
২০২৬
1 বার পড়া হয়েছে
বিশ্বের ৩৫তম অর্থনীতি থেকে বাংলাদেশকে ২০তম অর্থনীতিতে উন্নীত করার লক্ষ্য নিয়ে একটি দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক ভিশন ঘোষণা করা হয়েছে। ঘোষিত এই ভিশনে ২০৪০ সালের মধ্যে বাংলাদেশের অর্থনীতিকে ২ ট্রিলিয়ন ডলারে উন্নীত করা এবং মাথাপিছু আয় ১০ হাজার ডলারে পৌঁছানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) নির্বাচনী ইশতেহারে এই ভিশনের কথা উল্লেখ করেছে বাংয়লাদেশ জামায়াতে ইসলামী।
ভিশনে বলা হয়েছে, এই লক্ষ্য অর্জনে প্রযুক্তিভিত্তিক কৃষি, স্মার্ট ম্যানুফ্যাকচারিং, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি), শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং আর্থিক খাতকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড গতিশীল করে জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার ধাপে ধাপে ৭ শতাংশে উন্নীত করার পরিকল্পনার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রস্তাবিত রূপরেখা অনুযায়ী, প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার ও পদ্ধতিগত জটিলতা দূর করে একটি বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরি করা হবে এবং বেসরকারি বিনিয়োগ উৎসাহিত করা হবে। বিনিয়োগ কার্যক্রম ত্বরান্বিত করতে ইনভেস্টমেন্ট বন্ড মার্কেট গড়ে তোলার পরিকল্পনাও রয়েছে।
রাজস্ব খাতে কাঠামোগত সংস্কার, কর ব্যবস্থার সহজীকরণ ও করের আওতা সম্প্রসারণের মাধ্যমে রাজস্ব আহরণ জিডিপির ১৪ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মাধ্যমে ঋণের ওপর নির্ভরশীলতা ধীরে ধীরে কমিয়ে আনার পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি সরকারি বিনিয়োগসহ মোট ব্যয় জিডিপির ২০ শতাংশে উন্নীত করার প্রস্তাব করা হয়েছে।
নিম্ন ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির জীবনযাত্রা সহজ করতে করমুক্ত আয়ের সীমা ধাপে ধাপে বাড়িয়ে ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত উন্নীত করার কথা বলা হয়েছে। বাজেট ঘাটতি কোনো অবস্থাতেই জিডিপির ৫ শতাংশ অতিক্রম না করার অঙ্গীকার করা হয়েছে।
ভিশনে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য নতুন বেতন স্কেল বাস্তবায়ন এবং করপোরেট কর পর্যায়ক্রমে ২০ শতাংশের নিচে নামিয়ে আনার পরিকল্পনার কথাও রয়েছে। পাশাপাশি বর্ধিত রাজস্ব শিক্ষা, স্বাস্থ্য, খাদ্য নিরাপত্তা, গৃহায়ণ, কর্মসংস্থান, সামাজিক নিরাপত্তা, নবায়নযোগ্য জ্বালানি এবং যোগাযোগ ও পরিবহন অবকাঠামো উন্নয়নে ব্যয় করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
সরকারি ব্যয়ের কার্যকারিতা বাড়াতে দুর্নীতি, অপচয় ও অদক্ষতা দূর করার সর্বাত্মক উদ্যোগ নেওয়ার কথাও ভিশনে উল্লেখ করা হয়েছে। একই সঙ্গে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের স্বায়ত্তশাসন নিশ্চিত করা এবং ব্যাংকিং খাতে সুশাসন প্রতিষ্ঠার ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে।
ঘোষিত এই ভিশন বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশের অর্থনীতি একটি টেকসই, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও শক্তিশালী কাঠামোর দিকে এগিয়ে যাবে বলে সংশ্লিষ্টদের আশা।