শিরোনাম:

আফগানিস্তানে তারাবির নামাজে গুলি, নিহত ৮

৩৬ লাখ কৃষক-শ্রমিককে আর্থিক সহায়তা দেবেন প্রধানমন্ত্রী

টানা তৃতীয় দিন দেশে করোনায় শতাধিক মৃত্যু

২৩ হাজার বন্দিকে মুক্তি দিল মিয়ানমার

‘লকডাউনে ১ কোটি ২৫ লাখ পরিবারকে খাদ্য সহায়তা দেবে সরকার’

হাসপাতালের ভেতরেই দালালদের ঘোরাফেরা

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত : জানুয়ারি ৮, ২০২১

সোনারদেশ২৪: ডেস্কঃ

২৫০ শয্যার নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালটি যেন দালালদেরই নিয়ন্ত্রণে।  এ হাসপাতালে সক্রিয় রয়েছে দালালদের একটি সিন্ডিকেট।

এই সিন্ডিকেটের টার্গেট দূর-দূরান্ত থেকে চিকিৎসা নিতে আসা রোগী ও তাদের স্বজন।  কম খরচে উন্নত চিকিৎসার প্রলোভন দেখিয়ে দালাল চক্র হাসপাতাল রোডে অবস্থিত বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিকে নিয়ে যায় রোগীদের। এমন চিত্র প্রতিদিনের।

সরেজমিনে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সকাল হতে না হতেই হাসপাতালে কর্তব্যরতদেরও আগে দালালরা উপস্থিত হন। জরুরি বিভাগের ভিতরে ও আশপাশে তারা অবাধে ঘোরাফেরা করেন। এরা বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক, ডায়াগনস্টিক সেন্টার অথবা ওষুধের দোকানের নিয়োগ করা লোক। কোনো রোগী এলেই শুভাকাঙক্ষী সেজে স্বজনদের সঙ্গে মিশে যান। তারপর তাদেরকে ফাঁদে ফেলেন। যদি জরুরি বিভাগের ভিতরে রোগীকে কব্জায় আনতে না পারেন তাহলে ভর্তি হয়ে ওয়ার্ডে যাওয়া পর্যন্ত দালালরা অপেক্ষা করেন। সেখানে গিয়ে দালালরা এমনভাবে তৎপর হয়ে ওঠেন, তাতে রোগীর স্বজনরা মুগ্ধ হয়ে যায়। এরপর দালালরা রোগীর স্বজনদের বোঝায় এখানে ভালো চিকিৎসা হবে না, নিয়মিত ডাক্তার আসে না। বাইরের হাসপাতালে গেলে উন্নত চিকিৎসা হবে। কল দিলেই ডাক্তার উপস্থিত হবে।

শুধুই তাই নয়, হাসপাতালের প্রত্যেকটি ওয়ার্ড ও ডাক্তারদের চেম্বারের সামনে দালালদের অবাধ বিচরণ রয়েছে। তারা পুরো হাসপাতাল চষে বেড়ায়।

অনেকেরই অভিযোগ, বিকেলের পর হাসপাতালের পূর্ব অংশ অর্থাৎ ডায়রিয়া ওয়ার্ড ও মর্গে যাওয়ার নির্জন স্থানে বসে গাঁজা সেবন করে দালালদের একটি দল। এটি চলে রাত পর্যন্ত বলে জানান তারা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক হাসপাতালের একাধিক কর্মকর্তা ও কর্মচারী জানান, দালালদের অপতৎপরতায় তারা নিজেরাও অতিষ্ঠ। কিন্তু ভয়ে কিছু বলতে পারছেন না।

স্থানীয় সংসদ সদস্য একরামুল করিম চৌধুরী স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য। তিনি গত ১২ ডিসেম্বর জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত জেলা স্বাস্থ্য বিষয়ক জরুরি সভায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে দালালদের বিরুদ্ধে অভিযান চালানোর জন্য নির্দেশ দেন। এরপরই ১৬ ডিসেম্বর ৩ দালালকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করা হয়।

এ বিষয়ে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক (চলতি দায়িত্ব) ডা. নূরুল আমিন জানান, দালালদের বিরুদ্ধে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের অবস্থান অত্যন্ত কঠোর। সাধারণ মানুষ যাতে দালালদের হাতে প্রতারিত হতে না পারে সেজন্য কর্তৃপক্ষ সজাগ রয়েছে। এর মধ্যে আমরা দালালদের একটি তালিকা প্রশাসনের কাছে দিয়েছি।

পূর্ববর্তী সংবাদ পরবর্তী সংবাদ
সর্বশেষ সংবাদ
  • সর্বাধিক পঠিত