শিরোনাম:

নিলামে উঠেছে ম্যারাডোনার প্রথম বিশ্বকাপ জার্সি

আজ প্রিন্স ফিলিপের শেষকৃত্য

বিশ্বকাপ দেখতে যাওয়া সবাইকে টিকা দেবে কাতার!

হেফাজতের ঢাকা মহানগর সভাপতি আল্লামা জুনায়েদ গ্রেফতার

আরও এক সপ্তাহ বাড়তে পারে লকডাউন

যাত্রীসেবার মান বাড়াতে বিমানের প্রতি আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত : মার্চ ১৪, ২০২১

সোনারদেশ২৪: ডেস্কঃ

নতুন ক্রয়কৃত বিমানগুলোর সুন্দর সুরক্ষা ও মানসম্মত যাত্রীসেবা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

আজ রবিবার (১৪ মার্চ) প্রধানমন্ত্রী উড়োজাহাজ আকাশতরী ও শ্বেতবলাকা উদ্বোধন অনুষ্ঠানে এ আহ্বান জানান। গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সে যুক্ত হন প্রধানমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, এটা আমাদের দেশ। লাখ শহীদের রক্তের বিনিময়ে এদেশ পেয়েছি। এ দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করা সকলের দায়িত্ব। আমাদের যাত্রীসেবা যত উন্নত করতে পারব, দেশের লাভ হবে। সেটাই আমরা চাই।

তিনি বলেন, এ পর্যন্ত বিমানবহরে ১৬টি নিজস্ব উড়োজাহাজ ক্রয় করা হয়েছে। সর্বমোট আমাদের ২১টি উড়োজাহাজ আছে। সেগুলো যেন সুরক্ষিত থাকে। যাত্রীসেবার মান যেন উন্নত হয়, সেদিকে বিশেষভাবে দৃষ্টি দেওয়ার জন্য আপনাদের কাছে আহ্বান থাকল।’

শেখ হাসিনা বলেন, মার্চ মাস, আমাদের অর্জনের মাস। আমাদের মহান স্বাধীনতার মাস। বাঙালি জাতির জীবনে এটা একটা গুরুত্বপূর্ণ মাস। এ মাসে বিমানবহরে দুটি ড্যাশ-৮ উড়োজাহাজ উদ্বোধন হচ্ছে। জাতির পিতা বিমানের জন্য একটি আন্তর্জাতিক মানের প্রশিক্ষণ কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করেন। বিমানের পাশাপাশি ডিপার্টমেন্ট অব সিভিল এভিয়েশন প্রতিষ্ঠা করেন, যা আজকে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ।

’৭৫-এর ১৫ আগস্ট আমাদের জাতীয় জীবনে কলঙ্কময় অধ্যায় উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতির পিতাকে শুধু হত্যা না, ২১টি বছর এ দেশের মানুষের ভাগ্য নিয়ে ছিনিমিনি খেলা হয়েছে। আমাদের বিমানগুলোর কী যে দুর্দশা ছিল। ২১ বছর পর আওয়ামী লীগ সরকারে এসে আমরা চেষ্টা করেছি বিমানবন্দরের উন্নয়ন করার। বিমানবন্দরের কোনো বোডিং ব্রিজ ছিলে না। যতটুকু উন্নতি, ভিত্তিটা আমরাই করে দিয়ে যাই।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের উড়োজাহাজ শুধু আমাদের দেশ তো না, সারাবিশ্বে যখন ঘুরে বাংলাদেশেরই প্রতিনিধিত্ব করে। সে জন্য সব সময় প্রচেষ্টা ছিল বিমান যেন ভালোভাবে গড়তে পারি।

শেখ হাসিনা বলেন, এটা অত্যন্ত নিরাপদ ও আধুনিক প্রযুক্তির। যারা চিন্তা করেন তাদের জন্য এটা নিরাপদ হবে। চিন্তার বিষয় কিছু থাকবে না।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, হজ যাত্রীদের জন্য আগে বাইরে থেকে বিমান নিয়ে আসতে হতো। এখন আর সেটার প্রয়োজন হবে না, আমাদের নিজস্ব বিমানেই এখন আমরা হাজিদের খুব ভালোভাবে পাঠাতে পারি এবং ফেরত আনতে পারি।

তিনি বলেন, আজকালকার যুগ, আপনারা জানেন গ্লোবাল ভিলেজ হয়ে গেছে। প্রযুক্তির ব্যবহার—এখন যারাই বিমানে যায় ওয়াইফাই কানেকশন, ইন্টারনেট সার্ভিস সবাই চায়। নতুন বিমানগুলোতে এ ধরনের সুযোগ আমরা রেখেছি।

সরকারপ্রধান বলেন, ২০০৯ সালে আমরা যখন সরকার গঠন করি, তার পর থেকে ১২টি উড়োজাহাজ সংগ্রহ করে দিয়েছি। সব আধুনিক, কোনো ভাঙাচোরা পুরাতন না, সম্পূর্ণ নতুন। আমার বিমান নিয়ে এসেছি এয়ারলাইন্সকে উন্নত করার জন্য। কিন্তু আমাদের দুর্ভাগ্য করোনাভাইরাস এসে আমাদের সব সুযোগগুলো নষ্ট করে দেয়।

শেখ হাসিনা বলেন, আমরা কক্সবাজার বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক মানের করতে কাজ শুরু করে দিয়েছি। শাহজালাল বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল আমরা তৈরি করে দিচ্ছি— একটা আধুনিক টার্মিনাল আমরা করে দিচ্ছি। যাত্রীসেবা আরও উন্নত করতে হবে।

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর প্রান্তে উপস্থিত ছিলেন- বেসামরিক বিমান ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী মাহবুব আলী, বেসামরিক বিমান ও পর্যটন সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি, বিমান সচিব, বিমান পরিচালনা বোর্ডের চেয়ারম্যান, ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রমুখ।

উদ্বোধন হওয়া উড়োজাহাজ দুটি বাংলাদেশ ও কানাডা সরকারের মধ্যে জিটুজি ভিত্তিতে কেনা তিনটি উড়োজাহাজের মধ্যে দ্বিতীয় ও তৃতীয়।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই উড়োজাহাজ দুটির নাম রেখেছেন। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস অত্যাধুনিক ড্যাশ ৮-৪০০ দুটি উড়োজাহাজ বহরে যুক্তকরণের মাধ্যমে অভ্যন্তরীণ ও স্বল্প দূরত্বের আন্তর্জাতিক রুটগুলোতে ফ্লাইট ফ্রিকোয়েন্সি বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে। এতে যাত্রীসাধারণ অতি সহজেই তাদের নির্দিষ্ট গন্তব্যে পৌঁছতে পারবেন।

কানাডার বিখ্যাত এয়ারক্রাফট নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ডি হ্যাভিল্যান্ড নির্মিত অত্যাধুনিক ৭৪ সিট সংবলিত নতুন ড্যাশ ৮-৪০০ উড়োজাহাজ। ড্যাশ-৮ বিমানটি খুব ছোট রানওয়ে থেকে উড্ডয়নক্ষম ও স্বল্প খরচে নিরবচ্ছিন্ন ও মসৃণ উড্ডয়নের জন্য বিখ্যাত। এই মডেলের বিমানগুলোতে কেবিন নয়েজ সাপ্রেশনের ব্যবস্থা রয়েছে। পরিবেশবান্ধব এবং অধিক সুযোগ-সুবিধা সমৃদ্ধ এ উড়োজাহাজে রয়েছে হেপা ফিল্টার প্রযুক্তি যা মাত্র চার মিনিটেই ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাসসহ অন্যান্য জীবাণু ধ্বংস করার মাধ্যমে উড়োজাহাজের অভ্যন্তরের বাতাসকে সম্পূর্ণ বিশুদ্ধ করে যা যাত্রীদের যাত্রাকে করে তোলে অধিক নিরাপদ।

এ ছাড়া এ উড়োজাহাজে বেশি লেগস্পেস, এলইডি লাইটিং এবং প্রশস্ত জানালা থাকার কারণে ভ্রমণ হয়ে উঠবে অধিক আরামদায়ক ও আনন্দময়।

পূর্ববর্তী সংবাদ পরবর্তী সংবাদ
সর্বশেষ সংবাদ
  • সর্বাধিক পঠিত