শিরোনাম:

করোনার উচ্চ ঝুঁকিতে ঢাকার ১৭ থানা

‘পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত দূরপাল্লার পরিবহন বন্ধ থাকবে’

লকডাউনে বৃহত্তর স্বার্থে ঘরে থাকার আহ্বান কাদেরের

মিতা হকের মৃত্যুতে রাষ্ট্রপতি-প্রধানমন্ত্রীর শোক

না.গঞ্জে সহিংসতাকারীদের ধরতে পুলিশের বিশেষ কৌশল!

মায়ের মরদেহ নিয়ে তিনদিন ঘরবন্দি সন্তানেরা

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত : মার্চ ২৩, ২০২১

সোনারদেশ২৪: ডেস্কঃ

মায়ের মরদেহ নিয়ে তিনদিন যাবত ঘরবন্দি ছেলে-মেয়েরা। দাফন না করে মরদেহ নিয়ে ঘুমিয়েছেন ঘরে।

মৃত মায়ের মরদেহ ঘরে রেখেই চলছিল তাদের জীবন যাপন। এমন ঘটনা ঘটেছে সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলা সদরের রাজনপুর গ্রামে। ঘটনাটি জানাজানির পর এলাকাজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়। খবর পেয়ে পুলিশ রাতেই ওই নারীর মরদেহ উদ্ধার করে। পরে নিহতের স্বজন ও স্থানীয় জনতার সহায়তায় দাফন করা হয়।

স্থানীয়রা জানান, উপজেলা সদরের ধনাঢ্য ব্যবসায়ী ছানা মিয়া গত ২ জানুয়ারি মারা যান। স্ত্রীর সঙ্গে তেমন বনিবনা ছিল না। যে কারণে ছানা মিয়ার স্ত্রী চল্লিশোর্ধ জেসমিন বেগম এক ছেলে ও ৩ মেয়েকে নিয়ে সিলেট নগরে বসবাস করতেন। অসুস্থ অবস্থায় গত শনিবার (২০ মার্চ) নগরের ইউমেন্স মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে তিনি মারা যান।

ওইদিন গভীর রাত ৩টার দিকে অ্যাম্বুলেন্স যোগে মরদেহ গ্রামের বাড়িতে নিয়ে যান ছেলে-মেয়েরা। এরপর থেকেই তারা ঘরবন্দি ছিলেন। বাড়ির আশপাশের লোকজনও জানতেন না ঘরের ভেতর মরদেহ রাখা!

স্থানীয়রা আরো বলেন, মঙ্গলবার (২৩ মার্চ) সন্ধ্যারাতে অ্যাম্বুলেন্স চালক টাকা চাইতে বাড়িতে গেলে ঘরে মরদেহ রাখার ঘটনাটি জানাজানি হয়। পরে বাড়ির আত্মীয় স্বজনরা থানায় খবর দিলে পুলিশ এসে মরদেহ উদ্ধার করে।

বাড়ির লোকজন জানান, সা্ংসারিক জীবনে ছানা মিয়ার সঙ্গে তার স্ত্রীর দূরত্ব থাকলেও প্রায় অর্ধকোটি টাকার সম্পদ বিক্রি করে সন্তানদের লেখাপড়ার খরচ দিয়ে গেছেন। কিন্তু তারাও ঠিকমতো পড়ালেখা করতে পারেনি। আর মরদেহের সঙ্গে একই ঘরে বসবাসের বিষয়টি সন্তানদের মানসিক সমস্যা হিসেবে দেখছেন তারা। কেননা, তারাও জানতেন ঘরে লোকজন আছে। কিন্তু ডাকাডাকি করলেও জবাব দিতেন, কিন্ত দরজা খুলতেন না।

এ ঘটনার পর মৃতের ছেলে সনি, মেয়ে সুমা, উমা ও ইমাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ। তারা পুলিশকে জানায়, সাংসারিক জীবনে তার বাবা-মায়ের মধ্যে দূরত্ব ছিল। বাপ-চাচারা ৫ ভাই। বাবা আগেই মারা গেছেন। মাও মারা গেছেন। সম্পদের জন্য চাচারা যদি মারধর করে বের করে দেন, এজন্য তারা মায়ের মৃত্যুর বিষয়টি কাউকে জানাননি। এমনকি দাফন করতে না পারায় মরদেহ ঘরে রেখে দেন।

ফেঞ্চুগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত (ওসি) শাফায়াত হোসেন বলেন, ওই নারীর স্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে। হাসপাতালের দেওয়া মৃত্যুসনদও রয়েছে। তবে মৃতের সঙ্গে সন্তানদের ঘুমানোর বিষয়টি অস্বাভাবিক। যদিও তারা সুস্থ আছেন। মানসিক সমস্যার কারণে তারা এমনটি করতে পেরেছে।

এরপর রাতে পঞ্চায়েতের সঙ্গে আলোচনার পর মরদেহ দাফন করা হয়। আর স্বাভাবিক মৃত্যুর কারণে কোনো আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।

পূর্ববর্তী সংবাদ পরবর্তী সংবাদ
সর্বশেষ সংবাদ
  • সর্বাধিক পঠিত