শিরোনাম:

আফগানিস্তানে মসজিদে বোমা বিস্ফোরণে নিহত ১২

ডিএনসিসি হাসপাতালে করোনার ‘ভারতীয় ভ্যারিয়েন্ট’ রোগী শনাক্ত

গাড়ি কিনতে দেড় লাখ টাকায় সন্তান বিক্রি!

জয়ার ‘ম্যাংগো শাড়ি’

বিভিন্ন অধিদপ্তরে জনবল নিয়োগে পিএসসির বিজ্ঞপ্তি

শপিংমল-দোকান খুলছে কাল

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত : এপ্রিল ২৪, ২০২১

শেয়ার করুন

সোনারদেশ২৪: ডেস্কঃ

সারা দেশে আগামীকাল রোববার (২৫ এপ্রিল) থেকে শপিংমল ও দোকানপাট খোলা রাখা যাবে। সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত দোকানপাট ও শপিংমল খোলা থাকবে। এ বিষয়ে গতকাল শুক্রবার প্রজ্ঞাপন জারি করেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। তবে ব্যবসায়ী এবং ক্রেতাদের শপিংমল এবং দোকানপাটে যেতে মুভমেন্ট লাগবে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়। প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়েছে, স্বাস্থ্যবিধি মেনে দোকানপাট খোলা রাখা যাবে। স্বাস্থ্যবিধি মানার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট বাজার বা সংস্থার ব্যবস্থাপনা কমিটি যথাযথ ব্যবস্থা নেবে।

করোনাভাইরাসের সংক্রমণরোধে সারা দেশে দ্বিতীয় দফায় লকডাউন শুরু হয় বৃহস্পতিবার থেকে। আগামী ২৮ এপ্রিল পর্যন্ত এটি চলবে।

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে সরকার প্রথমে ৫ এপ্রিল থেকে সাত দিনের জন্য গণপরিবহন চলাচলসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ জারি করেছিল। পরে তা আরও দুদিন বাড়ানো হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না আসায় ১৪ থেকে ২১ এপ্রিল পর্যন্ত আরও কঠোর বিধিনিষেধ দিয়ে ‘সর্বাত্মক লকডাউন’ শুরু হয়। লকডাউনে সরকারি, আধা সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি অফিস, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। তবে বিমান, সমুদ্র, নৌ ও স্থলবন্দর এবং এ-সংক্রান্ত অফিসগুলো এই নিষেধাজ্ঞার আওতার বাইরে। প্রথমে ব্যাংক বন্ধের ঘোষণা দিলেও পরে তা আবার খোলার সিদ্ধান্ত হয়। গতকাল থেকে খোলা হয় আর্থিক প্রতিষ্ঠানও।

শিল্পকারখানাগুলো নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় চালু আছে। ওষুধের দোকান এবং বিদ্যুৎ-পানি-গ্যাস, হাসপাতাল-ক্লিনিক, সিটি করপোরেশনসহ জরুরি সেবার কর্মীরা ছিলেন নিষেধাজ্ঞার বাইরে। নির্ধারিত সময়ে কাঁচাবাজার খোলার অনুমতি থাকলেও অতিরিক্ত সময়ে কেনা-বেচায় বাধা দেওয়া হয়নি, রমজান মাসে ইফতার বিক্রিতেও সুযোগ দেওয়া হয়েছে অঘোষিতভাবে। গণপরিবহন বন্ধ থাকলেও কৃষি পণ্য ও শিল্পপণ্য বহনকারী যানবাহন চলাচলও অনুমতি ছিল সাধারণ ও সর্বাত্মক লকডাউনের পুরো সময়জুড়ে।

ব্যবসায়ীরাও রোববার খোলার আশায় ছিলেন : চলমান লকডাউনের কারণে ঈদকেন্দ্রিক ব্যবসা নিয়ে দুশ্চিন্তায় ছিলেন ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীরা। তারা স্বাস্থ্যবিধি মেনে দোকানপাট ও বিপণিবিতান খুলে দেওয়ার দাবি জানিয়ে আসছেন। এমন পরিস্থিতিতে সরকার দোকানপাট ও শপিংমল খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

গত বুধবার বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতির সভাপতি হেলাল উদ্দিন বলেছিলেন, ‘আমরা প্রধানমন্ত্রীর কাছে আবেদন জানিয়েছি। আমরা মনে করি ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের অভিভাবক হচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী। সেই জন্য আমরা কখনো ওনার কাছে আবেদন করে খালি হাতে ফেরত আসিনি। আমাদের চোখে মুখে শুধু বালুচর। আমাদের সব ইনভেস্টমেন্ট এখন নষ্ট হওয়ার পথে। সেই ক্ষেত্রে আমরা আশা করতেছি আগামী রোববার প্রধানমন্ত্রীর দফতর থেকে একটা সুসংবাদ পাব, যাতে আমরা সোমবার দোকাপাট খুলতে পারি।’

দোকান ও শপিংমল খুলে দেওয়া হলে ব্যবসায়ীরা শতভাগ স্বাস্থ্যবিধি মেনে ব্যবসা করবে বলে মনে করছেন হেলাল উদ্দিন।

মুভমেন্ট পাস লাগবে কি না, তা স্পষ্ট নয় : মুভমেন্ট পাস ছাড়া কেউ দোকান বা শপিংমলে যেতে পারবে কি না এ বিষয়ে এখনও নতুন করে কোনো তথ্য জানায়নি পুলিশ সদর দফতর। এছাড়া শপিংমল খোলার বিষয়ে জারি হওয়া প্রজ্ঞাপনে এ বিষয়ে কোনও নির্দেশনাও দেওয়া হয়নি। গত ১৪ এপ্রিল থেকে শুরু হওয়া কঠোর লকডাউনে মুভমেন্ট পাস ছাড়া জনসাধারণকে বাসা থেকে বের হতে নিষেধ করেছিল পুলিশ। যারাই বের হয়েছেন, তারাই আইনি বাধার সম্মুখীন হয়েছিলেন। শপিংমল খুললেও সেই নিয়মই কার্যকর থাকবে কি না, এ বিষয়ে গণমাধ্যমকে এখনো বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।

গণপরিবহন নেই, ব্যক্তিগত গাড়ি মালিকরাই ক্রেতা : দোকান ও শপিংমল অনেক দিন বন্ধ থাকায় অনেকেরই কেনাকাটা জমে আছে। তাছাড়া সামনে ঈদ-উল-ফিতর। সে উপলক্ষেও কেনাকাটার হিড়িক পড়তে পারে। শপিংমল খুলে দেওয়ার ঘোষণা এলেও যাওয়া-আসা কীভাবে করবেন, তা ভাবতে হচ্ছে সাধারণ ক্রেতাদের ক্রেতাদের। সবাইর তো আর ব্যক্তিগত গাড়ি নেই। রোববারের আগে গণপরিবহনের ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত গাড়ির মালিকরাই হতে পারেন প্রধান ক্রেতা। তারাও শপিংমলে যেতে রাস্তায় ঝামেলায় পড়বেন কি না, এই অনিশ্চয়তাও আছে। তবে মলগুলোর আশপাশের ক্রেতারা পায়ে হেঁটে শপিং মলে যেতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জিজ্ঞাসাবাদে পড়বেন কি না, সেটিও এখনও খোলাসা হয়নি।

মার্কেট যেহেতু খুলে দিয়েছে, স্বাস্থ্যবিধি মেনে গণপরিবহন খুলে দিক-এমনটা চান পরিবহন শ্রমিক ও মালিকরা। তাদের বিষয়ে কোনো ঘোষণা না এলে গণপরিবহন চালু দাবি কাল-পরশু আনুষ্ঠানিকভাবে আসতে পারে বলে খবর পাওয়া যাচ্ছে।

শপিংমল খোলার খবরে ঝুঁকি নিয়ে ঢাকার পথে মানুষ : শপিংমল খোলার খবরে ঢাকার পথে আসছেন দোকানিসহ সাধারণ কর্মজীবী মানুষ। ঢাকার প্রবেশ পথ যাত্রাবাড়ী, গাবতলী, আব্দুল্লাহপুরে মানুষের ভিড় বাড়ছে। সন্ধ্যার দিকে আশপাশের জেলাগুলোর মানুষ এসে পোঁছেছেন। তবে দূরের মানুষেরাও রওনা দিয়েছেন বলে খবর পাওয়া যাচ্ছে।

যাত্রীদের সঙ্গে আলাপ করে জানা যায়, লকডাউনের আগে বাড়িতে গেলেও বসে বসে খেতে হয়েছে। হঠাৎ করে বাড়িতে এসে তেমন কোনো কাজ পাননি তারা। জমানো টাকাও প্রায় শেষের পথে। সামনে আবার ঈদ। তখন বাড়তি খরচের ধাক্কা। সব মিলিয়ে বাড়িতে থাকা সমীচীন মনে করছেন না তারা। ফলে ঢাকামুখী হচ্ছেন আবার। লকডাউনের দ্বিতীয় সপ্তাহের তৃতীয় দিন শুক্রবার (২৩ এপ্রিল) সকাল থেকেই ঢাকামুখী যাত্রীদের ভিড় সদরঘাটে। যাত্রীদের বেশিরভাগই লকডাউনের আগে বাড়ি ফিরেছিলেন।

এদিকে গণপরিবহন বন্ধ থাকায় থ্রি-হুইলার, মোটরসাইকেলে চেপে ভেঙে ভেঙে ঢাকা আসছেন যাত্রীরা। গুনতে হয়েছে বাড়ি ফেরার মতো বাড়তি ভাড়া। বিআইডব্লিউটিসির বাংলাবাজার ফেরিঘাটের ব্যবস্থাপক সালাহউদ্দিন জানান, ঘাটে গাড়ির তেমন চাপ নেই। ফেরি চলাচল স্বাভাবিক আছে। তবে ঢাকাগামী যাত্রীদের কিছুটা রয়েছে।

পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ
সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত