দুই ব্যাংকে বেড়েছে খেলাপি ঋণ

47

অর্থ ও বাণিজ্য ডেস্কঃ সোনারদেশ২৪:

করোনাকালে গ্রাহকের ঋণের কিস্তির টাকা না দিলেও খেলাপি হবে না- বাংলাদেশ ব্যাংকের এমন নির্দেশনা রয়েছে। করোনাভাইরাসের ক্ষতি থেকে উদ্যোক্তাদের সহায়তা দিতে এ উদ্যোগ নেয় সরকার। এরপরও বেসরকারি খাতের ন্যাশনাল ব্যাংক ও এবি ব্যাংকের খেলাপি ঋণ বেড়েছে। বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর ঋণ পর্যালোচনায় এমন তথ্য মিলেছে। এ বিষয়ে এবি ব্যাংক বক্তব্য দিলেও ন্যাশনাল ব্যাংকের কোনো ব্যাখ্যা নেই।

তথ্যানুযায়ী, ২০১৯ সালের ৩১ ডিসেম্বর প্রান্তিকে ন্যাশনাল ব্যাংকের খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল দুই হাজার ৭৭৬ কোটি ২৮ লাখ টাকা। যা ব্যাংকটির মোট ঋণের ৭ দশমিক ৮৩ শতাংশ। এ সময় ব্যাংকটির মোট বিতরণ করা ঋণের পরিমাণ ছিল ৩৫ হাজার ৪৫৪ কোটি টাকা। ছয় মাস পর ২০২০ সালের ৩০ জুন এসে খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে তিন হাজার ৭৩৮ কোটি ৩ লাখ টাকা। খেলাপি ঋণের হার দাঁড়িয়েছে ১০ দশমিক ৪৭ শতাংশ।

একই সময়ে মোট বিতরণ করা ঋণের পরিমাণ দাঁড়ায় ৩৭ হাজার ৬২৯ কোটি টাকা। ছয় মাসের ব্যবধানে ঋণ স্থিতি যেখানে দুই হাজার ১৬৫ কোটি টাকা বেড়েছে। সেখানে খেলাপি ঋণের পরিমাণ বেড়েছে এক হাজার ১৬২ কোটি টাকা। অর্থাৎ বিতরণ বেড়েছে ৬ দশমিক ১০ শতাংশ। খেলাপি ঋণ বেড়েছে প্রায় ৪২ শতাংশ।

চলতি বছরের মার্চ থেকে দেশে করোনাভাইরাস চিহ্নিত হলে পুরো দেশ লকডাউনে চলে যায়। বন্ধ হয়ে যায় উৎপাদন, বিপণন, আমদানি-রপ্তানি, যোগাযোগসহ সবকিছু।

২০১৯ সালের ডিসেম্বর মাসে চীনে করোনাভাইরাস শনাক্ত হওয়ার পর কল-কারখানার কাঁচামাল আমদানি ব্যাহত হয়। ফলে তখন থেকেই উদ্যোক্তারা সমস্যায় পড়ে। মার্চে পুরো লকডাউনে চলে গেলে পুরো দেশ সংকটে পড়ে। এ অবস্থা থেকে উত্তরণে ঋণের কিস্তি না দিলেও ওই গ্রাহক খেলাপি হবে না-বলে নির্দেশনা জারি করে বাংলাদেশ ব্যাংক। এ সুবিধার মেয়াদ চলতি বছরের জানুয়ারি মাস থেকে দুই দফায় বাড়িয়ে সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত নির্ধারণ করে। সে হিসাবে খেলাপি ঋণ বৃদ্ধির কথা না। কোন যৌক্তিক কারণে বাড়লেও তা পরিমাণ এত অস্বাভাবিক নয়। কিন্তু ন্যাশনাল ব্যাংকের খেলাপি ঋণ বৃদ্ধি অবিশ্বাস্য বলে মনে করছে সংশ্লিষ্টরা।

এ বিষয়টি নিয়ে ন্যাশনাল ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলতে চাইলে পাওয়া যায়নি। জনসংযোগ শাখা থেকে পরে জানানো হবে বলা হলেও শেষ পর্যন্ত জানানো হয়নি।

অপর বেসরকারি বাণিজ্যিক এবি ব্যাংকেও করোনাকালে খেলাপি ঋণ বেড়েছে। মোট ঋণ স্থিতির প্রায় অর্ধেক খেলাপি ঋণ এবি ব্যাংকের। করোনার প্রথম ধাক্কাতে ব্যাংকটি টালমাটাল অবস্থায় পড়ে। কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন কমিয়ে করোনাভাইরাস মোকাবিলার চেষ্টা করে এবি ব্যাংক।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যে দেখা যায়, ২০২০ সালের ৩১ জুন পর্যন্ত ব্যাংটির খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে চার হাজার ৪৫৭ কোটি ৪৫ লাখ টাকা। যা ব্যাংকটির মোট ঋণ স্থিতির ৪৭ শতাংশ। ব্যাংকটির মোট স্থিতি ২৫ হাজার ৮২৭ কোটি টাকা। করোনাভাইরাস শনাক্তের আগে ৩১ ডিসেম্বর ব্যাংকটির খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল ৩ হাজার ২৮৬ কোটি ১৫ লাখ টাকা। যা ব্যাংকটির মোট ঋণ স্থিতির ১৩ দশমিক ২৪ শতাংশ। সে হিসাবে ছয় মাসে খেলাপি ঋণ বেড়েছে এক হাজার ১৭১ কোটি ৩০ লাখ টাকা।

এবি ব্যাংকের ২০১৯ সালের ডিসেম্বর প্রান্তিকের খেলাপি ঋণ সম্পর্কিত তথ্য অনিরীক্ষিত ও অসম্পূর্ণ তথ্য ছিল। পরে সঠিকটা তুলে ধরা হয়েছে বলে জানিয়েছেন এবি ব্যাংকের চিফ ফিনান্সিয়াল অফিসার (সিএফও) মহিউদ্দিন আহমেদ।

তিনি খোলা কাগজকে বলেন, ২০১৯ সালের ডিসেম্বর প্রান্তিকে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল চার হাজার ৪০০ কোটি টাকার কিছু উপরে। ২০২০ সালের ৩০ জুনে এসে দাঁড়িয়েছে ৪ চার হাজার ৪৫৭ কোটি টাকায়। ফলে করোনাকালে খেলাপি ঋণে বড় ধরনের তারতম্য হয়নি।

You might also like