শিরোনাম:

ঘুষ দিতে না পারায় মুভমেন্ট পাশসহ শতাধিক শ্রমিক আটক!

টিকিট না পেয়ে সোনারগাঁও হোটেলের সামনে সৌদিগামীদের বিক্ষোভ

হাসপাতালের ১১তলা থেকে লাফিয়ে পড়ে করোনা রোগীর আত্মহত্যা!

স্বর্ণের দাম বাড়ল

বনানী কবরস্থানে চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন কবরী

সালথায় তাণ্ডব: গ্রেফতার ১৩, আহত আরেকজনের মৃত্যু

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত : এপ্রিল ৭, ২০২১

সোনারদেশ২৪: ডেস্কঃ

ফরিদপুরের সালথা উপজেলার বিভিন্ন সরকারি অফিস ও থানা ঘেরাও, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগসহ তাণ্ডবের ঘটনায় মামলা দায়ের করেছে পুলিশ। মামলায় ৮৮ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরও ৪ হাজার জনকে আসামি করা হয়েছে। মঙ্গলবার (৬ এপ্রিল) রাতে সালথা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. মিজানুর রহমান বাদী হয়ে এ মামলাটি দায়ের করেন। তাণ্ডবের ঘটনায় মিরান মোল্যা (৩৫) নামে আহত আরও একজনের মৃত্যু হয়েছে। তিনি উপজেলার ভাওয়াল ইউনিয়নের দরজাপুরুরা গ্রামের আব্দুর রব মোল্যার ছেলে। বুধবার (৭ এপ্রিল) দুপুরে ঢাকার মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। এছাড়া এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ১৩ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ফরিদপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. জামাল পাশা। এর আগে এ ঘটনায় জুবায়ের হোসেন (১৮) নামে এক যুবক মারা যায়। মোট দুই যুবকের মৃত্যু হলো এই সহিংসতায়।

মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে ফরিদপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জামাল পাশা বলেন, উপজেলা পরিষদ ভবন, ভূমি অফিস, মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ও থানা এলাকায় তাণ্ডবের ঘটনায় ও সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে পুলিশ বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করেছে। মামলার এজাহারভুক্ত আসামিসহ ১৩ জনকে ইতোমধ্যে গ্রেফতার করা হয়েছে। বাকি আসামিদের দ্রুত গ্রেফতার করার জন্য অভিযান অব্যাহত রাখা হয়েছে।

গ্রেফতারকৃতরা হলেন মামলার এজাহারভুক্ত আসামি উপজেলার সোনাপুর ইউনিয়নের গোপালিয়া গ্রামের ক্বারী ইনছুর শেখের ছেলে মো. নুরু শেখ (১৮), বিনোকদিয়া গ্রামের করিম কাজীর ছেলে মো. সজিব কাজী (১৯), ইউসুফদিয়া গ্রামের শাহজাহান মাতুব্বরের ছেলে রাব্বি মাতুব্বর (১৯), মিনাজদিয়া গ্রামের আব্দুল মোতালেবের ছেলে মো. ইউনুস মাতুব্বর (৬০) ও গোপালিয়া গ্রামের সালাম মোল্যার ছেলে আমির মোল্যা (৩০)। অন্যরা হলেন ফুকরা গ্রামের গ্রামের সুলতান শেখের ছেলে আবুল কালাম শেখ (৩৫), রিপন শেখ (৩২), ইসরাইল মোল্যার ছেলে ইলিয়াস মোল্যা (২৭), চিলারকান্দা গ্রামের খালেক শেখের ছেলে শহিদুল শেখ (৩২), পিসনাইল গ্রামের গ্রামের ঝিলু ফকিরের ছেলে মো. রুবেল ফকির (২৫), সোনাপুর গ্রামের মিজানুর শেখের ছেলে মো. রাকিবুল ইসলাম (১৮) ও বিনোকদিয়া গ্রামের আইয়ুব মোল্যার ছেলে মো. সাইফুল ইসলাম (১৮)।

জেলা প্রশাসক অতুল সরকার জানিয়েছেন, সালথার তাণ্ডবের ঘটনা তদন্তে তিন সদস্যর দুটি কমিটি করা হয়েছে। এর একটিতে প্রধান করা হয়েছে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোছা. তাসলিমা আলীকে, অপর কমিটির প্রধান করা হয়েছে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মো. আসলাম মোল্যাকে। আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে এই দুই কমিটিকে তদন্ত প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।

এদিকে সালথার ওই রাতের ধ্বংসযজ্ঞ শেষে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলেও এলাকার অবস্থা এখনো থমথমে। উপজেলা পরিষদ জুড়ে এখন পড়ে আছে তাণ্ডবলীলার চিহ্ন। উপজেলা সদরের বাতাসে পোড়া গন্ধ, ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে ভাঙা কাঁচ আর আসবাবপত্রের টুকরা। মানুষের চোখে-মুখে আতঙ্কের ছাপ। টানা তিন ঘণ্টা তাণ্ডবে লণ্ডভণ্ড উপজেলা পরিষদ এলাকা। ঘটনাস্থল ও আশপাশের এলাকায় বিপুল সংখ্যক পুলিশ, র‌্যাব ও বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা আকরাম আলী বলেন, সোমবার রাতে চালানো তাণ্ডবের ঘটনা এখনও চোখে ভাসছে। স্থানীয় সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে।

স্থানীয় আরেকজন সাইফুল ইসলাম বলেন, সালথা দাঙ্গাপ্রবণ এলাকা হলেও এমন ঘটনা কখনো ঘটতে দেখিনি। এই ধরনের ভয়াবহ তাণ্ডব প্রথম দেখল সালথাবাসী। এ কারণে সবাই আতঙ্কের মধ্যে রয়েছেন।

ঘটনার ধ্বংসযজ্ঞ দেখতে আগামীকাল বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে আসার কথা রয়েছে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির একটি উচ্চ পর্যায়ের দল। কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি এমপির নেতৃত্বে সরেজমিনে তারা আসবেন ঘটনার বিস্তারিত জানতে।

উল্লেখ্য, গত সোমবার (৫ এপ্রিল) সন্ধ্যায় উপজেলার সোনাপুর ইউনিয়নের ফুকরা বাজারে লকডাউনের কার্যকারিতা পরিদর্শনে যান উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মারুফা সুলতানা খান হিরামণি। এ সময় সহকারী কমিশনারের উপস্থিতিতে মানুষ ছুটাছুটি করে। পরে স্থানীয়রা জড়ো হয়। সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে স্থানীয়দের কথা কাটাকাটির জেরে এ হামলার শুরু। পরে হেফাজতের জনৈক এক আলেমকে গ্রেফতার করা হয়েছে, এমন গুজব ছড়িয়ে সন্ধ্যা ৭টা থেকে রাত ১১ পর্যন্ত কয়েক হাজার মানুষ উপজেলা চত্বরে দেশীয় অস্ত্র ঢাল-কাতরা ও লাঠিসোটা নিয়ে প্রবেশ করে বিভিন্ন সরকারি দফতর ও থানায় এই তাণ্ডব চালায়। মধ্যযুগীয় কায়দায় হামলাকারীরা তিন ঘণ্টাব্যাপী ধ্বংসযজ্ঞ চালায়, তাদের এই হামলায় রক্ষা পায়নি উপজেলা পরিষদ চত্বরের গাছপালা ও বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল। এতে সালথা উপজেলা সদর এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। তাণ্ডব চলাকালে ইউএনও-এসিল্যান্ডের দুটি সরকারি গাড়ি সম্পুর্ণ পুড়িয়ে দেয় তারা। এছাড়াও সাংবাদিকের একটি মোটরসাইকেলসহ তিনটি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করা হয় ও দুটি মোটরসাইকেল পুড়িয়ে দেয়া হয়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে শট গানের ৫৮৮ রাউন্ড গুলি, ৩২ রাউন্ড গ্যাস গান, ২২টি সাউন্ড গ্রেনেড এবং রাইফেলের ৭৫ রাউন্ড গুলি ছুড়ে।

পূর্ববর্তী সংবাদ পরবর্তী সংবাদ
সর্বশেষ সংবাদ
  • সর্বাধিক পঠিত