অর্থ আত্মসাৎ মামলায় ডা. সাবরিনাকে জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদ

40

সোনারদেশ২৪: ডেস্কঃ

নভেল করোনাভাইরাসের নমুনা পরীক্ষা নিয়ে প্রতারণা করে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগের মামলায় জেকেজির চেয়ারম্যান ডা. সাবরিনা আরিফ চৌধুরীকে জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা (পরিচালক) প্রণব কুমার ভট্টাচার্য্য জানিয়েছেন, আজ সোমবার সকাল সাড়ে ১০টা থেকে কেরানীগঞ্জে অবস্থিত ঢাকার কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলগেটে ডা. সাবরিনাকে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেন সংস্থাটির অনুসন্ধান কর্মকর্তা উপপরিচালক সেলিনা আখতার মনি।

এর আগে গত ২০ আগস্ট সাবরিনাসহ ছয়জনকে জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দেন ঢাকার মহানগর দায়রা জজ কে এম ইমরুল কায়েশ। ওই দিন দুদকের অনুসন্ধানী টিমের কর্মকর্তা উপপরিচালক সেলিনা আখতার মনি ডা. সাবরিনাসহ ছয়জনকে জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদের আবেদন করেন।

ডা. সাবরিনা ও আরিফুল ছাড়া অন্যরা হলেন তাদের সহযোগী আ স ম সাঈদ চৌধুরী, হুমায়ুন কবির ওরফে হিমু ও তার স্ত্রী তানজীনা পাটোয়ারী এবং প্রতিষ্ঠানটির ট্রেড লাইন্সেসের স্বত্বাধিকারী জেবুন্নেছা রিমা।

নথি থেকে জানা যায়, গত ১২ জুলাই ডা. সাবরিনাকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তাকে কয়েক দফা রিমান্ডে নেওয়ার পর কারাগারে পাঠানো হয়। এর পর গত ৫ আগস্ট মামলার তদন্ত সংস্থা ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের পরিদর্শক লিয়াকত আলী ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রট আদালতে ডা. সাবরিনা, প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) আরিফুল হক চৌধুরীসহ আটজনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। মামলার অপর ছয় আসামি হলেন শফিকুল ইসলাম রোমিও, জেবুন্নেছা, আ স ম সাঈদ চৌধুরী, হুমায়ুন কবির হিমু, তানজীনা পাটোয়ারী ও বিপ্লব দাস।

পরবর্তী সময়ে গত ২০ আগস্ট ডা. সাবরিনাসহ আট আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সরাফুজ্জামান আনসারী।

এজাহার থেকে জানা গেছে, গত ২৩ জুন জেকেজির গুলশান কার্যালয়ে অভিযান চালিয়ে প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী ডা. সাবরিনার স্বামী আরিফ চৌধুরীসহ ছয়জনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। এর পর থেকেই সরকারি চিকিৎসক হয়ে একটি প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান পদে থাকা সাবরিনার নাম এবং জালিয়াতির তথ্য নিয়ে ব্যাপক চাঞ্চল্য তৈরি হয়। এ সময় একটি ল্যাপটপে ১৫ হাজার ভুয়া রিপোর্ট তৈরির আলামত পাওয়ার পর প্রতিষ্ঠানটি সিলগালা করা হয়।

আরও জানা যায়, জেকেজি হেলথ কেয়ার থেকে ২৭ হাজার রোগীকে করোনা টেস্টের রিপোর্ট দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ১১ হাজার ৫৪০ জনের করোনার নমুনা সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) মাধ্যমে সঠিক পরীক্ষা করানো হয়েছিল। বাকি ১৫ হাজার ৪৬০ জনের ভুয়া রিপোর্ট তৈরি করা হয়, যা জব্দ করা ল্যাপটপে পাওয়া গেছে।

You might also like