
২০২৬
18 বার পড়া হয়েছে
শরীয়তপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় জেলা শহর সংলগ্ন সদর উপজেলার ডোমসার ও নড়িয়া উপজেলার নশাসন ইউনিয়নের সমন্বয়ে পূর্বনির্ধারিত স্থানে প্রতিষ্ঠার দাবি জানিয়েছেন নড়িয়া উপজেলা পরিষদের সাবেক মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান ও নারী নেত্রী সুলতানা রাজিয়া মনি।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) নিজের ফেসবুক স্ট্যাটাসে তিনি এ দাবি জানান। বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থান পরিবর্তনের উদ্যোগের বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, কোনো নির্দিষ্ট অঞ্চল বা গোষ্ঠীর স্বার্থ নয়, বরং সমগ্র শরীয়তপুর জেলার মানুষের স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থান নির্ধারণ করা উচিত।
সুলতানা রাজিয়া মনি তাঁর স্ট্যাটাসে উল্লেখ করেন, জননেতা এ কে এম এনামুল হক শামীমের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ২০২৩ সালের ২৯ অক্টোবর তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকারের সময়ে ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব শরীয়তপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়’ প্রতিষ্ঠার চূড়ান্ত প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। এর আগে ২০২১ সালের ১০ জুন তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনির কাছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিষয়ে ডিও লেটার দেওয়া হয়েছিল বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
স্ট্যাটাসে তিনি আরও বলেন, মন্ত্রিসভার অনুমোদন, জাতীয় সংসদে বিল পাস এবং গেজেট প্রকাশের মধ্য দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। ২০২৩ সালের ২৯ অক্টোবর জাতীয় সংসদে ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব শরীয়তপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় বিল, ২০২৩’ পাস হয় এবং একই বছরের ১৩ নভেম্বর গেজেট প্রকাশিত হয়।
সুলতানা রাজিয়া মনির ভাষ্য, বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থান নির্ধারণের ক্ষেত্রে আঞ্চলিক বিবেচনার পরিবর্তে জেলা শহরের কাছাকাছি অবস্থানকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছিল। এ জন্য শরীয়তপুর-ঢাকা সড়কের পাশে সদর উপজেলার ডোমসার ও নড়িয়া উপজেলার নশাসন ইউনিয়নের সমন্বয়ে বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়।
তিনি অভিযোগ করেন, বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়টির অবস্থান পরিবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে এবং জেলা শহর থেকে অন্তত ২৫ কিলোমিটার দূরে স্থান নির্ধারণের বিষয়টি আলোচনায় এসেছে। এতে শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবক ও সাধারণ মানুষের যাতায়াত এবং অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হতে পারে বলে তিনি মনে করেন।
স্ট্যাটাসে সুলতানা রাজিয়া মনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়টিতে শুধু শরীয়তপুরের শিক্ষার্থীরাই নয়, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের শিক্ষার্থীরাও পড়াশোনা করবেন। তাই অবস্থান নির্ধারণের ক্ষেত্রে যোগাযোগব্যবস্থা, শিক্ষার পরিবেশ এবং সবার জন্য সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার বিষয়টি বিবেচনায় রাখা জরুরি।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, কৃষিশিক্ষার পাশাপাশি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, ব্যবসায় শিক্ষা, কলা, শিক্ষা এবং গবেষণাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে উচ্চশিক্ষার সুযোগ তৈরির প্রত্যাশা নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। এ প্রতিষ্ঠানকে তিনি শরীয়তপুরবাসীর দীর্ঘদিনের স্বপ্ন, সম্ভাবনা ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হিসেবে উল্লেখ করেন।
স্ট্যাটাসের শেষাংশে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়ে সুলতানা রাজিয়া মনি বলেন, আঞ্চলিক স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে জনস্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। জেলা শহরসংলগ্ন ডোমসার ও নশাসনের সমন্বয়ে পূর্বনির্ধারিত স্থানেই শরীয়তপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া উচিত।
তাঁর প্রত্যাশা, বিশ্ববিদ্যালয়টির কার্যক্রম দ্রুত বাস্তবায়িত হলে শরীয়তপুরের শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষার সুযোগ বাড়বে, নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে এবং জেলার সামগ্রিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে।