শিরোনাম:

নিলামে উঠেছে ম্যারাডোনার প্রথম বিশ্বকাপ জার্সি

আজ প্রিন্স ফিলিপের শেষকৃত্য

বিশ্বকাপ দেখতে যাওয়া সবাইকে টিকা দেবে কাতার!

হেফাজতের ঢাকা মহানগর সভাপতি আল্লামা জুনায়েদ গ্রেফতার

আরও এক সপ্তাহ বাড়তে পারে লকডাউন

স্বর্ণার লক্ষ‌্য ধনাঢ্যদের কৌশলে বিয়ে করে অর্থ আত্মসাৎ

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত : মার্চ ১২, ২০২১

সোনারদেশ২৪: ডেস্কঃ

ধনাঢ্য ব্যক্তিদের কৌশলে বিয়ে করে অর্থ আত্মসাতের পর ভয়-ভীতি দেখিয়ে তালাক দেওয়াই ছিল চিত্রনায়িকা রোমানা ইসলাম স্বর্ণার লক্ষ‌্য। এ কাজে তাকে সাহায্য করতেন পরিবারের অন্য সদস্যরা।

প্রতারণা ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে স্বর্ণাসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে রাজধানীর মোহাম্মদপুর থানায় মামলা দায়ের করেছেন সৌদি প্রবাসী কামরুল হাসান। মামলার এজাহারে তিনি উল্লিখিত অভিযোগ করেছেন।

মামলা দায়েরের পর বৃহস্পতিবার (১১ মার্চ) সন্ধ্যায় রাজধানীর লালমাটিয়া এলাকা থেকে মা আশরাফি ইসলাম শেইলি ও ছেলে আন্নাফিসহ স্বর্ণাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পুলিশ ও কামরুল হাসান জানিয়েছেন, আগেও বিয়ের ফাঁদ পেতে প্রতারণা করেছেন স্বর্ণা। তিনি প্রথম স্বামীকে তালাক দেন ২০১৭ সালে। এরপর এক উকিলকে বিয়ে করেন। পরে তাকেও তালাক দেন স্বর্ণা।

আজ শুক্রবার (১২ মার্চ) স্বর্ণাসহ তিনজনকে আদালতে হাজির করে তাদের পাঁচ দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করা হয়। আদালত রিমান্ড আবেদন নামঞ্জুর করে তাদের জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদের নির্দেশ দেন। এ মামলার আসামি স্বর্ণার ভাই নাহিদ হাসান রেমি এবং তার স্ত্রী ফারহা আহম্মেদ পলাতক আছেন।

স্বর্ণার সঙ্গে যেভাবে পরিচয় কামরুল হাসানের:

কামরুল হাসান ২০০৪ সালে সৌদি আরবে যান। সেখানে কাজের পাশাপাশি তিনি ২০০৫ সালে ব্যবসা শুরু করেন। সৌদি আরবের মক্কায় ‘রাবিয়াহ আল-মদিনা ইলেকট্রো-মেকানিক্যাল’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক তিনি। মিরপুরের কেএম জুয়েল ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেডের চেয়ারম্যান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন তিনি। ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বরের প্রথম দিকে ধানমন্ডির রবীন্দ্র সরোবারে খালাত ভাই মাহমুদুল হাসান নীলের মাধ্যমে স্বর্ণার সঙ্গে পরিচয় হয় কামরুল হাসানের। এসময় স্বর্ণা জানান, তিনি বিধবা ও এক ছেলের মা। স্বর্ণা অভিনেত্রী ও উদ্যোক্তা হিসেবে পরিচয় দেন। তিনি ফেসবুকে ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট পাঠাতে বলেন। ২০১৮ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর সৌদি আরব ফিরে গিয়ে অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহে স্বর্ণাকে ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট পাঠান কামরুল হাসান। স্বর্ণা তার রিকোয়েস্ট একসেপ্ট করেন।

কামরুলের কাছ থেকে যেভাবে অর্থ আত্মসাৎ করেন স্বর্ণা:

ফেসবুক ম্যাসেঞ্জারে কথা হতো স্বর্ণা ও কামরুলের। এ সময় স্বর্ণা বিধবা নারী হিসেবে তার অসহায়ত্ব এবং চলচ্চিত্র ও নাট্যজগতের রুগ্নদশার বর্ণনা দিয়ে কামরুলের কাছে টাকা ধার চাইতেন। পাশাপাশি, বাংলাদেশে প্রশাসন ও রাজনীতির শীর্ষ পর্যায়ের লোকজনের সঙ্গে তার ভালো যোগাযোগ আছে দাবি করে কামরুলকে সৌদি আরব ও বাংলাদেশে ব্যবসা সম্প্রসারণে সহযোগিতার আশ্বাস দেন। টাকার অভাবে একমাত্র ছেলে আন্নাফি ইউসুফ আনানকে ভালো কোনো বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি করাতে পারছেন না, জানিয়ে টাকা ধার চান স্বর্ণা। উবারে গাড়ির ব্যবসা করার কথা বলেও টাকা ধার দিতে প্রবাসী ব্যবসায়ীকে অনুরোধ করেন স্বর্ণা। টাকা পরিশোধের প্রতিশ্রুতি পেয়ে ২০১৮ সালের ৫ ও ৬ নভেম্বর এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংকে স্বর্ণার অ‌্যাকাউন্টে আড়াই লাখ টাকা, ইউসিবি ব্যাংকের ধানমন্ডি শাখার অ্যাকাউন্টে ৮ লাখ টাকা দেন কামরুল। ৮ নভেম্বর প্রবাসী বন্ধুর স্ত্রীর কাছ থেকে ১২ লাখ নিয়ে তা স্বর্ণাকে দেন তিনি। ২০১৮ সালের নভেম্বরে স্বর্ণা আবার হোয়াটসঅ্যাপে যোগাযোগ করে ওই ব্যবসায়ীকে জানান, লালমাটিয়ার সি-ব্লকে একটি আকর্ষণীয় ফ্ল্যাট বিক্রি হচ্ছে। ফ্ল্যাটের মালিক তার পরিচিত। কিন্তু তার হাতে টাকা নেই। কামরুলের নামেই ফ্ল্যাটটি কেনার জন্য স্বর্ণা ১ কোটি টাকা চান। পরে ফ্ল্যাটটি বিক্রি করে তাকে তিনভাগের এক ভাগ লভ্যাংশ দিলেই হবে বলে জানান স্বর্ণা। ফ্ল্যাট কেনার জন্য কয়েক দফায় বিভিন্ন মাধ্যমে মোট ৬৬ লাখ টাকা স্বর্ণাকে দেন ওই ব্যবসায়ী।

কামরুলকে যেভাবে ফাঁদে ফেলে বিয়ে করেন স্বর্ণা:

২০১৯ সালের ১৩ মার্চে সৌদি আরব থেকে দেশে ফিরলে রোমানা ইসলাম স্বর্ণা কামরুলের টাকায় কেনা গাড়ি ও ফ্ল্যাট দেখার জন্য তাকে লালমাটিয়ায় স্বর্ণার বাসায় যেতে অনুরোধ করেন। ১৪ মার্চ সন্ধ্যায় ব্যক্তিগত গাড়িতে স্বর্ণার ফ্ল্যাটে যান কামরুল। সেখানে ফলমূলসহ নাস্তা দেওয়া হয় তাকে। সেসব খেয়ে মাথা ঝিমঝিম করে কামরুলের। পরে স্বর্ণা অন্তরঙ্গ ছবি তুলে ব্ল্যাকমেইল করে বিয়ের চাপ দেয়। বিয়ে না করলে এসব ছবি কামরুলের পরিবারের কাছে পাঠানোর ও ধর্ষণের মামলা করার হুমকি দেওয়া হয়। বাধ‌্য হয়ে ওই বছরের ২০ মার্চ রেজিস্ট্রির মাধ্যমে স্বর্ণাকে বিয়ে করেন কামরুল। দেনমোহর বাবদ নগদ ১০ লাখ টাকা ও ৩৩ ভরি স্বর্ণ দিতে বাধ্য হন তিনি। এরপর বিভিন্ন অজুহাতে চার লাখ টাকা দামের হাতঘড়ি, দেড় লাখ টাকার দুটি আইফোন আদায় করেন স্বর্ণা।

৪ এপ্রিল সৌদি আরবে চলে যান কামরুল। ৪-৫ মাস পর দেশে ফিরে দেখা করতে চাইলে স্বর্ণা খারাপ আচরণ করতে থাকেন। আচরণ সন্দেহজনক মনে হওয়ায় কামরুল ফ্ল্যাট এবং গাড়ি বুঝিয়ে দিতে বলেন। তখন স্বর্ণা বাড়ি-গাড়ি বুঝিয়ে দিতে অস্বীকৃতি জানান। নগদ টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার ফেরত পেতে গত বছরের ৬ জানুয়ারি আদালতে মামলা করেন ওই ব্যবসায়ী। ওই মামলায় আদালত গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করলে গাড়ি ও ফ্ল্যাট কেনা বাবদ নেওয়া সব টাকা ফেরত দেওয়ার প্রতিশ্রুতির পাশাপাশি অন্যায় আচরণ না করার শর্তে জামিন নেন স্বর্ণা। এরপর তিনি ভালো আচরণ করে আবারও ১২ লাখ টাকা নিয়ে একটি টয়োটা গাড়ি কেনেন। এর মাঝে নগদ ১০ লক্ষাধিক টাকাসহ নানা কৌশলে হাতিয়ে নেন আরও স্বর্ণালঙ্কার।

চলতি বছরের ১২ ফেব্রুয়ারি থেকে স্বর্ণা আবারও কামরুলকে এড়িয়ে চলার চেষ্টা করেন। ফোন দিলে গালিগালাজ করেন। ১৬ ফেব্রুয়ারি রাতে লালমাটিয়ার বাসায় গিয়ে স্বর্ণার সন্ধান না পেয়ে কামরুল মোহাম্মদপুর থানায় গিয়ে স্ত্রী নিখোঁজ জানিয়ে জিডি করেন। রাত পৌনে ৩টায় স্বর্ণা বাসায় ফেরেন। পুলিশ তখন তার ফ্ল্যাটে গেলে স্বর্ণা দরজা না খুলে কামরুলকে তালাক দিয়েছেন বলে মোবাইলে জানান। হোয়াটস অ্যাপে তালাকনামার কপিও পাঠান।

স্বর্ণা বিভিন্নভাবে ১ কোটি ৪৮ লাখ ৬০ হাজার টাকা আত্মসাৎ করেছেন বলে অভিযোগ কামরুল হাসানের।

পূর্ববর্তী সংবাদ পরবর্তী সংবাদ
সর্বশেষ সংবাদ
  • সর্বাধিক পঠিত