সোনারদেশ২৪: ডেস্কঃ

করোনা ভাইরাস মহামারির প্রার্দুভাব অব্যাহত থাকলে আগামী সেপ্টেম্বর পর্যন্ত স্কুল-কলেজসহ সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকবে বলে জানিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। অথচ একটি মহল উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলতে চাপ সৃষ্টি করছে। মহলটি গুজব ছড়াচ্ছে দ্রুতই খুলছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান।

করোনা মহামারি থেকে চার কোটি শিক্ষার্থীকে রক্ষায় গত ১৭ মার্চ থেকে সারাদেশে সব ধরনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনাতেই শিক্ষা মন্ত্রণালয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধের ঘোষণা দেয়।

মহামারির প্রকোপ বাড়তে থাকায় সাধারণ ছুটি বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছুটিও বাড়াতে থাকে সরকার। সবশেষ আগামী ১৬ মে পর্যন্ত সাধারণ ছুটি বাড়ানোর পর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছুটি রোজা ও ঈদের ছুটি মিলিয়ে ৩০ মে পর্যন্ত নেওয়া হয়।

আর শিক্ষার্থীদের যাতে পাঠক্রমে ধারাবাহিকতা থাকে সেজন্য প্রাক-প্রাথমিক থেকে শুরু করে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত সব স্তরের শিক্ষার্থীদের টেলিভিশন এবং অনলাইনে শিক্ষা কার্যক্রম চালু রেখেছে সরকার। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতেও অনলাইনে একাডেমিক কার্যক্রম চালাতে একটি নীতিমালা তৈরি করেছে ইউজিসি।

সংশ্লিষ্টরা জানান, সরকারের এত উদ্যোগের মধ্যেও একটি অসাধু মহল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে কোমলমতি শিক্ষার্থীসহ শিক্ষা পরিবারের সবাইকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলতে চাচ্ছে। ওই মহলটি বিভিন্ন ফেসবুক গ্রুপে বার্তা পাঠাচ্ছে যে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার সিদ্ধান্ত হয়েছে এবং ১৫ জুন থেকে এইচএসসি পরীক্ষাও শুরু হবে।

মূলত কোচিং বাণিজ্যের সঙ্গে যুক্তরাই এসব চাপ সৃষ্টি এবং গুজব ছড়াচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। এজন্য তারা কিছু অখ্যাত অনলাইন পোর্টালে সংবাদ পরিবেশন করছেন। এ নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি করতে তারা তৎপর।

সম্প্রতি একটি গুজব ছড়িয়ে পড়ে যে, ঢাকার একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের এক শিক্ষক ছাত্রদের ক্যাপ্টেনকে বলেছেন ১৫ জুন থেকে এইচএসসি পরীক্ষার রুটিন তৈরি করতে বোর্ডকে শিক্ষামন্ত্রী নির্দেশ দিয়েছে। এছাড়াও গুজব ছড়ানো হচ্ছে যে জুনের ১০ তারিখ থেকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়া হবে।

কোমলমতি শিশু শিক্ষার্থীসহ চার কোটি শিক্ষার্থীর নিরাপত্তার কথা বিবেচনায় নিয়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধের পরও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জানিয়েছেন, করোনা ভাইরাস মহামারির প্রার্দুভাব অব্যাহত থাকলে আগামী সেপ্টেম্বর পর্যন্ত স্কুল-কলেজসহ সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকবে।

করোনা ভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধ ও সংকট মোকাবিলার কার্যক্রম সমন্বয়ে সোমবার (২৭ এপ্রিল) সকালে গণভবন থেকে রাজশাহী বিভাগের জেলার কর্মকর্তাদের সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সে মতবিনিময়কালে একথা জানান প্রধানমন্ত্রী।

শেখ হাসিনা বলেন, স্কুল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এখন একটাও খুলবে না। অন্তত সেপ্টেম্বর পর্যন্ত স্কুল-কলেজ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সবই বন্ধ থাকবে যদি করোনা ভাইরাসের প্রার্দুভাব অব্যাহত থাকে। যখন এটা থামবে তখন আমরা খুলবো।

জানতে চাইলে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. মাহবুব হোসেন বাংলানিউজকে বলেন, রমজান এবং ঈদের ছুটির সঙ্গে এই ছুটিটা মিলিয়ে নিয়েছি। এরপর অবস্থা দেখে সিদ্ধান্ত নেবো।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার কোনো সিদ্ধান্ত হয়েছে কিনা- জানতে চাইলে সচিব বলেন, খোলার কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।

গত ৬ মে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. সৈয়দ মো. গোরাম ফারুক স্বাক্ষরিত অফিস আদেশে বলা হয়, করোনা ভাইরাসের (কোভিড-১৯)বিস্তার রোধকল্পে এবং শিক্ষার্থীদের সুরক্ষার লক্ষ্যে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের নির্দেশে সব ধরনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান (স্কুল-কলেজ) বন্ধের সময়সীমা আগামী ৩০ মে পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে।

করোনা পরিস্থিতি না যাওয়া পর্যন্ত কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা উচিত হবে না বলে মনে করেন অভিভাবক ঐক্য ফোরামের সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউল কবির দুলু।

তিনি বাংলানিউজকে বলেন, করোনা ভাইরাস মহামারি আকারে ছড়িয়ে যাচ্ছে। এই পরিস্থিতি কমে না আসা পর্যন্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা ঠিক হবে না। আমাদের সন্তানকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলতে পারি না।

তিনি বলেন, সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করা শ্রেণিকক্ষে সম্ভব হবে না। কারণ ক্লাসরুম বড় না, সেখানে শিক্ষার্থীদের মধ্যে দূরত্ব বজায় রাখা যাবে না। আমরা সরকারের কাছে অনুরোধ করছি পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান যেন না খোলা হয়।

সরকারের কাছে আরো অনুরোধ জানিয়ে এই অভিভাবক নেতা বলেন, ডিসেম্বর পর্যন্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে টিউশন ফি মওকুফ করতে হবে। এবছর শিক্ষার্থীরা ক্লাস করতে পারেনি। বর্তমানে করোনা পরিস্থিতে ৮০ শতাংশ অভিভাবক বেকায়দায় আছেন।

অন্য খাতের মতো শিক্ষাখাতেও প্রণোদনা দিয়ে শিক্ষকদের টিকিয়ে রাখতে হবে বলে মনে করেন অভিভাবক ঐক্য ফোরামের সভাপতি দুলু।

সবশেষ সিদ্ধান্তে আগামী ১৬ মে পর্যন্ত সাধারণ ছুটি বাড়ানো হয়। আর এরই মধ্যে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বার্ষিক ক্যালেন্ডারে ছুটি শুরু হয়েছে ২৫ এপ্রিল।

করোনায় ছুটির কারণে প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রথম সাময়িক পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। এসএসসির ফলও পিছিয়ে যাচ্ছে, সঙ্গে এইচএসসি পরীক্ষা নির্ধারত সূচিতে শুরু করা যায়নি।

২০২০ শিক্ষাবর্ষে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ছুটির তালিকা ও শিক্ষাপঞ্জিতে সরকারি মাধ্যমিক ও নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে পবিত্র রমজান, মে দিবস, বুদ্ধ পূর্ণিমা, বৈশাখি পূর্ণিমা, শব-ই-কদর, জুমাতুল বিদা ও ঈদ-উল-ফিতর উপলক্ষে ২৫ এপ্রিল থেকে ৩০ মে ছুটি রয়েছে।

আর এসব দিবস ও উৎসব উপলক্ষে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ক্যালেন্ডারে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ছুটি রয়েছে ২৫ এপ্রিল হতে ২৮ মে পর্যন্ত।