
২০২৬
3 বার পড়া হয়েছে
ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরত পাঠানোর অনুরোধ খতিয়ে দেখছে ভারত। দেশটির কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে পররাষ্ট্রবিষয়ক সংসদীয় কমিটিকে এ তথ্য জানানো হয়েছে। পাশাপাশি, ভারতে অবস্থান করলেও শেখ হাসিনাকে কোনো ধরনের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার সুযোগ দেওয়া হয়নি বলেও দাবি দেশটির সরকারের। খবর, টাইমস অব ইন্ডিয়া'র।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) কংগ্রেস নেতা শশী থারুরের সভাপতিত্বে গঠিত পররাষ্ট্রবিষয়ক পার্লামেন্টারি স্থায়ী কমিটির সুপারিশের ওপর সরকারের নেয়া পদক্ষেপসংক্রান্ত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
মূলত, ‘ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের ভবিষ্যৎ’ শীর্ষক কমিটির নবম প্রতিবেদনের সুপারিশের ভিত্তিতে সরকারের পদক্ষেপ নিয়ে তৈরি প্রতিবেদনটি বৃহস্পতিবার পার্লামেন্টে উপস্থাপন করা হয়। এতে বলা হয়, প্রযোজ্য আইন ও নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসারে শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণের জন্য বাংলাদেশের করা অনুরোধ ‘সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ পর্যালোচনা করছে’।
কমিটি জানায়, শেখ হাসিনার অনুপস্থিতিতে তার মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষণার পর বাংলাদেশ সরকার তাকে প্রত্যর্পণের অনুরোধ জানিয়েছে। বিষয়টি পর্যালোচনার অগ্রগতি সম্পর্কে সরকারকে নিয়মিত কমিটিকে অবহিত রাখারও আহ্বান জানানো হয়েছে।
আরও বলা হয়, শেখ হাসিনার ভারতে অবস্থান দেশটির ‘সভ্যতাগত মূল্যবোধ ও মানবিক ঐতিহ্যের’ সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। গুরুতর সংকট বা অস্তিত্বের হুমকির মুখে থাকা ব্যক্তিদের আশ্রয় দেয়ার দীর্ঘদিনের নীতির অংশ হিসেবেই তিনি ভারতে অবস্থান করছেন। ভারত সরকার স্পষ্ট করেছে যে শেখ হাসিনাকে ভারতের ভূখণ্ড ব্যবহার করে কোনও ধরনের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার জন্য কোনও রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম বা সুযোগ দেয়া হয়নি।
কমিটির মতে, ভারত বরাবরই এই নীতি অনুসরণ করে যে দেশটির ভূখণ্ড অন্য কোনও দেশের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার জন্য ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না। এ কারণে সরকারকে মানবিক ও নীতিগত অবস্থান বজায় রাখার পাশাপাশি এ ধরনের পরিস্থিতি যথাযথ সংবেদনশীলতা ও ভারতের আন্তর্জাতিক দায়বদ্ধতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে মোকাবিলার সুপারিশ করেছে কমিটি।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মুখে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর বাংলাদেশ ছেড়ে ভারতে চলে যান শেখ হাসিনা। এরপর থেকেই তিনি সেখানেই অবস্থান করছেন।
জাহিদ হাসান । সোনার দেশ ২৪