
২০২৬
4 বার পড়া হয়েছে
বিশ্বকাপে বাইরের বিনিয়োগকারীদের অংশীদার করার ফিফার পরিকল্পনার প্রতিবাদে সংস্থাটির সব টুর্নামেন্ট বয়কটের সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইউরোপীয় ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা উয়েফা এবং এর ৫৫টি সদস্য দেশ। এ সিদ্ধান্ত ফিফার প্রস্তাবের জন্য বড় ধরনের ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে। খবর রয়টার্স।
এক বিবৃতিতে গতকাল উয়েফা কোনো রাখঢাক না রেখেই ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর প্রস্তাবের তীব্র বিরোধিতা করে। যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোয় অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপ শেষ হওয়ার মাত্র কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই ইনফান্তিনো পরিকল্পনাটি সামনে আনেন, যা আঞ্চলিক ফুটবল কনফেডারেশনগুলোর জন্য ছিল অপ্রত্যাশিত এবং ব্যাপক ক্ষোভের জন্ম দেয়।
বর্তমানে পুরুষ ও নারী দুই বিভাগেই ফিফা র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ ১০ দলের মধ্যে ছয়টি ইউরোপের। এর মধ্যে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন স্পেনও রয়েছে।
অন্যদিকে উত্তর ও মধ্য আমেরিকা এবং ক্যারিবীয় অঞ্চলের ফুটবল সংস্থা কনকাকাফ এবং এর ৪১টি সদস্য দেশও গতকালের বৈঠকে ফিফার পরিকল্পনা প্রত্যাখ্যান করেছে। তবে পরে মেক্সিকান ফুটবল ফেডারেশন জানায়, তারা এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি। ফিফার আয়োজিত গোলটেবিল বৈঠকে আরো তথ্য ও নথি পাওয়ার পর তারা সিদ্ধান্ত নেবে।
এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন (এএফসি) তাদের ৪৭টি সদস্য দেশের কাছে পাঠানো এক কড়া ভাষার চিঠিতে জানিয়েছে, ছয়টি আঞ্চলিক কনফেডারেশনের সমর্থন ছাড়া এ প্রস্তাব কখনোই সফল হবে না।
উয়েফার এই অবস্থান পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করেছে। এর তাৎক্ষণিক প্রভাব পড়তে পারে ২০২৭ সালের নারী বিশ্বকাপে, যা ব্রাজিলে অনুষ্ঠিত হবে। আর ২০৩০ সালের পুরুষ বিশ্বকাপ যৌথভাবে আয়োজন করবে স্পেন, পর্তুগাল ও মরক্কো।
একটি সূত্র জানিয়েছে, জরুরি বৈঠকে উয়েফার সদস্যরা ৫৫-০ ভোটে বয়কটের পক্ষে মত দেন।
উয়েফা তাদের বিবৃতিতে বলেছে, বিশ্বকাপ এবং ফিফার অন্যান্য প্রতিযোগিতায় মালিকানার অংশ বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের কাছে হস্তান্তরের প্রস্তাব আমরা সর্বসম্মতভাবে এবং দ্ব্যর্থহীনভাবে প্রত্যাখ্যান করছি।
তারা আরো জানায়, প্রস্তাবটি পুরোপুরি বাতিল না হওয়া পর্যন্ত এবং ভবিষ্যতে ফিফা আর কখনো তাদের নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা বা প্রতিযোগিতায় বেসরকারি মালিকানার সুযোগ দেবে না—এমন বাধ্যতামূলক নিশ্চয়তা না পাওয়া পর্যন্ত কোনো উয়েফাভুক্ত জাতীয় দল ফিফার কোনো প্রতিযোগিতায় অংশ নেবে না।
ইনফান্তিনোর প্রস্তাব অনুযায়ী, দুই হাজার কোটি ডলারের একটি নতুন সহযোগী প্রতিষ্ঠান গঠন করবে ফিফা, যা বিশ্বকাপ ও অন্যান্য টুর্নামেন্ট পরিচালনা করবে। প্রতিষ্ঠানটির সংখ্যালঘু মালিকানা বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের কাছে বিক্রি করা হবে।
প্রস্তাবটি ১৯ সেপ্টেম্বরের মধ্যে অনুমোদন করলে ফিফার ২১১টি সদস্য দেশকে ২০২৭ সালের ১ জানুয়ারি থেকে মোট এক হাজার কোটি ডলারের একটি তহবিল থেকে প্রতিটি দেশকে চার কোটি ডলার করে দেয়ার প্রস্তাব দিয়েছেন ইনফান্তিনো।
কিন্তু প্রস্তাবটি প্রত্যাখ্যাত হলে সদস্য দেশগুলো আগের ঘোষিত ২৭০ কোটি ডলারের তহবিল থেকে প্রায় এক কোটি ডলার করে পাবে।
উয়েফা বলেছে, এটি শুধু নেতৃত্বের গভীর ব্যর্থতাই নয়, বিশ্ব ফুটবলের অভিভাবক হিসেবে ফিফার দায়িত্ব থেকেও সরে দাঁড়ানোর শামিল। একবার বেসরকারি বিনিয়োগকারীরা ফিফার প্রতিযোগিতায় মালিকানার অংশ পেয়ে গেলে ফুটবল চিরতরে বদলে যাবে। তখন বাণিজ্যিক মুনাফা নিশ্চিত করা স্থায়ী বাধ্যবাধকতা হয়ে দাঁড়াবে এবং বিনিয়োগকারীদের প্রত্যাশা প্রতিদিনের চাপ তৈরি করবে।
উয়েফার অভিজাত ক্লাব প্রতিযোগিতাগুলো থেকেই শুধু ২০২৪-২৫ মৌসুমে ৪৪০ কোটি ইউরো (প্রায় ৫০০ কোটি ডলার) আয় হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরেই ফুটবলের অর্থ ও ক্ষমতা নিয়ে উয়েফা ও ফিফার মধ্যে টানাপোড়েন চলছে।
এদিকে এএফসি সভাপতি শেখ সালমান বিন ইব্রাহিম আল-খলিফা বলেন, এই প্রস্তাব প্রকাশের আগে কোনো পর্যায়েই ফিফা তাদের সঙ্গে পরামর্শ করেনি। এছাড়া প্রস্তাবটিকে নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা, আর্থিক ও আইনি বিশ্লেষণেরও অভাব রয়েছে, যা ‘সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য’।
বৃহস্পতিবার কনকাকাফের বৈঠকে সদস্য দেশগুলোর ফুটবল সংস্থার প্রধানরা প্রস্তাবটি নিয়ে ‘গভীর উদ্বেগ’ প্রকাশ করেন। তাদের অভিযোগ, যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়নি, সিদ্ধান্ত নেয়ার জন্য সময় খুব কম দেয়া হয়েছে এবং ফিফার সংশ্লিষ্ট নীতিনির্ধারণী সংস্থাগুলোর কোনো পর্যালোচনা বা অনুমোদনও নেয়া হয়নি।
আফ্রিকান ফুটবল কনফেডারেশনের নির্বাহী কমিটি আগামী সপ্তাহে প্রস্তাবটি নিয়ে বৈঠক করবে। অন্যদিকে ১১টি পূর্ণ সদস্য দেশের ওশেনিয়া ফুটবল কনফেডারেশন আগামী মাসে এ বিষয়ে আলোচনা করবে। দক্ষিণ আমেরিকার ফুটবল সংস্থা কনমেবল এখনো প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করেনি।