শিরোনাম:

‘শিশুবক্তা’ দুই দিনের রিমান্ডে

যুক্তরাষ্ট্রে আবারও বন্দুক হামলা, নিহত ৮

মিয়ানমারে জাতীয় ঐক্যের সরকার গঠন

অর্জিত স্বাধীনতাকে সমুন্নত রাখতে হবে: প্রধানমন্ত্রী

সিরাজগঞ্জে লকডাউনের বিধিনিষেধ না মানায় ৪০ জনের জরিমানা

ভোলার বানভাসি এলাকায় মানবিক বিপর্যয়

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত : আগস্ট ২৩, ২০২০

সোনারদেশ২৪: ডেস্কঃ

জোয়ারের চাপে তৃতীয় দিনের মত তলিয়ে গেছে ভোলার বিস্তীর্ন এলাকা। ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে রাস্তাঘাট, ভেসে গেছে পুকুর ও মাছের ঘের।

নষ্ট হয়েছেপাঁচ শতাধিক হেক্টর ফসলি জমি। এতে প্রায় কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে।

এক দিকে নদীর পানি বৃদ্ধি অন্য দিকে দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে পানিবন্দী হয়ে দুর্বিষহ দিন কাটাচ্ছেন বানভাসি মানুষ। দেখা দিয়েছে মানবিক বিপর্যয়।

সরেজমিন দেখা গেছে, ভোলা সদরের পূর্ব ইলিশা ইউনিয়নের মুরাদসফিউল্লা, রামদাসপুরকান্দি, বাঘার হাওলা, পূর্বচর ইলিশা ও সোনাডগী গ্রামের চারদিক ডুবে আছে, জোয়ারে পানিতে তলিয়ে গেছে বসত ঘর, রাস্তাঘাট অন্যদিকে পানির নিচে কৃষকের ফসলের ক্ষেতে পাকা আউশ ধান, আমনের বীজতলা, রোপা আমন ও সবজির ক্ষেত তলিয়ে রয়েছে। এতে প্রায় কোটি টাকার ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। সহায় সম্বল হারিয়ে অসহায় হয়ে পড়েছে কৃষকরা। একই অবস্থা পুকুর ও মাছের ঘেরেও।

পানিবন্দী এলাকার নাছিমা, নুপুর মিজান ও আরজু সহ অন্যরা জানান, তিনদিন ধরে জোয়ারের পানিতে তাদের বসত ঘর ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। অনেকের পুকুর ও ঘেরে মাছ ভেসে গেছ। রোপা আমন ও আউশের ক্ষতি হয়েছে।

প্লাবিত এলাকার ফসলের ক্ষতির নির্ধারনে কাজ করছে কৃষি বিভাগ। ভোলা সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো: রিয়াজউদ্দিন বলেন, জোয়ারের পানি সাড়ে ৫শ হেক্টর জমির ফসল তলিয়ে গেছে। পনি কমে গেলে পরবর্তিতে ক্ষয়ক্ষতির তালিকা হবে। তবে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে কোটি টাকার ফসলের ক্ষতি হতে পারে।

এদিকে জোয়ারের পানিতে ইলিশা ইউনিয়নের কাচা-পাকা রাস্তার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এতে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছে এলাকাবাসী।

শুধু তাই নয়, দুর্গত এলাকায় এখন খাদ্য ও বিশুদ্ধ সংকট। জোয়ারের পানিতে বানভাসি এলাকা যেন মানবিক বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। কিছুতেই ঘুরে দাড়াতে পারছে না বানভাসি মানুষ।
পাউবো বাঁধ মেরামতের চেস্টা করলেও ৩ দিনেও মেরামত সম্ভব হয়নি। এতে জলমগ্ন পুরো জনপদ।

এ ব্যাপারে পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মো: আবদুল হান্নান খান বলেন, ক্ষতিগ্রস্থ বাঁধে জিও ব্যাগ, জিও টিউব এবং বাশ ও বল্লা দিয়ে মেরামতের কাজ করছে। পানি পুরোপুরি নেমে গেলে পরবর্তীতে বাঁধ নির্মাণ করা হবে।

ভোলা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মিজানুর রহমান বলেন, জোয়ারে ক্ষতিগ্রস্থদের ২০ মেট্রিক টন চাল ও পাঁচ হাজার প্যাকেট শুকনো খাবার বিতরণ করা হয়েছে।

আগামী দু’ একদিনের মধ্যে ভাঙ্গা বাঁধ মেরামতের কাজ শেষ হবে। এদিকে ইলিশা ইউনিয়নের মতো জেলার বোরহানউদ্দিন ও দৌলতখান উপজেলায় চার কিলোমিটার বাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত। আর তাই সেখানকার ২০ টি গ্রাম এখনো পানির নিচে।

পূর্ববর্তী সংবাদ পরবর্তী সংবাদ
সর্বশেষ সংবাদ
  • সর্বাধিক পঠিত