ডা. সাবরিনার বিরুদ্ধে ইসির মামলা

27

সোনারদেশ২৪: ডেস্কঃ

মিথ্যা তথ্য দিয়ে দ্বৈত ভোটার হওয়া ও একাধিক জাতীয় পরিচয়পত্র নেওয়ার অভিযোগে চিকিৎসক ডা. সাবরিনা শারমিন ওরফে সাবরিনা আরিফ চৌধুরীর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে ইসি। ডা. সাবরিনা জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটের বরখাস্ত হওয়া চিকিৎসক। তিনি জেকেজি হেলথ কেয়ারের জালিয়াতির মামলায় এখন কারাগারে আছেন।

রাজধানীর বাড্ডা থানায় সাবরিনার বিরুদ্ধে এই মামলা দায়ের করেছেন গুলশানা থানা নির্বাচন অফিসার মোহাম্মদ মমিন মিয়া। তিনি বলেন, মিথ্যা তথ্য দিয়ে দ্বৈত ভোটার হয়ে এবং একাধিক জাতীয় পরিচয়পত্র নিয়ে অপরাধ করেছেন সাবরিনা। তার দুটি এনআইডির তথ্য তুলে ধরে আইনগত ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে মামলায়।

২০১০ সালের জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন আইনের ১৪ ও ১৫ ধারায় এ মামলা দায়ের করা হয়। ১৪ ধারায় মিথ্যা তথ্য দেওয়ার অভিযোগ প্রমাণিত হলে শাস্তি এক বছরের কারাদণ্ড এবং ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড। আর ১৫ ধারায় একাধিক জাতীয় পরিচয়পত্র নেওয়ার অভিযোগ প্রমাণিত হলেও একই শাস্তি হতে পারে।

এর আগে সাবরিনা গ্রেপ্তার হওয়ার পর তার নামে দুটি এনআইডি থাকার বিষয়ে নির্বাচন কমিশনকে জানায় দুর্নীতি দমন কমিশন। বিষয়টি খতিয়ে দেখার পর এখন মামলা করল ইসি।ইসির তদন্তে দেখা গেছে, ২০০৯ সালে বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটার তালিকা করা হয়। তখন নিজ ঠিকানায় ভোটার হন ডা. সাবরিনা। পরে ২০১৬ সালে গুলশান থানা নির্বাচন অফিসে গিয়ে আবারও ভোটার হন তিনি। তখন অনেক তথ্য গোপন করেন। জমা দেন অসত্য তথ্য। তবে প্রথমবারের তার আঙ্গুলের ছাপ অস্পষ্ট থাকায় দ্বিতীয়বার ভোটার হওয়ার সময়ে তাকে শনাক্ত করা যায়নি।

২০১৬ সালে ভোটার তালিকা হালনাগাদের সময় তার জন্ম তারিখ ১৯৭৮ সালের ২ ডিসেম্বর দেওয়া হলেও অন্যটিতে জন্ম তারিখ দেওয়া হয়েছে ১৯৮৩ সালের ২ ডিসেম্বর। দুই আইডিতে ৫ বছর বয়সের ফারাক রয়েছে। একটিতে তার স্বামীর নাম আর. এইচ. হক, অন্যটিতে স্বামীর নাম লেখা আছে আরিফুল চৌধুরী। এছাড়া বাবা-মায়ের নামেও মিল নেই। একটিতে বাবার নাম সৈয়দ মুশাররফ হোসেন ও মায়ের নাম কিশোয়ার জেসমীন, অপরটিতে পরিবর্তিত নাম লেখা হয়েছে সৈয়দ মুশাররফ হসেন ও জেসমিন হুসেন। ঠিকানার ক্ষেত্রে একটিতে মোহাম্মদপুরের পিসিকালচার হাউজিং সোসাইটি ও অপরটিতে বাড্ডা এলাকার প্রগতি সরণির আনোয়ার ল্যান্ডমার্ককে ব্যবহার করা হয়েছে।

এনআইডি উইং মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. সাইদুল ইসলাম এ বিষয়ে জানান, ইতোমধ্যে সাবরিনার দুটি এনআইডি ‘ব্লক করা’ হয়েছে। তাকে দ্বৈত ভোটার করার ক্ষেত্রে কারা জড়িত তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ জন্যে ৫ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি করা হয়েছে।

You might also like