
২০২৬
15 বার পড়া হয়েছে
দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হওয়ার পথে বিএনপির সদ্য বিদায়ী মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। রাষ্ট্রপতি পদে ক্ষমতাসীন বিএনপির প্রার্থী হিসেবে গতকাল বৃহস্পতিবার তাঁর মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া হয়েছে। সংসদে দলটির দুই-তৃতীয়াংশের বেশি সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় নির্বাচনের আনুষ্ঠানিকতা শেষে মির্জা ফখরুলের রাষ্ট্রপতি হওয়া এখন অনেকটাই নিশ্চিত। এখন শুধুই ভোট ও ফলাফলের অপেক্ষা।
রাষ্ট্রপতি পদে প্রধান বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় ঐক্যের প্রার্থী কর্নেল (অব.) অলি আহমদের মনোনয়নপত্রও গতকাল জমা দেওয়া হয়েছে। কোনো প্রার্থী মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার না করলে ২০ আগস্ট জাতীয় সংসদের অধিবেশন কক্ষে ভোট হবে। সে ক্ষেত্রে ৩৫ বছর পর রাষ্ট্রপতি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন দেখতে যাচ্ছে দেশ।
সর্বশেষ ১৯৯১ সালে রাষ্ট্রপতি পদে ভোট হয়েছিল। ওই নির্বাচনে তৎকালীন বিরোধী দল আওয়ামী লীগের প্রার্থীকে হারিয়ে ক্ষমতাসীন বিএনপির প্রার্থী আবদুর রহমান বিশ্বাস রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। এরপর ক্ষমতাসীন দলগুলোর মনোনীত সাতজন প্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রাষ্ট্রপতি হয়েছেন। এবার বিরোধী দল প্রার্থী দেওয়ায় দীর্ঘ সময় পর ভোটের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। তবে সংসদের সংখ্যার সমীকরণে ফলাফল নিয়ে কার্যত কোনো অনিশ্চয়তা নেই। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত নারী আসনসহ বর্তমানে ৩৪৯ জন সদস্য রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে বিএনপির সদস্য ২৪৭ জন। অন্যদিকে জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় ঐক্যের সদস্য ৯০ জন। অন্য সদস্যরা স্বতন্ত্র ও কয়েকটি ছোট দলের। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে সংসদ সদস্যরা প্রকাশ্যে ভোট দেন। এই সংখ্যা ও ভোটের পদ্ধতির কারণে মির্জা ফখরুলের জয় নিশ্চিত বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, আগামী রোববার ১৬ আগস্ট মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই করা হবে। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময় ১৮ আগস্ট বিকেল চারটা। বৈধ প্রার্থী একজন থাকলে তাঁকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত ঘোষণা করা হবে। দুজন প্রার্থী থাকলে ২০ আগস্ট বেলা দুইটা থেকে বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত জাতীয় সংসদের অধিবেশন কক্ষে ভোট গ্রহণ হবে।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট গোপন নয়। সংসদ সদস্যরা ব্যালট পেপারে পছন্দের প্রার্থীর নামের পাশাপাশি নিজের নাম ও আসন নম্বরও লিখবেন। বিএনপির চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম বলেছেন, সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ কার্যকর থাকায় দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে ভোট দিলে সংশ্লিষ্ট সংসদ সদস্যের আসন শূন্য হবে। যদিও রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ৭০ অনুচ্ছেদের প্রয়োগ নিয়ে ভিন্ন আইনি মতও রয়েছে।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর প্রায় ১৬ বছর বিএনপির মহাসচিবের দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০১১ সালে তিনি দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব হন। ২০১৬ সালের জাতীয় কাউন্সিলে আনুষ্ঠানিকভাবে মহাসচিব নির্বাচিত হন। খালেদা জিয়ার কারাবন্দিত্ব এবং তারেক রহমানের দীর্ঘ সময় দেশের বাইরে থাকার সময় বিএনপির নেতৃত্বে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন তিনি। আওয়ামী লীগ সরকারের সময় রাজনৈতিক মামলায় ছয়বার কারাগারে যান।