শিরোনাম:

নারায়ণগঞ্জে গ্যাস বিস্ফোরণে দগ্ধ ২

মধ্যরাতে বঙ্গবন্ধু সেতু পশ্চিম মহাসড়কে তীব্র যানজট

মাঠে গড়াচ্ছে পিএসএলের বাকি অংশ

যুক্তরাষ্ট্রকে সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি ইসরায়েলের

মামুনুলের আরেক ‘স্ত্রীর’ সন্ধান চেয়ে ভাইয়ের জিডি

আবারো ক্যাসিনো ব্যবসায় নামতে মরিয়া হোতারা!

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত : সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২০

সোনারদেশ২৪: ডেস্কঃ

গত বছর ১৮ সেপ্টেম্বর ক্যাসিনো বিরোধী অভিযান শুরু হয় ঢাকাসহ দেশব্যাপী। প্রথম দিনই রাজধানীর ফকিরাপুলের ইয়ংমেনস ক্লাবে অভিযান চালায় র‍্যাব। একে একে গ্রেফতার করা হয় প্রভাবশালী রাজনীতিক, জনপ্রতিনিধিসহ অনেককে। র‌্যাবের পক্ষ থেকে তখন বলা হয়, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড, চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, আধিপত্য বিস্তার ও দখলদারিত্বের সুনির্দিষ্ট অভিযোগে তাদের গ্রেফতার করা হচ্ছে। একের পর এক অভিযানে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে মতিঝিল ক্লাব পাড়ায়। এরপর এক সময় বন্ধ হয়ে যায় এই অভিযান।

ঠিক এক বছর পরে। রাজধানীর মতিঝিলসহ কয়েকটি এলাকায় ক্যাসিনোসহ জুয়ার কারবার আবার শুরু হয়েছে। কৌশল পরিবর্তন করে, ছোট পরিসরে বাসা-বাড়িতে চলছে এসব জুয়ার আসর। সঙ্গে যোগ হয়েছে অনলাইন ক্যাসিনো। দেশি-বিদেশি বিভিন্ন ডোমেইন থেকে ‘অনলাইন ক্যাসিনো’ চলছে। গোয়েন্দা সংস্থাগুলো এমন তথ্য পেয়ে কারবারিদের ধরার চেষ্টা করছে।

এদিকে সে সময়ে অভিযানের কারণে যারা গা ঢাকা দিয়েছিলেন, গ্রেফতার এড়াতে পাড়ি জমিয়েছিলেন বিভিন্ন দেশে, তাদের অনেকেই ইতিমধ্যে দেশে ফিরে এসেছেন। নিজেদের হারানো সেই সাম্রাজ্য ফিরে পেতে নিজেদেরকে আবার নতুন করে তৈরি করছেন। কেউ কেউ মরিয়া হয়ে উঠেছেন ব্যবসায় নামতে বলে তথ্য আছে গোয়েন্দার সংস্থাদের কাছে।

ক্যাসিনোবিরোধী প্রথম অভিযানের দিন সন্ধ্যায় যুবলীগ নেতা খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়াকে গ্রেফতার করা হয়। এর পর একে একে গ্রেফতার করা হয় যুবলীগের আরো অনেক নেতাকে। তাদের মধ্যে রয়েছেন এসএম গোলাম কিবরিয়া শামীম ওরফে জিকে শামীম, মো. লোকমান হোসেন ভূঁইয়া, ইসমাইল চৌধুরী সম্রাট, সম্রাটের সহযোগী এনামুল হক আরমান প্রমুখ। পরে তাদের যুবলীগ থেকে বহিষ্কারও করা হয়। এছাড়া মোহাম্মদ শফিফুল আলম ফিরোজ, অনলাইন ক্যাসিনোর প্রধান সমন্বয়কারী সেলিম প্রধান, ওয়ার্ড কাউন্সিলর হাবিবুর রহমান মিজান, আলোচিত কাউন্সিলর তারেকুজ্জামান রাজীব এবং ৩৯ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও আওয়ামী লীগ নেতা ময়নুল হক ওরফে মনজুকেও গ্রেফতার করা হয়।

গত বছর শুরু হয় ক্যাসিনো বিরোধী অভিযান


এভাবে প্রায় তিন মাস ক্যাসিনো বিরোধী মোট ৪৯টি অভিযান পরিচালিত হয়। এর মধ্যে ৩২টি র‍্যাব এবং ১৭টি অভিযান পুলিশ পরিচালনা করে। এসব অভিযানে ২৭৫ জনকে গ্রেফতার করা হয়। এর মধ্যে ঢাকায় ২২২ জন এবং ঢাকার বাইরে ৫৩ জন।

সে সময় ইয়ংমেনস ক্লাব ছাড়াও ক্যাসিনো বিরোধী অভিযান চালানো দেশের আলোচিত ক্লাবের মধ্যে রয়েছে- মতিঝিলের ঢাকা ওয়ান্ডারার্স ক্লাব, গুলিস্তানের মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ক্রীড়াচক্র, কলাবাগান ক্রীড়াচক্র, ধানমন্ডি ক্লাব, ফু-ওয়াং ক্লাব, চট্টগ্রামের মুক্তিযোদ্ধা ক্লাব, আবাহনী ক্লাব, মোহামেডান ক্লাব। এছাড়া বনানীর গোল্ডেন ঢাকা বাংলাদেশসহ বেশ কয়েকটি ক্যাসিনোতে অভিযান পরিচালনা করা হয়।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সূত্র জানায়, অভিযানের সময় অনেকের নাম আলোচনায় এলেও বিদেশে পালিয়ে যাওয়ায় কিংবা দেশেই গা ঢাকা দেওয়ায় তাদের অনেকেই গ্রেফতার হননি। এছাড়া গ্রেফতারকৃতরা জিজ্ঞাসাবাদে তাদের নেপথ্য হোতা হিসেবে প্রভাবশালী অনেকের নামই বলেছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ক্যাসিনো বিরোধী অভিযানের আঁচ তাদের গায়ে লাগেনি।

৪৯টি অভিযানে গ্রেফতার ২৭৫ জন:

ক্যাসিনোবিরোধী ৪৯টি অভিযান পরিচালিত হয়। এর মধ্যে ৩২টি র‌্যাব এবং ১৭টি অভিযান পুলিশ পরিচালনা করে। এসব অভিযানে ২৭৫ জনকে গ্রেফতার করা হয়। এর মধ্যে ঢাকায় ২২২ জন এবং ঢাকার বাইরে ৫৩ জনকে গ্রেফতার করা হয়। এতে যুবলীগ, আওয়ামী লীগ ও কৃষক লীগের প্রভাবশালী নেতাদেরও গ্রেফতার করা হয়। এই সময়ের মধ্যে ১১টি ক্যাসিনো ও ক্লাবে অভিযান চালিয়েছে র‌্যাব।

জব্দ হয়েছে যা:

এসব অভিযানে ৮ কোটি ৪৫ লাখ টাকা, ১৬৬ কোটি টাকার এফডিআর, ১৩২টি বিভিন্ন ব্যাংকের চেক বই এবং ১১ কোটি ৭৭ লাখ টাকার চেক জব্দ করা হয়। এ ছাড়া আট কেজি স্বর্ণ, ২২টি অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র এবং বিপুল পরিমাণ বিদেশি মদ ও ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।

ক্যাসিনো বিরোধী মোট ৪৯টি অভিযানের মধ্যে ৩২টি র‍্যাব এবং ১৭টি অভিযান পুলিশ পরিচালনা করে


জামিনে মুক্ত যারা:

ক্যাসিনোবিরোধী অভিযানে গ্রেফতার হওয়া কলাবাগান ক্রীড়াচক্রের সভাপতি ও কৃষক লীগ নেতা শফিকুল আলম ফিরোজ ও মোহামেডান ক্লাবের পরিচালক লোকমান হোসেন ভূঁইয়া জামিনে বেরিয়ে গেছেন। গত ১৯ মার্চ লোকমান হোসেন ভূঁইয়া কাশিমপুর-১ থেকে ও ১ জানুয়ারি শফিকুল আলম ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে জামিনে মুক্তি পান।

মামলা:

এসব ঘটনায় দায়ের করা হয় ৩২টি মামলা। এর মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ ১৪টি মামলার তদন্ত করে র‍্যাব। এরই মধ্যে র‍্যাব ১৩টি মামলার অভিযোগপত্র আদালতে দাখিল করেছে। এ ছাড়া এখনো একটি মামলা তদন্ত করছে র্যাব। বাকি ১৮টি মামলা তদন্ত করছে পুলিশ। পুলিশের তদন্ত করা মামলাগুলোর মধ্যে সাতটি মামলায় আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়েছে।

গেণ্ডারিয়া থানা আওয়ামী লীগ নেতা এনামুল হক এনু ও রুপন ভুঁইয়ার বিরুদ্ধে অর্থ পাচারের পাঁচটি মামলার মধ্যে চারটির চার্জশিট দাখিল করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক লে. কর্নেল আশিক বিল্লাহ বলেন, ‘ক্যাসিনোবিরোধী অভিযান অব্যাহত থাকবে। র‌্যাবের কাছে থাকা মামলাগুলোর মধ্যে একটি ছাড়া সব তদন্ত শেষে চার্জশিট প্রদান করা হয়েছে। মামলায় অভিযুক্ত কেউ ফিরে এলে তদন্ত কর্মকর্তা প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।’

র‍্যাভ বলছে, যে মামলাটির এখনো তদন্ত চলছে শিগগিরই তার অভিযোগপত্র দেওয়া হবে।

পূর্ববর্তী সংবাদ পরবর্তী সংবাদ
সর্বশেষ সংবাদ
  • সর্বাধিক পঠিত