শিরোনাম:

রামেক হাসপাতালে ২৪ ঘণ্টায় আরও ১৩ জনের মৃত্যু

ভ্যাকসিনের ঘাটতি দূর না হলে সামনে বিপদ : জাতিসংঘ মহাসচিব

করোনাকালে মোটরসাইকেল মিছিল, জরিমানা গুনলেন ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট

চীনের ৬ লাখ টিকা আসছে আজ

বঙ্গবন্ধু সেতুতে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ২, যান চলাচলে ধীরগতি

ময়নাকে যেভাবে ৬ টুকরো করে হত্যা করে ফাতেমা

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত : জুন ১, ২০২১
ফাতেমা বেগম

শেয়ার করুন

একাধিক বিয়ে, টাকা-পয়সার বণ্টনসহ নানা বিষয় নিয়ে স্ত্রী ফাতেমা বেগমের সঙ্গে মনোমালিন্য ছিল হতভাগ্য ময়নার। তারই অংশ হিসেবে ফাতেমা পরিকল্পিতভাবে ময়নাকে জুসের সঙ্গে ঘুমের ট্যাবলেট খাইয়ে অচেতন করেন। এরপর তাকে হত্যা করে লাশ টুকরো করে বিভিন্ন জায়গায় ফেলে দেন ফাতেমা।

মঙ্গলবার (১ জুন) দুপুরে মিন্টু রোডে ডিএমপির গণমাধ্যম শাখায় সংবাদ সম্মেলনে যুগ্ম কমিশনার হারুন-অর-রশিদ এসব তথ্য জানান।

তিনি বলেন, ‘ময়না মিয়ার একাধিক বিয়ে কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছিলেন না ফাতেমা। তারই অংশ হিসেবে গত রোববার (২৩ মে) ফাতেমা বেগমের কড়াইলের বাসায় যান ময়না মিয়া। সেদিন তাদের মধ্যে নানা বিষয় নিয়ে মনোমালিন্য হয়। এক পর্যায়ে ফাতেমা ময়না মিয়াকে হত্যার চূড়ান্ত পরিকল্পনা করেন। পরিকল্পনার পর দুই পাতা ঘুমের ট্যাবলেট ও স্টিলের তৈরি একটি ধারালো চাকু কিনে আনেন ফাতেমা। শুক্রবার (২৮ মে) সকালে ফাতেমা ময়নাকে কৌশলে ঘুমের ট্যাবলেট মিশিয়ে জুস খাওয়ান। জুস খেয়ে অচেতন হয়ে পড়ে ময়না।’

যুগ্ম কমিশনার বলেন, ‘‘ওই দিন সন্ধ্যা পর্যন্ত তিনি অচেতন ছিলেন। এক সময় কিছু চেতনা ফিরে পেলে তিনি স্ত্রী ফাতেমার কাছে পানি চান। ফাতেমা পানির পরিবর্তে তাকে আবারও জুসের সঙ্গে ঘুমের ট্যাবলেট খাইয়ে দেন। এ সময় ফাতেমা তার ব্যবহৃত ওড়না দিয়ে ময়না মিয়ার দুই হাত শরীরে সঙ্গে বেঁধে ফেলে মুখে স্কচটেপ লাগিয়ে দেন। পরে তার বুকের উপর বসে ফাতেমা ধারালো অস্ত্র দিয়ে গলা কাটতে যান।

‘সেসময় চেতনা ফিরে এলে ময়না ও ফাতেমার মধ্যে ধস্তাধস্তি শুরু হয়। দুজনেই খাট থেকে নিচে পড়ে যান। দুর্বল ময়না নিজেকে বাঁচাতে ফাতেমার হাতে কামড় দেন। কিন্তু খুনের নেশায় মত্ত ফাতেমার সঙ্গে কিছুতেই পেরে ওঠেননি তিনি।

‘এক পর্যায়ে আবারও ময়না মিয়ার বুকের ওপর উঠে বসেন ফাতেমা। ধারালো ছুরির পোচে ময়নার গলা কেটে ফেলেন। সেসময় ময়নার শরীরের চামড়াও ধারালো ছুরি দিয়ে তুলে ফেলার চেষ্টা করেন ফাতেমা। এক পর্যায়ে ময়না মিয়ার দুই হাত ও মাথা কেটে ৬ টুকরো করে ফেলেন। পরে লাল ও নীল রঙের ব্যাগে ভরে সেগুলো মহাখালী ও বনানীতে ফেলে দেন ফাতেমা।”

ফাতেমার দেওয়া তথ্যে গোয়েন্দা কর্মকর্তা আরও জানান, নিহত ময়না মিয়ার বাড়ি কিশোরগঞ্জ জেলায়। ভালোবেসে বিয়ে করেন ফাতেমা বেগমকে। কিন্তু বিয়ের পর থেকেই তাদের মধ্যে নানা বিষয় নিয়ে মনোমালিন্য চলে আসছিল। এ কারণে স্বামী-স্ত্রী একসঙ্গেও বেশিরভাগ সময় থাকতেন না। দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত ক্ষোভ থেকেই মূলত ময়না মিয়াকে নির্মমভাবে খুন করেন ফাতেমা বেগম।

পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ
সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত