‘শখ পূরণ করেছি, সমালোচনা করে কোনো লাভ হবে না’

37

সোনারদেশ২৪: ডেস্কঃ

নিজের গায়ে হলুদের দিনে শহরজুড়ে বন্ধু-বান্ধব নিয়ে মোটরসাইকেল শোভাযাত্রা করেন কনে। যশোরের মেয়ে ফারহানা আফরোজের এমন ব্যতিক্রমী আয়োজন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হলে মুহূর্তেই দেশজুড়ে আলোচিত-সমালোচিত হন তিনি। গত ১৩ আগস্ট গায়ে হলুদ আর পরদিন ১৪ আগস্ট ছিল বিয়ের অনুষ্ঠান। যদিও তাদের বিয়ে হয় ২০১৭ সালে। নিজের বিয়ের গায়ে হলুদে মোটরবাইক শোভাযাত্রা করার ইচ্ছে পূরণ করতেই বাইক চালিয়েছেন বলে জানান তিনি।

ফারহানার শ্বশুরবাড়ি পাবনার বেড়া উপজেলার কৃষ্ণপুর গ্রামে। বর্তমানে তিনি অবস্থান করছেন শ্বশুরবাড়িতে। পুত্রবধুর বাইক চালানোর খবর ভাইরাল হলে শ্বশুর আব্দুর রশিদ শেখ তাকে মোটরবাইক উপহার দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। সাম্প্রতিককালে এসব নানা বিষয় নিয়ে বুধবার (২৬ আগস্ট) কৃষ্ণপুর গ্রামে শ্বশুরবাড়িতে বসে ফারহানা আফরোজের মুখোমুখি হয় রাইজিংবিডির এ প্রতিবেদক। একান্ত আলাপচারিতায় ব্যাখ্যা করেছেন তার ও স্বজনদের অবস্থানের কথা। জবাব দিয়েছেন সমালোনাকারীদের বিরুপ মন্তব্যেরও

বিয়ের তিন বছর পর কেন এমন আয়োজন? 

ফারহানা আফরোজ: ৩ বছর আগে যখন আমাদের আকদ হয়, তার কিছুদিন পর আমার বাবা মারা যান। যার কারণে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা পেছানো হয়। তাছাড়া আমার পড়াশোনাও শেষ হয়নি তখন। পড়াশোনা শেষ হওয়ার পর আমাকে শ্বশুড় বাড়ি থেকে উঠিয়ে নেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু করোনার কারণে প্রোগ্রামটা পিছিয়ে যায়।

কি উদ্দেশ্যে গায়ে হলুদের দিনে মোটরবাইক চালানো? 
ফারহানা আফরোজ: আমার শখ ছিল গায়ে হলুদের দিনে বাইক চালিয়ে আত্মীয়-স্বজন ও বন্ধু-বান্ধবদের সঙ্গে আনন্দটা শেয়ার করার। সেই ইচ্ছেটাই পূরণ করেছি মাত্র। যেহেতু করোনার সময়, এ সময় অতিরিক্ত লোকজন নেই। সে কারণে কাছের ভাইবোন ও ফ্রেন্ড সার্কেল মিলিয়ে প্রোগ্রামটা করা এবং আমার কিছু আত্মীয়-স্বজন ছিল সেখানে। গায়ে হলুদ ও বিয়ের প্রোগ্রাম দু’টোই করা হয়।

আপনার বাইক চালানো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও অনলাইনে ভাইরাল হয়েছে। এ বিষয়টিকে আপনার পরিবার ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন কিভাবে দেখছেন?

ফারহানা আফরোজ: আমাদের পরিবার জানে আমি অনেক আগে থেকেই বাইক চালাই। তারা সবসময় আমাকে সাপোর্ট করেছে। আর আমার বিয়ে হয়েছে ২০১৭ সালে। ৩ বছর হয়ে গেছে। আমার শ্বশুর-শাশুড়ি খুবই পজিটিভ মাইন্ডের। এগুলোতে তাদের কাছে নেগেটিভ কিছুই মনে হয় না। আমি নিজেই ঢাকায় অনেক বছর বাইক চালিয়েছি এবং যশোরেও প্রতিনিয়ত বাইক চালাই। যখনই বের হই সবসময় আমার সঙ্গে বাইক থাকে। এটা আমাদের কাছে আহামরি কিছু না। কিন্তু মানুষজন এটাকে অস্বাভাবিক বানিয়ে ফেলেছে। তারাই বিষয়টিকে ভাইরাল করেছে।

আপনাকে নিয়ে অনেকেই বিরুপ মন্তব্য করেছে তাদের উদ্দেশ্যে আপনার বক্তব্য কি? 

ফারহানা আফরোজ: আমার কথা হলো যে, সংসার আমি করবো, শ্বশুর-শাশুড়ি আমার, পরিবার আমার। তাদের সমস্যা নাই, তাহলে মানুষজনের তো সমস্যা করার দরকার নাই। তারা তাদের মতো থাকুক, আমাকে আমার মতো থাকতে দিক। সংসারটা আমি করবো, সুতরাং সেটি কিভাবে করবো সেটা আমাকেই সিদ্ধান্ত নিতে দিক, তাদের এর মধ্যে নাক গলানোর দরকার নাই আসলে। খামাখা পেছন থেকে কথা বলে আমার কিছুই হবে না। সমালোচনা না করলে আপনাদের জন্যও ভালো, আমার জন্যও ভালো।

এদিকে, পুত্রবধুর মোটরবাইক চলানোর খবর ভাইরাল হওয়ার পর তাকে একটি বাইক উপহার দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন শ্বশুর আব্দুর রশিদ শেখ। পুত্রবধুর বাইক চালানোকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন তারা।

এ বিষয়ে শ্বশুর আব্দুর রশিদ শেখ বলেন, মূলত বৌমা লেখাপড়া করতো, চাকরিও করতো ঢাকাতে। মাঝে মধ্যে আমিও ঢাকাতে যাই। সেখানে প্রচুর যানজট, যাতায়াতের সুবিধার জন্য আমি তাকে মোটরবাইক উপহার দেওয়ার কথা বলেছি। যাতে সে অতি সহজে তার গন্তব্যে পৌঁছাতে পারে। পুত্রবধু বাইক চালায় এটাকে আমি নেতিবাচক হিসেবে দেখছি না, আমি এটাকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছি। দেশের বিভিন্ন স্থানে শিক্ষিত সমাজে একটা মেয়ের জন্য বাইক চালানো দুর্লভ কিছু না। একটা মেয়ে বাইক বা কার চালাতেই পারে। শিক্ষিত পরিবার থেকে এ ধারণা পোষণ করছি যে আমার পুত্রবধু যেটাতে চলাচলে স্বাচ্ছন্দ বোধ করে, সামাজিক মর্যাদা বজায় রেখে সে বাইকে চলাফেরা করতে পারে।

এ বিষয়ে ফারহানার শাশুড়ি বেলী বেগম জানান, বৌমা বাইক চালানো আমার কাছে ভালোই লাগতিছে। নারী দেশ চালাচ্ছে, অনেক নারী প্লেন চালায়, ট্রেন চালায়। অনেকে নাচ গান করতিছে, সে তো আর নাচ গান করে নাই, সে বাইক চালাইছে। এটা খারাপ কিছু না। দেশবাসীকে বলি, এটাকে যেন খারাপ নজরে না দেখে, খারাপ কথা না বলে, এটা আমাদের কাম্য।

ফারহানার স্বামী হাসনাইন রাফি বর্তমানে অবস্থান করছেন তার কর্মস্থল গাজীপুরে। তার সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি যশোরে বিএফ শাহীন কলেজে পড়ালেখার সময় ২০০৭ সালে ফারহানার সঙ্গে পরিচয়। ও আমার এক বছরের জুনিয়র ছিল। আসলে ফারহানা আমাকে আগেই জানিয়েছিল যে তার গায়ে হলুদের দিন এভাবে মোটরবাইক শোভাযাত্রা করবে। আমি স্বামী হিসেবে তাকে শতভাগ সাপোর্ট করি। এটার মধ্যে খারাপ কিছু দেখি না। এটি নিয়ে অনেকে ভাল মন্তব্য করেছে, কেউ বা বিরুপ মন্তব্য করেছে। এটা আসলে মানুষের দৃষ্টিভঙ্গির ব্যাপার।

ফারহানা ও রাফির বিয়ে হয় ২০১৭ সালের ২৮ এপ্রিল। গেলো ১৩ আগস্ট গায়ে হলুদ অনুষ্ঠান হয়েছে যার যার বাড়িতে এবং বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা হয় ফারহানার বাড়িতে ১৪ আগস্ট। ওইদিনই তাকে যশোর থেকে পাবনায় শ্বশুরবাড়িতে নিয়ে আসা হয়।

জানা যায়, ভাইরাল বাইককন্যা ফারহানা এক সময়কার চিত্রনায়িকা সুচন্দা, চম্পা, ববিতার চাচাতো ভাইয়ের মেয়ে।

You might also like