ময়লার স্তূপে পাঠ্যবই!

57

সোনারদেশ২৪: ডেস্কঃ

খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলা মাধ্যমিক স্তরের সরকারি পাঠ্যপুস্তকের হাজার হাজার বই ভাগাড়ে ফেলে দেওয়া হয়েছে। বইগুলো পানিতে পচে, গলে একেবারে নষ্ট হয়ে গেছে। শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিতরণ না করে বইগুলো ডুমুরিয়া উপজেলার সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের একটি কক্ষে গুদামজাত করে রাখা হয়েছিল। মঙ্গলবার বিকালের দিকে বইগুলো ফেলে দেওয়ার পর বিষয়টি প্রকাশ পায়।

এদিকে, সরকারি হাজার হাজার বই বিতরণ না করে এভাবে নষ্ট করায় স্থানীয় মানুষের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। ভালো থাকা কিছু বই সেখান থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। ফেলা দেওয়া বইয়ের মধ্যে রয়েছে নিম্ন মাধ্যমিক, মাধ্যমিক, ইফতেদায়ী, দাখিল, কারিগরি ও কিন্ডারগার্টেন পর্যায়ের বইও। ২০১৯ সালেরও বই সেখানে পাওয়া গেছে।

তবে বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষক সালমা খাতুনের দাবি, সরকারি বইগুলো উপজেলা শিক্ষা অফিসের। গত কয়েক বছর ধরে বিদ্যালয়ের একটি কক্ষে তা গুদামজাত করে রাখা হচ্ছিল। কিন্তু ওই কক্ষে বৃষ্টির পানি ঢুকে তা নষ্ট করে দিয়েছে। বিষয়টি উপজেলা শিক্ষা কর্তকর্তাকে জানানোর পর তারাই লোক দিয়ে কক্ষ থেকে বইগুলো বাইরে বের করে ফেলে দিয়েছেন।

উপজেলা শিক্ষা কার্যালয়ের তথ্যানুযায়ী, ডুমুরিয়া উপজেলায় মাধ্যমিক স্তরের মাধ্যমিক, মাদ্রাসা ও কারিগরি মিলে ১১১টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে। এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থী রয়েছেন ২৮ হাজারের কিছু বেশি। ওই শিক্ষার্থীদের মাঝে বিতরণের জন্যই বইগুলো নিয়ে আসা হয়েছিল। চলতি বছর বই উপজেলায় আসা বইয়ের সংখ্যা ছিল চার লাখ ৯ হাজারের মতো।

জানতে চাইলে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সেখ ফিরোজ আহমেদ বলেন, উপজেলার শিক্ষার্থীদের মাঝে বিতরণের জন্য চাহিদার বিপরীতে কিছু অতিরিক্ত বই দেওয়া হয়। বিতরণের পর অতিরিক্ত বইগুলো গুদামজাত করে রাখা হয়। কিন্তু বিদ্যালয়টির মাঠে বালি ফেলায় বৃষ্টির পানি ওই কক্ষে প্রবেশ করে বইগুলো নষ্ট করে দিয়েছে। এ কারণে তা ফেলে দেওয়া হয়েছে।

বিতরণের পর অতিরিক্ত বই আবার ফেরত দেওয়া হয়নি কেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, অতিরিক্ত থাকা বইগুলো পরবর্তী বছর বিভিন্ন আন্তঃবিদ্যালয়ের মধ্যে সমন্বয় করে বিতরণ করা হয়। আবার সিলেবাস পরিবর্তন হলে ওই বইয়ের কার্যকারিতা থাকে না। এসব কারণে বইগুলো সেখানে রেখে দেওয়া হয়েছিল।

এ ব্যাপারে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা খোন্দকার রুহুল আমিন বলেন, সাধারণত দুই বছর আগের বই বিতরণের পর অতিরিক্ত থাকলে তা দরপত্র আহ্বান করে বিক্রি করে দেওয়ার নিয়ম রয়েছে। কিন্তু এক্ষেত্রে তা কেন করা হয়নি তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

তবে একটি সূত্র জানায়, অধিকাংশ বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও উপজেলা শিক্ষা অফিসের পক্ষ থেকে প্রকৃত প্রয়োজনের তুলনায় দ্বিগুণ বইয়ের চাহিদা দেখানো হয়। বিতরণের পর বাড়তি বই পড়ে থাকে। যা বিক্রি ও অথবা পুড়িয়ে ফেলা হয়। ফলে রাষ্ট্রের মোটা অঙ্কের অর্থের অপচয় হচ্ছে।

You might also like