
২০২৬
4 বার পড়া হয়েছে
সরকারি বিধিনিষেধের আলোকে দেশের একমাত্র প্রবালসমৃদ্ধ দ্বীপ সেন্টমার্টিনে আগামী ৯ মাসের জন্য পর্যটক ভ্রমণ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী রোববার ১ ফেব্রুয়ারি থেকে এ নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হয়েছে।
চলতি পর্যটন মৌসুমের শেষ দিন শনিবার (৩১ জানুয়ারি) শেষবারের মতো পর্যটকবাহী জাহাজ সেন্টমার্টিন দ্বীপে যাতায়াত করে। তবে শেষ দিনে রাত্রিযাপন নিষিদ্ধ থাকায় তুলনামূলক কম সংখ্যক পর্যটক দ্বীপে ভ্রমণ করেন।
টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইমামুল হাফিজ নাদিম বিষয়টি নিশ্চিত করে বার্তা২৪.কম-কে বলেন, সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আগামী ৯ মাসের জন্য সেন্টমার্টিন ভ্রমণ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। পরবর্তী সময়ে সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সেন্টমার্টিন রুটের পর্যটকবাহী জাহাজ মালিকদের সংগঠন ‘সি ক্রুজ অপারেটর ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ’-এর সাধারণ সম্পাদক হোসাইন ইসলাম বাহাদুর জানান, সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী নভেম্বর ও ডিসেম্বর মাসে প্রতিদিন গড়ে দুই হাজার পর্যটক সেন্টমার্টিনে যাতায়াত করেছেন।
তিনি বলেন, নিষেধাজ্ঞার কারণে আমাদের ব্যবসায়ীরা ক্ষতির মুখে পড়েছেন। আরও কিছুদিন পর্যটক যাতায়াত করতে পারলে সেই ক্ষতি কিছুটা পুষিয়ে নেওয়া যেত।
এবার কক্সবাজার শহর থেকে সেন্টমার্টিন রুটে মোট আটটি পর্যটকবাহী জাহাজ চলাচল করেছে। জাহাজগুলো হলো—এমভি কর্ণফুলি এক্সপ্রেস, এমভি বারো আউলিয়া, এমভি বে ক্রুজ, এমভি কাজল, কেয়ারী সিন্দাবাদ, কেয়ারী ক্রুজ অ্যান্ড ডাইন, এমভি টেকনাফ ও আটলান্টিক ক্রুজ।
উল্লেখ্য, সেন্টমার্টিনের পরিবেশ, প্রতিবেশ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের লক্ষ্যে ২০২৩ সাল থেকে সরকার পর্যটক ভ্রমণে বিধিনিষেধ আরোপ করে আসছে। সাধারণত প্রতি বছর ১ অক্টোবর থেকে ৩১ মার্চ পর্যন্ত সেন্টমার্টিনে পর্যটক যাতায়াতের অনুমতি থাকলেও, চলতি বছর পরিবেশগত ঝুঁকি বিবেচনায় সময়সীমা কমিয়ে ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়।
সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ১ ডিসেম্বর থেকে ৩১ জানুয়ারি, এই দুই মাসই কেবল পর্যটকদের জন্য রাত্রিযাপনের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। নভেম্বর মাসে পর্যটকদের দিনে গিয়ে দিনে ফিরে আসতে হতো। রাত্রিযাপন নিষিদ্ধ থাকায় তখন পর্যটকরা দ্বীপে সর্বোচ্চ দুই ঘণ্টা অবস্থানের সুযোগ পান। ফলে ডিসেম্বর ও জানুয়ারিকেই মূল পর্যটন মৌসুম হিসেবে ধরা হয়।