‘চুরির উদ্দেশ্যে’ ইউএনও ওয়াহিদাকে হামলা

24

সোনারদেশ২৪: ডেস্কঃ

দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ওয়াহিদা খানম ও তার বাবা ওমর আলীর ওপর চুরির উদ্দেশ্যে হামলা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটেলিয়ান (র‌্যাব)। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃতরা র‌্যাবকে এই তথ্য জানায়।

৪ সেপ্টেম্বর, শুক্রবার সন্ধ্যা ৭টায় এক সংবাদ সম্মেলনে র‌্যাব-১৩ এর অধিনায়ক রেজা আহমেদ ফেরদৌস এই তথ্য জানান।

এ সময় রেজা আহমেদ ফেরদৌস জানান, ইউএনও ওয়াহিদা খানম ও তার বাবার ওপর হামলার ঘটনায় করা মামলার শুরু থেকেই ছায়া তদন্ত অব্যাহত রাখে র‌্যাব। একপর্যায়ে আসাদুলকে শুক্রবার ভোরে হিলির কালীগঞ্জ থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তার স্বীকারোক্তি অনুযায়ী দিনভর অভিযান চালিয়ে নবিরুল ও সান্টুকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রাথমিক স্বীকারোক্তিতে তারা চুরির উদ্দেশ্যে ইউএনও ওয়াহিদা খানমের বাসায় যান বলে জানিয়েছেন। এদের মধ্যে নবিরুল ইউএনও ওয়াহিদা খানমের মাথায় আঘাত করেন। আসামিদের বিরুদ্ধে মাদকসহ বিভিন্ন অপরাধে মামলা রয়েছে।

তিনি আরো বলেন, ঘটনার নেপথ্যে আরো কোনো কারণ আছে কি-না তা জানতে সময় লাগবে। অভিযুক্তদের রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। ঘোড়াঘাট উপজেলা যুবলীগের আহ্বায়ক (বহিস্কৃত) জাহাঙ্গীরসহ আরো তিনজনকে আটক করা হলেও তাদেরকে ছেড়ে দেয়া হয়েছে বলে জানান এই র‌্যাব কর্মকর্তা।

এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তারা হলেন- ঘোড়াঘাট উপজেলা যুবলীগের আহ্বায়ক (বহিষ্কৃত) জাহাঙ্গীর আলম (৪২), উপজেলা যুবলীগের সদস্য (বহিষ্কৃত) আসাদুল ইসলাম (৩৫), শিংড়া ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি দক্ষিণ দেবীপুর গ্রামের গোলাম মোস্তফা আদুর ছেলে মাসুদ রানা (৪০), নৈশপ্রহরী নাহিদ হোসেন পলাশ (৩৮), চকবামুনিয়া বিশ্বনাথপুর এলাকার মৃত ফারাজ উদ্দিনের ছেলে রং মিস্ত্রি নবিরুল ইসলাম (৩৫) ও একই এলাকার খোকার ছেলে সান্টু চন্দ্র দাস(২৮)।

এ ঘটনায় বিভাগীয় কমিশনার (সার্বিক) জাকির হোসেনকে আহ্বায়ক করে তিন সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছেন রংপুর বিভাগীয় কমিশনার আব্দুল ওয়াহাব। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন- রংপুর রেঞ্জের ডিআইজির একজন প্রতিনিধি এবং দিনাজপুরের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আসিফ মাহমুদ।

এ ঘটনায় ইউএনও ওয়াহিদার ভাই শেখ ফরিদ বাদী হয়ে বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) রাতে ঘোড়াঘাট থানায় মামলা করেন।

প্রসঙ্গত, বৃহস্পতিবার ভোররাত ৩টার দিকে সরকারি বাসভবনে ঢুকে দিনাজপুরে ঘোড়াঘাট উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ওয়াহিদা খানম ও তার পিতার ওপর হামলা চালিয়েছে দুর্বৃত্তরা। এ সময় তার পিতা বীর মুক্তিযোদ্ধা ওমর আলীকেও আহত করে দুর্বৃত্তরা।

দুর্বৃত্তরা সরকারি বাসভনের ভেন্টিলেটর ভেঙে ঘরে ঢুকে প্রথমে ওমর আলীকে হাতুরি দিয়ে পিটিয়ে একটি কক্ষে আটকে রাখে। পরে তারা ওয়াহিদা খানমের ওপর হামলা চালায়। এলোপাতাড়িভাবে তাকেও হাতুরি দিয়ে আঘাত করে দুর্বৃত্তরা পালিয়ে যায়।

সংবাদ পেয়ে পুলিশ গিয়ে তাদের উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যায়। পরে অবস্থার অবনতি হলে তাদের রংপুরে পাঠানো হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় ইউএনওকে রংপুরে ডক্টরস হাসপাতালের আইসিইউতে এবং তার বাবাকে রংপুর মেডিক্যালে ভর্তি করা হয়। পরে ইউএনও ওয়াহিদা খানমকে উন্নত চিকিৎসার জন্য এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে রংপুর থেকে ঢাকার ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্স হাসপাতালে নেয়া হয়।

এরপর গতকাল বৃহস্পতিবার রাত ৯টার দিকে তাকে অস্ত্রোপচারের জন্য হাসপাতালের অপারেশন থিয়েটারে নেয়া হয়। অপারেশন থিয়েটারে নেয়ার আগে তার সিটিস্ক্যান করা হয়। প্রেসার চেক করে অবস্থা স্বাভাবিক থাকায় তার অস্ত্রোপচারের সিদ্ধান্ত নেন চিকিৎসকরা। অস্ত্রোপচার শেষে ওই রাতেই জ্ঞান ফেরে ওয়াহিদা খানমের। এমনকি তিনি কথাও বলেছেন।

You might also like