ক্রীড়া ডেস্কঃ সোনারদেশ২৪:

গতরাতে এস্পানিওলকে যদি হারিয়ে থাকে রিয়াল মাদ্রিদ, তাহলে এখন লা লিগায় এককভাবে শীর্ষে তারা। ম্যাচটি জিতলে ৩২ ম্যাচে তাদের পয়েন্ট দাঁড়িয়েছে ৭১, যা সমান ম্যাচ খেলা বার্সেলোনার চেয়ে ২ পয়েন্ট বেশি। এই অবস্থা হয়েছে বার্সেলোনার নিজেদেরই দোষে। আগের রাতে সেলÍা ভিগোর মাঠে খেলতে গিয়ে লুইস সুয়ারেজ দলকে দুবার এগিয়ে নিলেও, শেষ পর্যন্ত ড্র (২-২) করে ফিরতে হয়েছে তাদের। হারিয়েছে মূল্যবান দুটি পয়েন্ট। ১৯ জুন সেভিয়ার মাঠে গিয়ে গোলশূন্য ড্র করেছিল। তারপর এই ড্র। দুই ম্যাচে ৪ পয়েন্ট নষ্ট করে লা লিগা শিরোপা ধরে রাখার দৌড়ে কাতালানরা পিছিয়ে পড়ল বেশ খানিকটা।

বার্সেলোনার খেলা বাকি আর-আতলেতিকো মাদ্রিদ, ভিয়ারিয়াল, এস্পানিওল, ভায়াদোলিদ, ওসাসুনা আর আলাভিসের সঙ্গে। রিয়াল খেলবে গেতাফে, অ্যাতলেতিক বিলবাও, আলাভেস, গ্রানাদা, ভিয়ারিয়াল ও লেগানেসের সঙ্গে।

নভেম্বরে ন্যু ক্যাম্পে লিগে প্রথম দেখায় লিওনেল মেসির হ্যাটট্রিকে সেল্টাকে ৪-১ গোলে হারিয়েছিল বার্সেলোনা। তবে এই দলটির মাঠে গেলে কী যেন হয় কাতালানদের। গত চারটি লিগে এই মাঠে গিয়ে তিনবারই হেরেছে, ড্র একটি। সেল্টায় বার্সায় সবশেষ জিতেছিল ২০১৪-১৫ মৌসুমে।

শনিবার বার্সেলোনা এগিয়ে যায় ম্যাচের ১৯তম মিনিটে। প্রায় ২২ গজ দূরে ফ্রি-কিক পায় বার্সেলোনা। নিজের প্রিয় জায়গা পেয়েও সরাসরি শট না নিয়ে ছোট বক্সের ডান দিকে ফাঁকায় থাকা সুয়ারেজের উদ্দেশে দারুণ ক্রস বাড়ান মেসি। জায়গায় দাঁড়িয়ে বাধা ছাড়াই হেডে বল জালে পাঠান উরুগুয়ের স্ট্রাইকার।

৬৯৯ গোল নিয়ে মাইলফলকের দুয়ারে দাঁড়িয়ে মেসির কেটে গেছে দুটি ম্যাচ। সুযোগ এসেছিল ৪০তম মিনিটে। ডান দিক থেকে বল পায়ে একটুখানি আড়াআড়ি ছুটে ডি-বক্সের ঠিক বাইরে থেকে ট্রেডমার্ক শটে মেসি গোল করেছেন ভূরিভূরি, এবার পারলেন না। ক্রসবারের ওপর দিয়ে উড়ে গেল বল।

দ্বিতীয়ার্ধের পঞ্চম মিনিটে মাঝমাঠে ইভান রাকিতিচের ভুল পাসে বল ধরে সামনে থ্রু পাস বাড়ান আসপাস। বল ধরে ছুটে ডি-বক্সে ঢুকে বাঁ দিকে পাস দেন ইয়োকুসলু। তাকে ঠেকাতে একটু এগিয়ে গিয়েছিলেন বার্সা গোলরক্ষক স্টেগেন। ফাঁকায় বল পেয়ে অনায়াসে জালে ঠেলে দেন রুশ ফরোয়ার্ড স্মোলোভ। করোনায় অনাকাক্সিক্ষত বিরতির পর লিগ শুরুর পর বার্সেলোনার জালে এটাই প্রথম গোল।

৬৭তম মিনিটে আবারও মেসি-সুয়ারেজ জুটির মিলিত প্রচেষ্টায় এগিয়ে যায় বার্সেলোনা। ডি-বক্সে জটলার মধ্যে অধিনায়ক কোনোমতে আলতো করে বল বাড়ান সুয়ারেজকে। বাঁ পায়ের কোনাকুনি শটে আসরে নিজের ত্রয়োদশ গোলটি করেন তিনি।

কিন্তু নির্ধারিত সময়ের ২ মিনিট আগে আবার সমতা ফেরায় সেল্টা। দুর্দান্ত এক ফ্রি-কিকে ঠিকানা খুঁজে নেন স্প্যানিশ ফরোয়ার্ড আসপাস।

যোগ করা পাঁচ মিনিট সময়ের শেষ কয়েক সেকেন্ড আগে বার্সেলোনার ড্রয়ের স্বস্তিও কেড়ে নিতে বসেছিল স্বাগতিকরা। কিন্তু স্প্যানিশ ফরোয়ার্ড নলিতো স্টেগেন বরাবার শট নিলে হার থেকে বাচে বার্সেলোনা।

সুযোগ পেয়েও বারবার সেগুলো নষ্ট হওয়ায় হতাশ বার্সা কোচ কিকি সেতিয়েন, ‘প্রথমার্ধে আমরা যে আধিপত্য ধরে রেখে খেলেছি, ম্যাচ জয়ের জন্য সেটাই যথেষ্ট হওয়ার কথা, কিন্তু গোল করা আমাদের জন্য কঠিন হয়ে উঠছে। অবশ্য গোল করার বিষয়টা কখনো কখনো ভাগ্যের ব্যাপারও।’