কি ঘটেছিল সেদিন?

19

সোনারদেশ২৪: ডেস্কঃ

২০০৪ সালের ২১ আগস্ট, শনিবার।  বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউতে সন্ত্রাসবিরোধী সমাবেশের ডাক দেয় তৎকালীন বিরোধীদল আওয়ামী লীগ।

সমাবেশে প্রধান অতিথি ছিলেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও তত্কালীন বিরোধীদলীয় নেতা শেখ হাসিনা। বিকেল ৪টার দিকে সমাবেশ শুরু হয়।  সমাবেশের পর সারা দেশে বোমা হামলায় নিহতদের স্মরণে শোক মিছিলের কর্মসূচি ছিল।

বিকেলে সাড়ে ৪টায় বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউ এলাকা পরিণত হয় জনসমুদ্রে।  শেখ হাসিনা বিকেল ৫টার দিকে সমাবেশ স্থলে পৌঁছান।  বুলেটপ্রুফ মার্সিডিজ বেঞ্জ জিপ থেকে নেমে নিরাপত্তাকর্মী বেস্টিত অবস্থায় তিনি দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে একটি ট্রাকের ওপর তৈরি অস্থায়ী মঞ্চে উঠে বক্তৃতা শুরু করেন।

বক্তৃতায় আওয়ামী লীগ সভাপতি দেশব্যাপী অব্যাহত বোমা হামলার বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন।  ২০ মিনিটের বক্তৃতা শেষে ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ উচ্চারণ করে বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা তার হাতে থাকা একটি কাগজ ভাঁজ করতে করতে এগোচ্ছিলের মঞ্চ ট্রাক থেকে নামার সিঁড়ির কাছে।  সঙ্গে সঙ্গে দক্ষিণ দিক থেকে মঞ্চকে লক্ষ্য করে একটি গ্রেনেড নিক্ষেপ করা হয়।

ঘড়ির কাঁটায় তখন ৫টা ২২ মিনিট।  গ্রেনেডটি মঞ্চের পাশে রাস্তার ওপর পরে বিকট শব্দে বিস্ফোরিত হয়। এরপর একে একে আরও ১২টি গ্রেনেড বিস্ফোরিত হয়।  মুহূর্তের মধ্যে পুরো এলাকা ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন হয়ে যায়।  আতঙ্কে মানুষ ছোটাছুটি শুরু করে।  গ্রেনেডের আঘাতে মঞ্চের নিচে রাস্তার ওপরে বসা বেগম আইভি রহমানসহ অসংখ্য মানুষ লুটিয়ে পড়েন।

ঘাতকদের প্রধান লক্ষ্যই ছিল শেখ হাসিনা।  পরিস্থিতি বুঝতে পেরে মঞ্চে উপস্থিত ঢাকার মেয়র মোহাম্মদ হানিফসহ নেতারা এবং শেখ হাসিনার ব্যক্তিগত দেহরক্ষী তাত্ক্ষণিকভাবে এক মানবঢাল তৈরি করে শেখ হাসিনাকে গ্রেনেডের হাত থেকে রক্ষা করেন।  তবে নিক্ষিপ্ত তিনটি গ্রেনেড অবিস্ফোরিত থেকে যায়।  মেয়র হানিফের মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ হওয়ায় অস্ত্রোপচার করার কথা থাকলেও গ্রেনেডের স্প্লিন্টার শরীরে থাকার কারণে তার অস্ত্রোপচার করা সম্ভব হয়নি।  পরে তিনি ব্যাংককের একটি হাসপাতালে চিকিত্সাধীন অবস্থায় মারা যান।

গ্রেনেডের স্প্লিন্টারের আঘাতে বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউতে মানুষের হাত-পাসহ বিভিন্ন অংশ ছিন্নভিন্ন হয়ে চারদিকে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়ে। সভামঞ্চ ট্রাকের চারপাশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকতে দেখা যায় রক্তাক্ত নিথর দেহ।  লাশ আর রক্তে ভেসে যায় বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ের পিচঢালা পথ।  নিহত ও আহতদের জুতা-স্যান্ডেল ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে থাকে।  মুহূর্তের মধ্যে পুরো এলাকা ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন হয়ে যায়।  ভেসে আসে শত শত মানুষের আর্তচিৎকার। বেঁচে থাকার প্রানপণ চেষ্টারত মুমূর্ষুদের কাতর-আর্তনাদসহ অবর্ণনীয় মর্মান্তিক সেই দৃশ্য। ২১ আগস্টের রক্তাক্ত হামলায় ঘটনাস্থলেই নিহত হন ১৬ জন। পরে সব মিলিয়ে নিহতের সংখ্যা দাঁড়ায় ২৪ জনে।

আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে গেলেও তিনি আহত হন।  তার শ্রবণশক্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

You might also like