
২০২৬
30 বার পড়া হয়েছে
সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার গুপিরপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. খুরশিদ জিন্নাহর বিরুদ্ধে নারী শিক্ষিকাদের সঙ্গে অশালীন আচরণ, অনৈতিক কর্মকাণ্ড, ক্ষমতার অপব্যহারসহ নানা অভিযোগ উঠেছে।
এ বিষয়ে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার বরাবর গুপিরপাড়া গ্রামের শতাধিক অভিভাবক ও সাধারণ মানুষ স্বাক্ষরিত একটি লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়। অভিযোগে প্রধান শিক্ষক খুরশিদ জিন্নাহর বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়মের বিষয়গুলো উল্লেখ করা হয়।
অভিযোগে জানা যায়, সম্প্রতি ওই বিদ্যালয়ের একজন ছাত্র হঠাৎ অসুস্থ্য হয়ে বমি করতে থাকলে, একজন শিক্ষিকা এগিয়ে এসে তাকে সুস্থ্য করার চেষ্টা করেন। এটা দেখে প্রধান শিক্ষক খুরশিদ জিন্নাহ ওই শিক্ষিকার ওপর ক্ষিপ্ত হয় এবং তাকে মারতে উদ্যত হন।
লিখিত অভিযোগ আরও উল্লেখ করা হয়, নারী শিক্ষিতাদের সঙ্গে প্রধান শিক্ষক খুরশিদ জিন্নাহ বিভিন্ন সময়ে অশ্লীল অঙ্গভঙ্গি করেন এবং কুরুচিপূর্ণ প্রস্তাব দেন।
অভিযোগে প্রধান শিক্ষক খুরশিদ জিন্নাহর দাম্ভিকতাপূর্ণ আচরণ সম্পর্কে উল্লেখ করা হয়, তিনি কোন আইন ও বা প্রশাসনকে তোয়াক্কা করেন না। “কোন অফিসার বা বিভাগ আমার কিছুই করতে পারবে না” দাম্ভিকতার সঙ্গে এমন কথা বলে বেড়ান তিনি। তার অনিয়মের প্রতিবাদ করলে বলেন, আমি সকল অফিসারকে পকেটে নিয়ে ঘুরি। তার এমন আচরণে অতিষ্ঠ শিক্ষিকা ও অভিভাবকরা কোন কিছুই বলার সাহস পান না।
ওই প্রধান শিক্ষক রাজনৈতিক ক্ষমতার অপব্যবহার করে পিয়নের সাথে যোগসাজসে বিভিন্ন অনিয়ম দুর্নীতি করে যাচ্ছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
এলাকাবাসী ও বিদ্যালয়ের অভিভাবকরা অবিলম্বে এই প্রধান শিক্ষককে অপসারণ ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছে।
সরেজমিনে গেলে কথা হয়ে গ্রামের বেশ কয়েকজন ব্যক্তির সঙ্গে। তারা বলেন, প্রধান শিক্ষক নারী শিক্ষিকাদের সবসময়ই অশালীন আচরণ করেন। ভয়ে তার বিরুদ্ধে কথা বলার সাহস পায় না।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় এক গৃহবধু বলেন, সেদিন এক ছাত্র অসুস্থ্য হয়ে পড়েছিল। ক্লাস ফেলে এসে তাকে সুস্থ্য করায় এক শিক্ষিকার সঙ্গে খুব খারাপ ব্যবহার করে। প্রধান শিক্ষক সবসময়ই শিক্ষিকাদের সঙ্গে বাজে ব্যবহার করে বলে জানান তিনি।
এর আগে ২০১৪ সালে সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার জামুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক থাকাকালে খুরশিদ জিন্নাহর বিরুদ্ধে সাব-ক্লাস্টার প্রশিক্ষণের প্রশিক্ষককে মারার চেষ্টা ও সহকারী শিক্ষা অফিসারকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজের অভিযোগ ওঠে।
এ বিষয়ে ওই ক্লাস্টারের ২৭ জন শিক্ষক বাদী হয়ে শিক্ষক খুরশিদ জিন্নাহ বিরুদ্ধে উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর লিখিত অভিযোগ করেন।
এসব বিষয়ে জানতে চাইলে প্রধান শিক্ষক খরশিদ জিন্নাহ মিডিয়ার সঙ্গে কোন প্রকার কথা বলতে রাজি হননি। তিনি বলেন, কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ জানাবে।
সিরাজগঞ্জ জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. সাহাব উদ্দিন বলেন, অভিযোগটি আমরা পেয়েছি। এর আগে ওই বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষিকার বিরুদ্ধেও প্রধান শিক্ষকের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়। উভয় অভিযোগ তদন্তের জন্য সদর উপজেলা শিক্ষা অফিসারকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।