শুক্রবার, ৩১শে জুলাই,
২০২৬

  • আন্তর্জাতিক

  • গাজা নিরস্ত্রীকরণ চুক্তিতে সম্মত হামাস


    সোনারদেশ ২৪ ডেস্ক


    শুক্রবার, ৩১শে জুলাই,

    ২০২৬

    /

    5 বার পড়া হয়েছে


    a ইসরায়েলি হামলায় বিধ্বস্ত গাজা | ছবি সংগৃহীত

    সোনারদেশ২৪: ডেস্কঃ


    হামাসের আলোচক দলের সদস্য গাজি হামাদ বলেন, আলোচনাটি অত্যন্ত কঠিন ছিল। আমরা এমন একটি সমঝোতায় পৌঁছানোর চেষ্টা করেছি, যা বাস্তবসম্মত ও সর্বোত্তম

    গাজায় নিরস্ত্রীকরণ পরিকল্পনা নিয়ে হামাস ও অন্যান্য ফিলিস্তিনি গোষ্ঠী একটি নথিতে সম্মত হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বিষয়টিকে শান্তি ও নিরাপত্তার পথে ‘একটি ঐতিহাসিক পদক্ষেপ’ বলে মন্তব্য করেছেন। খবর আল জাজিরা।



    গতকালের ওই চুক্তির একটি অনুলিপি পেয়েছে কাতারভিত্তিক বার্তা সংস্থাটি। এতে বলা হয়েছে, নিরস্ত্রীকরণের বিস্তারিত রোডম্যাপ ১৪ দিনের মধ্যে প্রস্তুত করতে হবে। তবে আন্তর্জাতিক যাচাই-বাছাইকারী সংস্থার অনুমোদন এবং সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সম্মতিতে সময় বাড়ানো যেতে পারে।



    হামাসের আলোচক দলের সদস্য গাজি হামাদ বলেন, ‘আলোচনাটি অত্যন্ত কঠিন ছিল। আমরা এমন একটি সমঝোতায় পৌঁছানোর চেষ্টা করেছি, যা বাস্তবসম্মত ও সর্বোত্তম।’

    তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, ইসরায়েল যদি নিজেদের দায়বদ্ধ না থাকে, তাহলে হামাসও চুক্তির কোনো অংশ বাস্তবায়ন করবে না। তার ভাষ্য, নিরস্ত্রীকরণ নির্ভর করবে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার এবং গাজা পুনর্গঠনের অগ্রগতির ওপর।

    এ বিষয়ে ইসরায়েলের কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

    সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্টে এই চুক্তিকে ‘বোর্ড অব পিস’-এর সাফল্য হিসেবে তুলে ধরেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গাজার প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনা তদারকির জন্য সংস্থাটি গঠন করা হয়েছে।

    তিনি লেখেন, ‘এ চুক্তি গাজায় নতুন একটি ফিলিস্তিনি সরকার প্রতিষ্ঠার পথে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। এই সরকার বোর্ড অব পিসের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করবে এবং ফিলিস্তিনি জনগণের কল্যাণে কাজ করবে। একই সঙ্গে গাজা আর সন্ত্রাসী হামলার ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহৃত না হওয়ায় ইসরায়েলও প্রাপ্য নিরাপত্তা পাবে।’

    চুক্তিতে বলা হয়েছে, নিরস্ত্রীকরণ প্রক্রিয়া শুরু হবে গাজায় একটি ন্যাশনাল কমিটি এবং ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স প্রবেশের মাধ্যমে।

    এরপর ন্যাশনাল কমিটি অস্ত্রের তালিকা তৈরি ও সংরক্ষণ তদারকি করবে। আন্তর্জাতিক যাচাই-বাছাই কমিটি পুরো প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করবে এবং ফিলিস্তিনি গোষ্ঠীগুলোও এতে অংশ নেবে।

    চুক্তিতে আরো বলা হয়েছে, নিরস্ত্রীকরণ প্রক্রিয়া ইসরায়েলি সেনাদের ধাপে ধাপে গাজা থেকে প্রত্যাহারের সঙ্গে যুক্ত থাকবে। কোনো অস্ত্র ইসরায়েল বা অন্য কোনো ফিলিস্তিনি নয় এমন সংস্থার কাছে হস্তান্তর করা হবে না। গাজায় অস্ত্রের একমাত্র নিয়ন্ত্রণ থাকবে ন্যাশনাল কমিটির হাতে।

    বোর্ড অব পিসের এক কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন, হামাস ও অন্যান্য সশস্ত্র গোষ্ঠী তাদের অস্ত্র গাজার প্রশাসন পরিচালনার জন্য গঠিত ন্যাশনাল কমিটির কাছে হস্তান্তর করবে।

    তিনি জানান, প্রথমে পুলিশের হাতে থাকা অস্ত্র হস্তান্তর করা হবে। এরপর ধাপে ধাপে ভারি অস্ত্র নিষ্ক্রিয় করা হবে। পরিকল্পনা অনুযায়ী গাজায় সব ধরনের সামরিক কার্যক্রম বন্ধ করতে হবে, যদিও পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে সময় লাগবে।

    ট্রাম্প বলেন, ধাপে ধাপে নিরস্ত্রীকরণ তার মধ্যস্থতায় গত অক্টোবরে হওয়া যুদ্ধবিরতি চুক্তির অংশ। ওই চুক্তির মাধ্যমে গাজায় ইসরায়েলের যুদ্ধের অবসান ঘটে। এই যুদ্ধে ৭৩ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে এবং পুরো গাজা ব্যাপকভাবে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে।

    চুক্তি কার্যকর হওয়ার পরও ইসরায়েল বারবার যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করেছে। এ সময়ে ১ হাজার ২০০–এর বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে। পাশাপাশি ইসরায়েল আরো এলাকা দখল করেছে এবং গাজায় মানুষ ও পণ্য চলাচলের ওপর কঠোর বিধিনিষেধ বজায় রেখেছে। গতকালও ইসরায়েলি হামলায় দুই শিশুসহ ছয়জন ফিলিস্তিনি নিহত হন।

    গত সপ্তাহের শেষ দিক থেকে হামাস নেতারা মিসরের রাজধানী কায়রোতে অবস্থান করছেন। সেখানে তারা মিসর, কাতার ও তুরস্কের মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে যুদ্ধবিরতির পরবর্তী ধাপ নিয়ে আলোচনা করছেন।

    হামাসের এক নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কর্মকর্তা গতকাল বলেন, আলোচনা ‘ইতিবাচক’ এবং ‘অগ্রগতি হচ্ছে’।

    মিসরের রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদমাধ্যম আল-কাহেরা নিউজ জানিয়েছে, যুদ্ধবিরতির দ্বিতীয় ধাপ বাস্তবায়নের অঙ্গীকার নিশ্চিত করতে শিগগিরই কায়রোয় নতুন দফার আলোচনা হবে। এতে মিসর, যুক্তরাষ্ট্র, কাতার ও তুরস্কের মধ্যস্থতাকারীরা অংশ নেবেন।

    সংবাদমাধ্যমটি আরো জানায়, হামাস ও অন্যান্য ফিলিস্তিনি গোষ্ঠী আনুষ্ঠানিকভাবে প্রস্তাবটি অনুমোদন করেছে। এতে আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েন এবং ন্যাশনাল কমিটির কার্যক্রম শুরুর বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

    তবে গাজার আরেক সশস্ত্র সংগঠন প্যালেস্টিনিয়ান ইসলামিক জিহাদ বলেছে, গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে ইসরায়েলের কোনো চূড়ান্ত চুক্তি হয়েছে—এমন খবর সঠিক নয়। একই সঙ্গে তারা প্রচারিত চুক্তির ভাষা নিয়ে আপত্তির কথাও জানিয়েছে।

    গত ৬ জুলাই হামাস প্রায় দুই দশক ধরে গাজা পরিচালনাকারী তাদের প্রশাসনিক কাঠামো বিলুপ্ত করার ঘোষণা দেয়।


    সংবাদটি শেয়ার করুন


    সম্পাদক ও প্রকাশকঃ জিয়াউল হক
    নির্বাহী সম্পাদকঃ মোস্তাক আহম্মেদ নওশাদ


    যোগাযোগ- মুজিব সড়ক, কমিউনিটি হাসপাতাল ৫ তলা, সিরাজগঞ্জ
    ইমেইল- sonardesh24.corr@gmail.com
    মোবাইল : 01324 977 175, 01716-076444




    Copyright © 2026 - All right reserved by Sonar Desh 24 Ltd