অপহৃত ও নির্মম হত্যাকাণ্ডের শিকার হওয়া অদম্য মেধাবী শিক্ষার্থী রাকিবুল ইসলাম (১৮) ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়েছেন। টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলার হেমনগর ইউনিয়নের দাদির আটা গ্রামের দরিদ্র কৃষক খাদেমুল ইসলামের ছেলে রাকিব ঘাটাইল ক্যান্টনমেন্ট কলেজ থেকে মানবিক বিভাগে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এই পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন। তাঁর বড় ভাই জহিরুল ইসলাম জানান, রাকিবের স্বপ্ন ছিল বড় হয়ে ব্যারিস্টার হওয়া। তিনি এসএসসিতেও জিপিএ-৫ পেয়েছিলেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তির প্রস্তুতি নিতে তিনি ঢাকায় কোচিং করতে এসেছিলেন। কাঙ্ক্ষিত ফলাফল অর্জনের এই আনন্দঘন দিনটিতে তাঁর পরিবার খুশির বদলে গভীর শোকে নিমজ্জিত।
গত ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে ঢাকার ফার্মগেট এলাকা থেকে নিখোঁজ হন রাকিব। এরপর অপহরণকারীরা তাঁর বাবার হোয়াটসঅ্যাপে চোখ-মুখ বাঁধা ও নির্যাতনের ছবি পাঠিয়ে ১৬ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। পুলিশ জানায়, রাকিবকে হত্যার পর খুনিরা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি ব্যবহার করে সে জীবিত আছে এমন একটি নকল ভিডিও তৈরি করে পরিবারের কাছে পাঠায়। ছেলেকে ফিরে পাওয়ার আশায় তাঁর বাবা ধারদেনা ও সুদে টাকা এনে ৪ লাখ টাকা মুক্তিপণ দিলেও রাকিবকে আর জীবিত ফেরত পাননি। ঢাকার শুক্রাবাদের একটি বাসায় রাকিবকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। এরপর মরদেহ গুম করার উদ্দেশ্যে কার্টনে মুড়িয়ে খুনি আবদুল্লাহ আল মামুনের গ্রামের বাড়ি নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার ছাতনাই বালাপাড়া গ্রামে নিয়ে মাটির নিচে চাপা দেওয়া হয়। নিখোঁজের ২০ দিন পর ৬ অক্টোবর পুলিশ ওই বাড়ির মাটির নিচ থেকে কার্টন ও বস্তাবন্দি অবস্থায় রাকিবের মরদেহ উদ্ধার করে। পুলিশ এই ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত মামুনকে গ্রেফতার করেছে। এমন এক মেধাবীর অকাল ও নৃশংস মৃত্যুতে পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে এবং তাঁর পরিবার খুনিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে।