
২০২৬
4 বার পড়া হয়েছে
ছবি: সংগৃহীতউচ্চ মূল্যস্ফীতির মধ্যেই নীতি সুদহার কমাল কেন্দ্রীয় ব্যাংক। প্রধান নীতি সুদহার রেপোর সুদহার ৫০ বেসিস পয়েন্ট কমিয়ে সাড়ে ৯ শতাংশে নামানো হয়েছে। ২০২৪ সালের অক্টোবর থেকে যা ১০ শতাংশে অপরিবর্তিত ছিলো। আর আন্তঃব্যাংক ধারের ক্ষেত্রে ব্যবহারিত স্ট্যান্ডিং লেন্ডিং ফ্যাসিলিটি (এসএলএফ) রেট বিদ্যমান সাড়ে ১১ থেকে কমিয়ে ১১ শতাংশে নামানো হয়েছে।
তবে ব্যাংকগুলো কেন্দ্রীয় ব্যাংকে টাকা রাখার ক্ষেত্রে স্ট্যান্ডিং ডিপোজিট ফ্যাসিলিটি (এসডিএফ) সুদহার সাড়ে ৭ শতাংশে অপরিবর্তিত রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংক এমন এক সময়ে নীতিসুদহার কমানোর ঘোষণা দিয়েছে যখন বেশিরভাগ জিনিসের দর চড়া। সর্বশেষ গত জুন মাসের গড় মূল্যস্ফীতি বেড়ে ৮ দশমিক ৬৮ শতাংশে উঠেছে। আগের মাস শেষে যা ৮ দশমিক ৬৩ শতাংশ ছিলো। এর আগে গত এপ্রিলে ছিলো ৮ দশমিক ৫৯ শতাংশ। চলতি অর্থবছর শেষে সরকার যেখানে মূল্যস্ফীতি ৭ দশমিক ৫০ শতাংশে নামানোর লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করেছে।
বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর গত ফেব্রুয়ারিতে আগের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুরকে সরিয়ে মো. মোস্তাকুর রহমান গভর্নর নিয়োগ দেয়। তিনি যোগদান করেই নীতি সুদহার কমানোর লক্ষ্যে মুদ্রানীতি কমিটির বৈঠক ডাকেন। এর মধ্যে ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলার পর আর সেই বৈঠক হয়নি।
এরপর গত ৩০ জুন চলতি অর্থবছরের প্রথমার্ধের জন্য সংকোচনমূলক মুদ্রানীতি ঘোষণা করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। সেখানে সুদহার না কমানোর যুক্তি হিসেবে উচ্চ মূল্যস্ফীতির গতি ধারা ও বৈশ্বিক পরিস্থিতির কথা তুলে ধরা হয়।
বাংলাদেশ ব্যাংক সুদহার কমানোর বিষয়ে বৃহস্পতিবারের (৩০ জুলাই) প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে– মুদ্রানীতি কমিটি অভ্যন্তরীণ ও বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতি এবং দেশীয় বিনিয়োগ, বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবাহ, কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির শ্লথ গতিধারাসহ আন্তর্জাতিক লেনদেন ভারসাম্য সংক্রান্ত বিষয়ে বিশদ আলোচনা করে নীতি সুদহার কমানোর এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
কেন্দ্রীয ব্যাংকের সভাকক্ষে মুদ্রানীতি কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয় গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমানের সভাপতিত্বে। বৈঠকে কমিটির সদস্য ও ডেপুটি গভর্নর ড. মো. হাবিবুর রহমান, অর্থনীতিবিদ ড. মুস্তফা কামাল মুজেরী, বিআইডিএসের মহাপরিচালক ড. এ কে এনামুল হক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের চেয়ারম্যানন ড. ফিরদৌসি নাহার, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. মোহাম্মদ আকতার হোসেন এবং নির্বাহী পরিচালক ড. ইমাম আবু সাঈদ উপস্থিত ছিলেন।