রায় চৌধুরী বলেন, বর্তমান সরকার আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে পারেনি। যে কারণে ৬ মাসের শিশু থেকে শুরু করে ৯৮ বছর বয়সী নারী ধর্ষিত হচ্ছে। বিচারহীনতার যে সংস্কৃতি শুরু হয়েছে। তারা ক্ষমতার জোরে মূল ঘটনার আড়াল করার চেষ্টা করছে। তিনি বলেন, বিএনপি প্রতিবাদ করে যাচ্ছে। রাজপথে বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে জনগণকে সচেতন করা হচ্ছে।

নিজের সংগঠনের কর্মসূচি প্রসঙ্গে নিপুণ বলেন, নারী নির্যাতন ও ধর্ষণের প্রতিবাদে আমরা সারা দেশে তিনদিনের কর্মসূচি ঘোষণা করেছি। আগামীকাল বৃহস্পতিবার তিন ঘণ্টা অবস্থান কর্মসূচি, শনিবার ৪৮ জেলায় মানববন্ধন, রোববার ৬৪ জেলার আদালত প্রাঙ্গণে সমাবেশ এবং জেলা প্রশাসকে স্মারকলিপি প্রধান করা হবে।

তিনি আরও বলেন, বিএনপি পিছিয়ে নেই, আমরা মাঠেও আছি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও জনগণকে সচেতন করছি।

You might also like