তথ্য ও প্রযুক্তি ডেস্কঃ সোনারদেশ২৪:

গ্যালাক্সি নোট ৭ বিস্ফোরণের কলঙ্কজনক অধ্যায় পেরিয়ে সামনের দিকে যখন এগিয়ে চলেছে স্যামসাং, তখন এবার অন্য আরেকটি গ্যালাক্সি ফোন বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটল।

ক্যালিফোর্নিয়ার বাসিন্দা কেনজি ইয়ানাসে দাবি করেন, সম্প্রতি তার গ্যালাক্সি এ২০ই ফোন আতশবাজির মতো ফুলকি ছড়াতে শুরু করে এবং বিস্ফোরণে এতে আগুন ধরে যায়। তিনি ক্ষতিগ্রস্ত ফোনের একটি ভিডিও ফুটেজ শেয়ার করেছেন, যা ২০১৬ সালে বিস্ফোরণে ক্ষতিগ্রস্ত নোট ৭ ভিডিও ফুটেজগুলোর মতোই পরিচিত দৃশ্য।

কেনজি বলেন, ‘ফোনটি ব্যবহারের সময় হঠাৎ এর স্ক্রিন চলে যায়। ব্যাক কভার খুলে ব্যাটারি দেখার সময় হাত থাকা অবস্থাতেই ব্যাটারি থেকে আতশবাজির মতো ফুলকি ছড়াতে শুরু করে এবং আগুন ধরে যায়।’

এ ঘটনায় স্যামসাং একটি বিবৃতিতে বলেছে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে গ্যালাক্সি এ সিরিজের ফোনগুলো যথেষ্ট গুণগতমান সম্পন্ন এবং ‍সুরক্ষিত। ব্যতিক্রম ঘটনা তদন্তে ইতিমধ্যে তারা ফোনটির ব্যবহারকারীর সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন।

কেনজি বলেন, ‘এটি খুব ভীতিজনক ছিল। পুরো ঘর কালো ধোঁয়ায় ভরে যায় এবং বিষাক্ত গন্ধ ছড়ায়। একটি প্যানে পানি দিয়ে ফোনটি রাখা হলেও আগুন বাড়তে থাকে। আতঙ্কিত হয়ে বাইরে নিয়ে রাখি কিন্তু তখনও ফোনে আগুন জ্বলতে থাকে। আগুন নেভাতে ঢাকনা দিয়ে প্যান ঢেকে দিতে হয়েছে। কারণ এর থেকে দাবানলের আগুন বা এ জাতীয় কিছু ঘটুক তা চাইনি।’

তিনি আরো বলেন, ‘আমি এমন একটি অঞ্চলে থাকি যেখানে দাবানল খুব কমন। ছোট একটি অগ্নিকান্ডে প্রায় এক হাজার একর বা আরো বেশি জ্বলতে পারে। সুতরাং এ ঘটনাটি ভয়াবহ।’

কেনজি বিশ্বাস করেন, এ ঘটনার জন্য ফোনের ব্যাটারি দায়ী। কারণ মাদারবোর্ডে তেমন কোনো ক্ষতির চিহ্ন দেখা যায়নি। কেবল ব্যাটারির অংশটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

বিস্ফোরিত ফোনটি পরীক্ষার জন্য স্যামসাংয়ের প্রতিনিধিরা তার সঙ্গে যোগাযোগ করেছে এবং অভিযোগটি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছে বলে জানান।

এ ঘটনায় তিনি মানসিকভাবে এতোটাই বিপর্যস্ত হয়েছেন যে, আরো কখনো স্যামসাংয়ের ফোন কিনবেন না বলে প্রতিজ্ঞা করেছেন।

কেনজি বলেন, ‘আমি জীবনে আর কখনো স্যামসাং ফোন রাখব না। ছোটবেলায় আমার পরিবারকে আগুনে হারিয়েছিলাম, তাই আগুনের প্রতি আমার পোস্ট-ট্রোমাটিক স্ট্রেস ডিসঅর্ডার (পিটিএসডি) রয়েছে। প্রতিবার বাসা থেকে বের হওয়ার আগে দুই-তিনবার চুলা পরীক্ষা করি। বর্তমান ঘটনায় আমি চিন্তিত কারণ এটি একটি জনপ্রিয় ফোন এবং এমন ঘটনা আরো ঘটলে তা মানুষের মারাত্মক ক্ষতির কারণ হতে পারে।’

২০১৯ সালে গ্যালাক্সি এ২০ সিরিজের ফোন বাজারে নিয়ে আসে স্যামসাং। তবে এ সিরিজের ফোনে এর আগে কখনো বিস্ফোণের ঘটনা শোনা যায়নি।

২০১৬ সালে গ্যালাক্সি ৭ সেভেনের ব্যাটারিতে আগুন ধরার অভিযোগে স্যামসাংকে বিপুল ক্ষতির মুখে পরতে হয়। তাদের বিক্রি পরে যায় এবং ২৫ লাখ ডিভাইস ফেরত নিতে হয়। সে অবস্থা থেকে তাদের ঘুরে দাঁড়াতে বেশ বেগ পেতে হয়।

তথ্যসূত্র: ডেইলি মেইল