অবৈধ ওয়াকিটকি আমদানির অভিযোগ দুই বছরের কারাদণ্ড হতে পারে সু চির

32

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ সোনারদেশ২৪:

মিয়ানমারের ক্ষমতাচ্যুত নেত্রী অং সান সু চির বিরুদ্ধে একাধিক মামলা হয়েছে। এর মধ্যে একটি অবৈধভাবে আমদানি করা ওয়াকিটকি রাখার অভিযোগ।

এই মামলায় তার দুই বছরের কারাদণ্ড হতে পারে। আমদানি-রপ্তানি আইনে হওয়া ওই মামলায় সু চিকে ১৪ দিনের রিমান্ড দিয়েছেন আদালত। সু চির দল ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্রেসি (এনএলডি) এসব তথ্য জানায়।

এদিকে মিয়ানমারে সেনা অভ্যুত্থান এবং সু চিকে আটকের ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে জাতিসংঘ এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশ। জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস সেনা অভ্যুত্থান ব্যর্থ করতে বিশ্বসম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, নির্বাচন ভন্ডুল করে দেওয়া অগ্রহণযোগ্য। সেনা অভ্যুত্থানে যারা নেতৃত্ব দিয়েছেন, তাদের বোঝা উচিত-এভাবে দেশ শাসন করা যায় না। খবর বিবিসি ও দ্য গার্ডিয়ানসহ বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের।

মিয়ানমারের রাজধানীর একটি পুলিশ স্টেশনে সু চির বিরুদ্ধে করা মামলার নথি থেকে জানা যায়, নেপিদোতে সু চির বাসভবনে সেনা কর্মকর্তারা যখন তল্লাশি চালিয়েছিলেন, তখন তারা একাধিক ওয়াকিটকি পান। মামলার নথি অনুযায়ী, এসব ওয়াকিটকি অবৈধভাবে আমদানি করা হয়েছে। সু চির দেহরক্ষীরা যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়াই এই ওয়াকিটকিগুলো ব্যবহার করেছেন। অবৈধভাবে আমদানি করা ওয়াকিটকি রাখার অভিযোগে সু চির বিরুদ্ধে মামলা হওয়ার কথা নিশ্চিত করেছে তার দল এনএলডি। এ মামলায় সর্বোচ্চ সাজা দুই বছরের কারাদণ্ড।

মিয়ানমারের একটি রাষ্ট্রীয় সংবাদপত্রে বলা হয়েছে, গত নভেম্বরের নির্বাচনে ভোট জালিয়াতির অভিযোগ তদন্ত করবে দেশটির সামরিক সরকার। নভেম্বরের ওই নির্বাচনে সেনাসমর্থিত দলের ভরাডুবি হয়। অন্যদিকে বিপুল জয় পায় সু চির এনএলডি। সু চির পাশাপাশি তার সরকারের ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট উই মিন্তের বিরুদ্ধেও মামলা হয়েছে। মহামারি (করোনা) বিধি ভঙ্গ করার অভিযোগে তার বিরুদ্ধে জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা আইনে মামলা করা হয়। উই মিন্তের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি নির্বাচনি প্রচারের সময় মহামারিকালীন বিধিনিষেধ ভেঙেছেন। এই মামলায় উই মিন্তকে দুই সপ্তাহের রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে।

সু চি বর্তমানে রাজধানী নেপিদোয় নিজ বাসভবনে আটক আছেন বলে বিভিন্ন সূত্রে খবর পাওয়া যাচ্ছে। তবে সরকারি সূত্র এ তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেনি। সোমবার মিয়ানমারের সেনাবাহিনী দেশটিতে সামরিক অভ্যুত্থান ঘটায়। সু চির নেতৃত্বাধীন এনএলডির নির্বাচিত সরকার উৎখাত করে তারা ক্ষমতা দখল করে।

সু চিসহ মিয়ানমারের শীর্ষ নেতাদের গ্রেফতার-আটকের ঘটনায় বুধবার থেকে দেশটির ৩০টি শহরের ৭০টি হাসপাতালের স্বাস্থ্যকর্মীরা ধর্মঘট শুরু করেছেন। নাগরিক অসহযোগ আন্দোলনের ব্যানারে এই ধর্মঘটের ডাক দেওয়া হয়েছে।

সেনা অভ্যুত্থান ব্যর্থ করার আহ্বান জাতিসংঘের : জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস মিয়ানমারে সেনা অভ্যুত্থান ব্যর্থ করতে বিশ্বসম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, এই সেনা অভ্যুত্থান ব্যর্থ করতে মিয়ানমারের ওপর চাপ প্রয়োগের জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে ঐক্যবদ্ধ করতে আমরা সবকিছু করব।

মিয়ানমার পুনর্গঠনে সাংবিধানিক আদেশের আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। গুতেরেস আশা প্রকাশ করেন, এ ইস্যুতে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ ঐক্যে পৌঁছাবে। তিনি বলেন, নির্বাচনের ফল উলটে দেওয়া, জনগণের ইচ্ছার বিরুদ্ধে যাওয়া খুবই অগ্রহণযোগ্য। মিয়ানমারের সেনাবাহিনীকে বোঝাতে হবে যে এটা দেশ শাসনের উপায় নয়। এভাবে সামনেও এগিয়ে যাওয়া যায় না।

যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা দেশগুলো মিয়ানমারে সেনা অভ্যুত্থানের নিন্দা জানিয়েছে। মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র নেড প্রাইস সু চির বিরুদ্ধে মামলার নিন্দা জানিয়ে মিয়ানমারের সেনাবাহিনীকে সব রাজনৈতিক বন্দিদের মুক্তি দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। তবে চীনের বিরোধিতার কারণে মিয়ানমার ইস্যুতে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ নিন্দা জানিয়ে বিবৃতি দিতে পারেনি। বেইজিং বলেছে, নিষেধাজ্ঞা অথবা আন্তর্জাতিক চাপ প্রয়োগে মিয়ানমারের পরিস্থিতি আরও খারাপ হবে। জাতিসংঘের সমালোচনা থেকে মিয়ানমারকে বারবারই সুরক্ষা দিয়েছে রাশিয়াও।

মিয়ানমারে ফেসবুক বন্ধ : মিয়ানমারে এবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক পরিষেবা বন্ধ করা হয়েছে। কারণ এই সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার করে দেশটিতে অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ সেনা শাসকের। বৃহস্পতিবার মিয়ানমারের যোগাযোগ মন্ত্রণালয় এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে। এতে বলা হয়েছে, ভুয়া সংবাদ ও মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে, যার কারণে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মিয়ানমারে ফেসবুক পরিষেবা বন্ধ থাকবে।

You might also like