শিরোনাম:

সরকারি ১৫ প্রতিষ্ঠানের পরীক্ষা একই দিনে, বিপাকে প্রার্থীরা

মেট্রোরেল কর্মীদের প্রশিক্ষণ চলছে দিল্লিতে

বাউফলে মেয়াদ উত্তীর্ণ বীমা টাকা নিয়ে ৯ হাজার গ্রাহকের ভোগান্তি

আজ পূর্বাচলে প্রদর্শনী কেন্দ্র উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী

গাছের সঙ্গে নয়নতারার বিয়ে!

তিন শিক্ষার্থীর ‘জাপান অ‌্যাডভেঞ্চার’

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত : অক্টোবর ৬, ২০২১

শেয়ার করুন

রাজধানীর পল্লবী থেকে নিখোঁজ তিন কলেজ শিক্ষার্থীকে মিরপুর বেড়িবাঁধ থেকে উদ্ধার করেছে র‌্যাব।

বুধবার (৬ অক্টোবর) বিকেলে র‌্যাব-৪ এর অধিনায়ক অতিরিক্ত ডিআইজি মোজাম্মেল হক রাইজিংবিডিকে এ তথ‌্য নিশ্চিত করেন।

তিনি বলেন, ‘বুধবার ভোরে মিরপুর বেড়িবাঁধ এলাকা থেকে ওই তিন শিক্ষার্থীকে উদ্ধার করা হয়। এর আগে ৩০ সেপ্টেম্বর (বৃহস্পতিবার) সকালে পল্লবী এলাকার নিজ নিজ বাসা হতে স্নেহা আক্তার (১৬), কাজী দিলখুশ জান্নাত নিশা (১৫) এবং কানিজ ফাতেমা (১৬) নামের কলেজ শিক্ষার্থী নিখোঁজ হয়।

তাদের উদ্ধারের পর বুধবার বিকেলে র‌্যাব-৪ এর পক্ষ থেকে একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। তাতে জানানো হয়— পল্লবীর বহুল আলোচিত টাকা, স্বর্ণালংকার ও সার্টিফিকেট নিয়ে নিখোঁজ হওয়া তিন ছাত্রীকে মিরপুর বেড়িবাঁধের শেষ প্রান্ত আবদুল্লাহপুর এলাকা হতে উদ্ধার করা হয়েছে।

তিন শিক্ষার্থী নিখোঁজ হওয়ার পর কাজী দিলখুশ জান্নাত নিশার বড় বোন অ‌্যাডভোকেট কাজী রওশন দিল আফরোজ বাদী হয়ে সন্দেহভাজন চার জনসহ অজ্ঞাতনামা চার-পাঁচজনকে আসামি করে পল্লবী থানায় অপহরণ মামলা করেন। এ ঘটনায় পুলিশের পাশাপাশি র‌্যাব-৪ এর একটি গোয়েন্দা দল ছায়া তদন্ত শুরু করে।

র‌্যাব-৪ এর গোয়েন্দা দল, গোপন তথ্য এবং কক্সবাজারে থাকা র‌্যাব-৪ এর টিমের মাধ্যমে জানা গেছে- নিখোঁজ তিন শিক্ষার্থী ৫ অক্টোবর রাত ৯টার দিকে ছদ্মবেশে কক্সবাজার থেকে বাসে করে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হয়।

প্রাপ্ত গোপন তথ্যের ভিত্তিতে র‌্যাব-৪ এর একটি আভিযানিক দল ৬ অক্টোবর ভোরে বেড়িবাঁধ এলাকা থেকে তাদের উদ্ধার করে।

ঘটনার অনুসন্ধান ও ভিকটিমদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, তারা তিন জন বান্ধবী। মিরপুরের স্থানীয় বিভিন্ন কলেজে তারা লেখাপড়া করেন। করোনার কারণে দীর্ঘদিন ঘরে বন্দি থাকার সময় তারা বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ বিভিন্ন অপসংস্কৃতিতে আসক্ত হয়ে পড়ে। লেখাপড়ার প্রতি আগ্রহও হারিয়ে ফেলে।

এ কারণে তাদের পরিবার পড়াশোনা ও ধর্মীয় বিধি বিধান মেনে চলার জন্য চাপ দিত। পারিবারিক নানা বিধি-নিষেধের কারণে তারা নিজ নিজ পরিবারের প্রতি বিরক্ত হয়ে পড়ে।

জিজ্ঞাসাবাদে আরও জানা যায়, তাদের নিজেদের পরিবারের নিয়ম-কানুন ভালো লাগত না। এসব সামাজিক ও ধর্মীয় নিয়ম কানুন তাদের কাছে অত্যাচার মনে হতো। তারা মূলত উচ্চাভিলাসী জীবন-যাপন পছন্দ করত। দীর্ঘদিন বাসায় আবদ্ধ থাকার সময় তারা পশ্চিমা সংস্কৃতি বিশেষ করে জাপানী সংস্কৃতির প্রতি আসক্ত হয়ে পড়ে।

বেশি বেশি জাপানী সিনেমা-সিরিয়াল ও সাংস্কৃতিক প্রোগাম দেখে দেখে জাপানী ভাষা কিছুটা আয়ত্ব করে। তারা দেশ ছেড়ে স্বাধীন জীবন-যাপন ও উচ্চশিক্ষার উদ্দেশ্যে জাপান যাওয়ারও পরিকল্পনা করে। জাপানী সংস্কৃতিতে নারী পুরুষের সম-অধিকার, স্বাধীনতা ও দত্তক হওয়ার সুযোগ রয়েছে। তাছাড়া অন্যান্য ধর্মীয় ও সামাজিক বিধি-নিষেধ তেমন নেই। এ কারণে তারা জাপান যাওয়ার ব‌্যাপারে সিদ্ধান্ত নেয়।

পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ
সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত