শিরোনাম:

‘শিশুবক্তা’ দুই দিনের রিমান্ডে

যুক্তরাষ্ট্রে আবারও বন্দুক হামলা, নিহত ৮

মিয়ানমারে জাতীয় ঐক্যের সরকার গঠন

অর্জিত স্বাধীনতাকে সমুন্নত রাখতে হবে: প্রধানমন্ত্রী

সিরাজগঞ্জে লকডাউনের বিধিনিষেধ না মানায় ৪০ জনের জরিমানা

প্রেসার লো হলে যা করবেন

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত : মার্চ ১৮, ২০২১

সোনারদেশ২৪: ডেস্কঃ

একটি বহুল আলোচিত স্বাস্থ্য সমস্যা হলো উচ্চ রক্তচাপ (হাই ব্লাড প্রেসার)। এর তুলনায় নিম্ন রক্তচাপ (লো ব্লাড প্রেসার) নিয়ে তেমন আলোচনা হয় না বললেই চলে। কিন্তু এই সমস্যাটিকেও অবহেলার সুযোগ নেই। লো ব্লাড প্রেসারকে হাইপোটেনশনও বলা হয়। সমস্যাটি অস্বস্তিকর উপসর্গ সৃষ্টি করে। এমনকি এটি জীবননাশেরও কারণ হতে পারে।

ব্লাড প্রেসারের রিডিং ৯০-৬০ থেকে ১২০-৮০ এর মধ্যে থাকলে স্বাভাবিক হিসেবে বিবেচনা করা হয়। কিন্তু ব্লাড প্রেসারের রিডিং ৯০/৬০ এর কম হলে সেটি হাইপোটেনশন হিসেবে ধরা হয়। এটি ধীরে ধীরে হার্টের কার্যক্ষমতা ধ্বংস করে দেয়। যে কারণে আপনার ব্লাড প্রেসারের রিডিং ৯০-৬০ এর কম দেখালে চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলা উচিৎ।

বিছানায় দীর্ঘ বিশ্রাম, শারীরিক পানিশূন্যতা, সংক্রমণ, মানসিক চাপ, দুশ্চিন্তা, গর্ভাবস্থা ও কিছু ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় ব্লাড প্রেসার কমে যেতে পারে। সমস্যাটির উল্লেখযোগ্য উপসর্গ হলো- মাথা ঘোরা, অজ্ঞান হওয়া, মনোযোগে সমস্যা, বমিভাব, ক্লান্তি, অলসতা, বুক ধড়ফড় এবং শ্বাসক্রিয়া ধীর বা কঠিন হওয়া। এখানে ব্লাড প্রেসার বাড়ানোর কিছু উপায় দেওয়া হলো।

পরিমাণ মেনে লবণ খান

আমাদের শরীরে প্রতিদিন পর্যাপ্ত পরিমাণে লবণ প্রয়োজন হয়। প্রতিদিন প্রয়োজনের চেয়ে কম লবণ খেলে ব্লাড প্রেসার কমে যেতে পারে। আবার বেশি লবণ খাওয়াও উচিত নয়। যুক্তরাষ্ট্রের ডিপার্টমেন্ট অব হেলথ অ্যান্ড হিউম্যান সার্ভিসেস এক গবেষণায় বলছে, দৈনিক ২,৩০০ মিলিগ্রামের বেশি লবণ খাওয়া উচিত নয়। নিয়মিত শরীরচর্চা করলে অথবা হাইপোটেনশনের উপসর্গে ভুগলে খাবারে লবণ বাড়িয়ে উপকার পেতে পারেন। ব্লাড প্রেসার বাড়াতে স্পোর্টস ড্রিংক, খাবার স্যালাইন অথবা সোডিয়াম-সুগার-পটাশিয়াম রয়েছে এমন পানীয় পান করতে পারেন।

অল্প অল্প খাবার খান

কিছু লোকের বেশি করে কার্বোহাইড্রেট সমৃদ্ধ খাবার খাওয়ার পর হঠাৎ করে দ্রুত রক্তচাপ কমে যেতে পারে। বিষয়টি পোস্টপ্রান্ডিয়াল হাইপোটেনশন নামে পরিচিত। এটি লো ব্লাড প্রেসারের একটি ধরন, যা অর্থোস্ট্যাটিক হাইপোটেনশনের ক্যাটাগরিতে পড়ে। এ ধরনের লো ব্লাড প্রেসারের একটি কার্যকরী চিকিৎসা হলো, সারাদিন অল্প অল্প করে লো কার্বোহাইড্রেটের খাবার খাওয়া। এছাড়া একবেলা থেকে অন্যবেলার খাবারের মাঝখানে স্বাস্থ্যকর স্ন্যাকস খাওয়ার চেষ্টা করুন। সারকথা হলো- যদি বুঝতে পারেন যে বেশি পরিমাণে খাবার খাওয়ার পর ব্লাড প্রেসার কমে যাওয়ার প্রবণতা রয়েছে, তাহলে নির্দিষ্ট সময়ান্তরে ঘন ঘন অল্প অল্প খাবার খেতে হবে।

ধীরে ধীরে অবস্থান পরিবর্তন করুন

বসা বা শোয়া থেকে দাঁড়ানোর পর মাথা ঘুরলে, ঝাপসা দেখলে অথবা জ্ঞান হারিয়ে ফেলছেন মনে হলে এটি সম্ভবত অর্থোস্ট্যাটিক হাইপোটেনশন। ডা. জেলবম্যানের মতে, এসব উপসর্গ প্রতিরোধের অন্যতম উপায় হলো অবস্থানের পরিবর্তন ধীরে ধীরে করা। শোয়া থেকে দ্রুত বসবেন না বা দাঁড়াবেন না। প্রথমে বিছানায় পা রেখে ধীরে ধীরে বসুন। এভাবে ৬০ সেকেন্ড অপেক্ষা করুন। তারপর বিছানা থেকে পা নামিয়ে এক-দুই মিনিট বসে থাকুন। অতঃপর ধীরে ধীরে দাঁড়ান।

অতিরিক্ত বালিশের ব্যবহার

লো ব্লাড প্রেসার প্রতিরোধের একটি সেরা উপায় হলো অতিরিক্ত বালিশের ব্যবহার। ডা. জেলবম্যান বলেন, ‘একটি বালিশের ওপর আরেকটি বালিশ রেখে ঘুমালে মাথার অবস্থান হার্ট লেভেলের ওপরে থাকে। এটা মাধ্যাকর্ষণের প্রভাব প্রতিহত করতে সাহায্য করে।

কফি বা পানি পান

বিশ্বাস করুন অথবা না করুন, এককাপ কফি পান করেই ব্লাড প্রেসার বাড়াতে পারবেন। অথবা এর পরিবর্তে কোলা বা ক্যাফেইনেটেড টি পান করেও অনুরুপ উপকার পেতে পারেন। গবেষণা অনুসারে, ক্যাফেইনযুক্ত পানীয় রক্তচাপ বাড়াতে ভূমিকা রাখে। অনেক হাইপোটেনশন এপিসোডের কারণ হলো শারীরিক পানিশূন্যতা। তাই লো ব্লাড প্রেসার এড়াতে প্রচুর পানি পানের গুরুত্বকে অস্বীকার করা যায় না। পানি পানের পরিমাণ বাড়ালে অথবা ডাবের পানির মতো ইলেক্ট্রোলাইট সমৃদ্ধ পানীয় পানে ব্লাড প্রেসার দ্রুত বাড়বে এবং ভবিষ্যতে হাইপোটেনশন প্রতিরোধ হবে।

কাঁচি কৌশল

যদি উপসর্গ দেখে বুঝতে পারেন হাইপোটেনশন হয়েছে, তাহলে ব্লাড প্রেসার দ্রুত বাড়াতে কাঁচি কৌশল অবলম্বন করতে পারেন। প্রথমে উরুদ্বয় ক্রস করে কাঁচির মতো করুন, তারপর এ অবস্থায় চেপে ধরুন। এটা ডা. জেলবম্যানের পরামর্শ। এছাড়া সমতলে শুয়ে গোড়ালিদ্বয় কিছুর ওপর রেখে হার্ট লেভেলের ওপর তুললেও ব্লাড প্রেসার বাড়বে।

কিছু পরিস্থিতি এড়িয়ে চলুন

জেনে রাখুন, মানসিক অবস্থার অবনতিও ব্লাড প্রেসার কমাতে পারে। অমূলক ভয়ভীতি, মানসিক চাপ, দুশ্চিন্তা ও অন্যান্য অপ্রীতিকর পরিস্থিতিতে টেম্পোরারি হাইপোটেনশন হতে পারে। তাই ব্লাড প্রেসার কমে যাওয়ার প্রবণতা থাকলে জটিল পরিস্থিতিতে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে এমন বিষয়ে নিজেকে না জড়ানোই ভালো।

পূর্ববর্তী সংবাদ পরবর্তী সংবাদ
সর্বশেষ সংবাদ
  • সর্বাধিক পঠিত